দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষা, হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগ আর কোটি মানুষের প্রাণের দাবি অবশেষে আজ বাস্তবে রূপ নিল! স্বৈরাচারের পতন শেষে রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সিংহাসনে বসতে যাচ্ছেন জননেতা তারেক রহমান। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া আজ শুধু ধানের শীষের জয়গান। কীভাবে বিএনপি ২১০টি আসনে জয়লাভ করে এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়ল?

"কথায় আছে, 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে; আর গণতন্ত্র সুন্দর কেবল জনগণের ভোটে।' দীর্ঘ দেড় দশকের অন্ধকার কাটিয়ে আজ বাংলাদেশ তার আসল রূপ ফিরে পেয়েছে।"

অবশেষে অন্ধকার অমানিশা কেটে বাংলাদেশের আকাশে উদিত হয়েছে নতুন ভোরের সূর্য। বহু আকাঙ্ক্ষিত এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার তারেক রহমান। বিএনপির এই বিশাল বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক দলের জয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক মহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি এই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করেছে। এককভাবে সরকার গঠনের নিরঙ্কুশ এখতিয়ার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দলটি প্রমাণ করেছে যে, জনগণের হৃদয়ে তারেক রহমানের অবস্থান কতটা সুদৃঢ়। দলীয় প্রধান হিসেবে তারেক রহমানই এখন বাংলাদেশের নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।

নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দেশের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছে কোটি কোটি ভোটার। সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে, তা ছিল দেখার মতো। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছিল ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আনন্দ এবং একটি সুষ্ঠু সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা।

এবারের নির্বাচনে গড়ে ভোট প্রদানের হার ছিল প্রায় ৬২ শতাংশ, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম সেরা। নানা ধরণের সংঘাত ও সহিংসতার পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে দেশব্যাপী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে অনেকটা ঈদ উৎসবের মেজাজে। মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর এটিই ছিল দেশের মানুষের জন্য প্রথম বড় কোনো গণতান্ত্রিক পরীক্ষা।

১৩ তারিখ দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, বিএনপি ইতোমধ্যে ২১০টি আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে যে, দেশের মানুষ তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর কতটা আস্থাশীল এবং তারা বিএনপিকে কতটা ভালোবাসে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যান্য দল ৫টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। মাত্র ১টি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, বাংলাদেশের শাসনভার জনগণের সম্মতিতে এখন বিএনপির হাতে। দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এবং রাজপথের লড়াইয়ের পর এটি জাতীয়তাবাদী শক্তির জন্য এক পরম প্রাপ্তি।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশের মানুষ কার্যত তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছিল। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনগুলোর পর এবারের নির্বাচন ছিল সাধারণ মানুষের কাছে এক পরম পাওয়া। তারা ব্যালটের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

নির্বাচনের পাশাপাশি এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটাররা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের সুস্পষ্ট রায় জানিয়েছেন। একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। এই দ্বিমুখী রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। মানুষ এখন শুধু পরিবর্তন নয়, বরং গুণগত পরিবর্তন চাচ্ছে।

নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং বিশেষ করে সেনাবাহিনীর অদম্য কঠোর অবস্থানের কারণে বড় কোনো সহিংসতা ঘটেনি। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দেশের প্রতিটি প্রান্তে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করেছে। তাদের এই পেশাদারিত্বের কারণে ভোটাররা সাহস পেয়েছেন এবং কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পেরেছেন। সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা দেশের মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ইসিতে বড় ধরনের কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি বিএনপি বা বড় কোনো রাজনৈতিক দল। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। কিছু রাজনৈতিক জোট অভিযোগ তুললেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো সমাধান করেছে। বিএনপি সবসময়ই চেয়েছে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে জনগণ তাদের রায় দেবে। আর সেই রায়ে আজ বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয়ী হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা পাঁচ শতাধিক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা এই নির্বাচনের পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা দেখেছেন কীভাবে বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ লাইন ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে শ্রেষ্ঠ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, গতকালের ভোটে তার প্রতিফলন ঘটেছে। এটি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের লাখ লাখ নেতাকর্মী জেল-জুলুম এবং মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তারেক রহমানকে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুই তাকে দেশের মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। আজকের এই জয় সেই সব ত্যাগী নেতাকর্মীদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে যারা শত নির্যাতনেও আদর্শ ত্যাগ করেননি।

তারেক রহমানের নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি। তরুণ সমাজ তাকে তাদের আইকন হিসেবে মনে করে। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ নয়, বরং তারেক রহমান স্বপ্ন দেখান একটি ইনক্লুসিভ এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের। যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে এবং বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন। তারেক রহমানের এই ভিশনই আজ তাকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে আসীন করতে যাচ্ছে।

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই সারা দেশে বিজয় মিছিল বের করেছে সাধারণ মানুষ। মিষ্টি বিতরণ আর ধানের শীষের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজপথ। তবে দলের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কেউ প্রতিহিংসামূলক আচরণ না করে। তারেক রহমান আগেই বলেছিলেন, ক্ষমতার পরিবর্তন মানেই প্রতিশোধ নয়, বরং রাষ্ট্র মেরামতের কাজ শুরু করা।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোট ইতিহাসের পাতায় মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই দিনটি চিহ্নিত হবে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে। আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনের কলঙ্ক মুছে দিয়েছে এই অবাধ নির্বাচন। আগামী প্রজন্ম এই দিনের কথা মনে রাখবে যখন ব্যালটের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার চূড়ান্ত অবসান ঘটেছিল বাংলাদেশে।

শুক্রবার সারা দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এই বিজয় আল্লাহর অশেষ রহমত এবং জনগণের দোয়ার ফল। তারেক রহমান শীঘ্রই তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশ গড়ার রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এখন জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বদ্ধপরিকর।

বিএনপির এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনে বিশ্বনেতারা অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় একটি স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। শিল্প-কারখানা সচল করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বেকারত্ব দূর করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে জনগণের ভালোবাসা সাথে থাকলে কোনো বাধাই তারেক রহমানকে থামাতে পারবে না।

বাংলাদেশের মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা কোনো স্বৈরাচারকে চিরকাল সহ্য করে না। তারেক রহমানের ত্যাগ ও বিএনপির অবিচল সংগ্রাম আজ সার্থক হয়েছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ এখন একজন যোগ্য ও দূরদর্শী নেতার হাতে নিরাপদ। গণতন্ত্রের এই জয়যাত্রা চিরস্থায়ী হোক এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে বীরদর্পে এগিয়ে চলুক।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ জনতার রায়ে অবিচল থাকল বাংলাদেশ। জনতার স্পষ্ট ম্যান্ডেটে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর আসনে—নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। জামায়াতের আসন ও ভোট বৃদ্ধি পেলেও ক্ষমতার অলীক স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভূমিধস বিজয়ে জানাই ঐতিহাসিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

news