চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী—প্রবাদটি আজ কেন বলছি? কারণ রাজনীতির মাঠে জামায়াতে ইসলামীর ভণ্ডামি আর ইতিহাস বিকৃতি এখন চরমে। ৫ আগস্টের বিপ্লবের কৃতিত্ব চুরির অপচেষ্টা থেকে শুরু করে গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক বানানোর জঘন্য মিথ্যাচার—সবই ফাঁস করেছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের।
প্রবাদ আছে, ‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী’। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী এই প্রবাদটিকে ধ্রুব সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করলেও তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ফুঁসে উঠেছেন সাধারণ ছাত্র জনতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল কাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতের আসল রূপ তুলে ধরেছেন। তার মতে জামায়াত এখন ইহুদিদের মতো ভয়ংকর মানসিকতা লালন করছে।
আব্দুল কাদের স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে রাজনীতিতে যদি কোনো পরিবর্তন আনতে হয় তবে জামায়াতে ইসলামীকে ইহুদিদের মতো মানসিকতা পরিহার করতে হবে। ইহুদিরা যেমন ফিলিস্তিনে আশ্রিত হয়ে পরে পুরো দেশ দখল করে নিয়েছে, জামায়াতের চরিত্রও এখন ঠিক তেমন। তারা বিভিন্ন আন্দোলন এবং মানবিক আশ্রয়ের সুযোগ নিয়ে জোরপূর্বক দখলদারিত্বের চিন্তাভাবনা করছে। এটি বাংলাদেশের সুস্থ ধারার রাজনীতির জন্য অনেক বড় একটি হুমকি।
গত ৫ আগস্টের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই জামায়াত একটি অদ্ভুত প্রবণতা শুরু করেছে। প্রতিটি ছোট বড় ঘটনায় তারা নিজেদের কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠা করার জঘন্য চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। আব্দুল কাদের অভিযোগ করেছেন যে জামায়াত সব জায়গায় নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে মানুষের ত্যাগকে নিজেদের নামে করতে চাইছে। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজের রক্ত দিয়ে যে বিপ্লব ঘটিয়েছে সেখানে জামায়াতের কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা মোটেও কাম্য নয়।
আবরার ফাহাদের শাহাদাত ছিল পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি শোকের বিষয় যা সাধারণ মানুষ হৃদয় দিয়ে অনুভব করে। কিন্তু আব্দুল কাদের লক্ষ্য করেছেন যে জামায়াত এই ইস্যুটিকেও নিজেদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগকে পুঁজি করে তারা তরুণ প্রজন্মের মাঝে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার পথ খুঁজছে। এমন জঘন্য প্রবণতা থেকে বের না হলে জামায়াত কোনোদিন এদেশের মানুষের মন জয় করতে পারবেনা।
দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে শিরক বা বিজাতীয় সংস্কৃতি বলে প্রচার করে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তারা হঠাৎ করেই শহীদ মিনারে ফুল দিতে শুরু করেছে। তাদের এই ভোল পাল্টানো দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন এবং এটিকে বড় ধরনের দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছেন। আব্দুল কাদের এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক বললেও এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সবচেয়ে বড় জঘন্য মিথ্যাচার হচ্ছে জামায়াতের নেতাদের মুখে গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক হিসেবে প্রচার করা। আব্দুল কাদের ক্ষোভের সাথে জানিয়েছেন যে শহীদ মিনারে যাওয়ার বৈধতা দিতে গিয়ে তারা ইতিহাস বিকৃতি করছে। গোলাম আজম কোনোদিনই ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত চেতনার ধারক ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন দেশবিরোধী। ইতিহাসের এমন জঘন্য বিকৃতি বাংলাদেশের সচেতন ছাত্র সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবেনা বলে তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।
রাজনীতিতে পরিবর্তন সব সময় স্বাগত জানানো হয় যদি তা সৎ এবং স্বচ্ছ উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে। কিন্তু আব্দুল কাদের মনে করেন জামায়াত বাধ্য হয়ে কিংবা পরিস্থিতির কারণে নিজেদের খোলস পাল্টাচ্ছে। এই পরিবর্তনের আড়ালে যদি কোনো নোংরা রাজনীতি লুকায়িত থাকে তবে তা সাধারণ মানুষ বরদাশত করবে না। জামায়াতকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন যে সত্যকে চাপা দিয়ে মিথ্যা প্রচার করলে তার ফল হবে অনেক ভয়াবহ।
শেষে আব্দুল কাদেরের এই স্ট্যাটাসটি ছিল দেশের সচেতন তরুণ সমাজের প্রতি একটি বিশেষ বার্তা। জামায়াতে ইসলামীর মতো উগ্র এবং মিথ্যাবাদী দলগুলো সবসময় সুযোগের সন্ধানে থাকে এবং ইতিহাস বদলে দেয়। আমাদের দায়িত্ব হলো এই ইতিহাস বিকৃতি রুখে দেওয়া এবং সত্যের পক্ষে সর্বদা সোচ্চার থাকা। জামায়াত যদি সত্যিই ভালো হতে চায় তবে তাদের আগে নিজেদের অতীতের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।
