Latest: পরিবেশ বিপর্যয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

Latest: পরিবেশ বিপর্যয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

গত ১০ থেকে ১২ জুলাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আকস্মিকভাবে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ বর্জ্যরে উৎস অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব বর্জ্যরে অধিকাংশ দেশীয়। ভেসে আসা বর্জ্যরে মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিক ও ইলেকট্রনিকস বর্জ্য। সঙ্গে এসেছে ট্রলারের মাছ ধরার ছেঁড়া জাল। আবার বর্জ্যরে সঙ্গে ভেসে আসছে বেশ কিছু মা কচ্ছপ। যা কলাতলীর সায়মন বিচ থেকে দরিয়ানগর পর্যন্ত এলাকার তীরে ভেসে আসে। দুদিনে সৈকতের ১০ কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ৫০-৬০ টন বর্জ্য ভেসে এসেছে। করোনা নিষেধাজ্ঞার কারণে সৈকতে যেখানে মানুষের পদচিহ্ন নেই, সেখানে এত বর্জ্য এলো কোথা থেকে? তার অনুসন্ধান শুরু করে প্রশাসন। ইতোমধ্যে রিপোর্টও জমা দিয়েছে। কিছু সুপারিশও করেছে। সুপারিশের বাস্তবায়ন জরুরি। করোনা সংকটে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে কক্সবাজার সৈকতসহ এখানকার হোটেল ও সব পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু জনশূন্য এই সমুদ্র সৈকত সয়লাব হয়ে যায় বিপুল পরিমাণ বর্জ্য। এখন বর্ষা মৌসুম, সাগর স্বভাবতই উত্তাল। এই মৌসুমে সাগরে মাছ ধরার ট্রলারও সাধারণত খুব থাকে না। বর্ষার এ সময় কাছিম, সাপসহ সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু নিয়ে সমুদ্রবিজ্ঞানীদের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতি শুধু জীববৈচিত্র্যের জন্যই হুমকি নয়, আমাদের পর্যটন শিল্পের জন্যও অশুভ বার্তা। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানার মধ্যে শুধু বিপুল মৎস্যভাণ্ডার নয়, রয়েছে অফুরন্ত প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদের ভাণ্ডারও। বিশেষ গঠন-প্রকৃতির কারণেই তেল-গ্যাসসহ নানা খনিজসম্পদ সঞ্চিত রয়েছে সাগরের তলদেশে। প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দেশই তাদের টেকসই উন্নয়ন কর্মসূূচির মাধ্যমে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আমাদেরও সে সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখনই নজর দিতে হবে সমুদ্রে বর্জ্য ফেলা নিয়ন্ত্রণে। সমুদ্রে বর্জ্য জীববৈচিত্র্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। প্রতিনিয়ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ দেশের অন্যান্য সমুদ্র সৈকতেও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃতি মারাত্মক হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে। কক্সবাজারের কলাতলীতে অবস্থিত হোটেলগুলো মলমূত্রসহ অন্যান্য আবর্জনা সরাসরি সৈকতের পানিতে ফেলে। তার ওপর নির্জন সৈকতে কেউ না থাকার সুযোগে বর্জ্যগুলো কেউ সাগরে ফেলে দিয়েছে। সমুদ্রে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে এখনই। প্লাস্টিক পণ্য ও পলিথিন উৎপাদন, ব্যবহার, বিপণন ও রিসাইক্লিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরো বেশি সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পলিথিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল বর্জ্য নদ-নদীতে কীভাবে নিক্ষিপ্ত হয় এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সুনির্দিষ্ট করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সর্বোপরি কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে প্রশাসন ত্বরিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা রাখছি।

ডিসি

Source link

Follow and like us:
0
20

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here