Latest: শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস, সেই শিক্ষার্থীকে খুঁজছে পুলিশ

Latest: শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস, সেই শিক্ষার্থীকে খুঁজছে পুলিশ

সম্পর্কিত খবর

এক শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় অভিযুক্ত সেই শিক্ষার্থীকে খুঁজছে পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ইমনকে ধরতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর বেশ কয়েকটিস্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। এখনো তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে লাঞ্ছনার শিকার ওই শিক্ষক বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় ইমতিয়াজ ইমন ও তার স্ত্রী মনিরা আক্তারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী শিক্ষক মিজানুর রহমান সজলের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউপির আয়লা গ্রামে। 

শিক্ষক সজল অভিযোগ করেন, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জমজম ইনস্টিটিউটের নগরীর রূপাতলী শাখায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। মেডিকেল টেকনোলজি কোর্সসহ স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা কোর্স ইনস্টিটিউটে পড়ানো হয়। আমি ম্যাটস বিভাগের শিক্ষক ছিলাম। ২০১৮ সালে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দেই। তবে করোনাকালে মার্চ মাসে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে অনলাইনে ৮-১০টি ক্লাস নিয়েছিলাম।

আরো পড়ুন: সংযোগ ছাড়াই বিদ্যুৎ বিল, মামলা থেকে মুক্ত শ্যামলা বেগম

তিনি বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এরমধ্যে মো. ইমন ও তার স্ত্রী মনিরা ছিল। তারা ক্লাস ফাঁকি ও লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিল। তাদের লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা কর্ণপাত না করে উল্টো পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাইয়ে দিতে নানা সময় তাদের বহিরাগত বন্ধুদের দিয়ে চাপ দিয়ে আসছিল।

এসব নিয়ে ইমন আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এ কারণে ২৫ আগস্ট হাতেম আলী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ইমন ও তার ৬-৭ জন বন্ধু আমার পথরোধ করে। এরপর তারা আমার মুঠোফোন ও মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমাকে তারা জোর করে অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় নিয়ে যায়।

এরপর আমাকে সেখান থেকে গোরস্থান রোডে নিয়ে মারধর করে। এ সময় ইমনের সঙ্গে ৬-৭ জন যুবক ছিল। মারধরের একপর্যায়ে কান ধরিয়ে উঠ-বস করানো হয়। পরে তাদের শিখিয়ে দেয়া কথা বলতে বাধ্য করে এবং তা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখেন তারা। এ সময় আমাকে ইমনের স্ত্রী মনিরা আক্তারের পা ধরতেও বাধ্য করে তারা।

শিক্ষক সজল বলেন, এ ঘটনার পর আমি গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। ফেসবুকে বিষয়টি দেখে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তারা মামলা করার পরামর্শ দেন। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে কোতয়ালী থানায় মামলাটি করি।

আরো পড়ুন: সেই মাথা ন্যাড়া ধর্ষক গ্রেফতার

এদিকে শিক্ষক সজলের কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিওটি সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। এরপর ভিডিওটি ভাইরাল হয়। ভিডিওটি বহু মানুষ শেয়ার করেছে। তবে ভিডিওটি কে করেছে বা কে প্রথম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে তা জানা যায়নি। পাশাপাশি আরো একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতে দেখা যায়, বোরকা পরা এক নারীর পা ধরে বসে আছেন শিক্ষক সজল।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সোমবার ইমন বলেন, শিক্ষক সজল বিভিন্ন সময়ে মেয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করতেন। মেয়ে শিক্ষার্থীদের কু-প্রস্তাব দিতেন। তার কারণে মেয়ে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ ছিল। শিক্ষক সজলকে লম্পট সজল বলে শিক্ষার্থীরা ডাকতো।

ইমতিয়াজ ইমন আরো বলেন, আমার স্ত্রী মনিরাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওই স্যার। কুয়াকাটায় রাত কাটালে ভালো নম্বর দেবেন বলেছেন। প্রতিবাদ করায় তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। তার কারণে আমার স্ত্রী এখনো পাস করতে পারেনি। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মনিরাকে ফেল করানো হয়।

তাই তাকে নিয়ে গিয়ে এ ধরনের কাজ করবেন না এমন মুচলেকা নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি ভয় পেয়ে নিজ ইচ্ছায় কান ধরে বলেছেন এমন কাজ আর করবেন না। ফেসবুকে ওই ভিডিও প্রকাশের ব্যাপারে ইমন কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।

আরো পড়ুন: ময়মনসিংহে শ্রেষ্ঠ ইউডিসি উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলম

প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ না করে কেন নিজেরা ব্যবস্থা নিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইমন বলেন, সজল স্যার তো এখন আর জমজম ইনস্টিটিউটে চাকরি করেন না। তাছাড়া চাকরি করলেও কর্তৃপক্ষ সজল স্যারকে কিছু বলতেন না। কারণ সজল স্যার ওই প্রতিষ্ঠানে তিন বছরের বেশি সময় চাকরি করেছেন। কর্তৃপক্ষ তার এসব বিষয়ের কথা জানার কথা। তখনই কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখন কী ব্যবস্থা নেবেন।

এ ব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহমান মুকুল জানান, শিক্ষক মিজানুর রহমান সজল বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ইমতিয়াজ ইমন ও তার স্ত্রী মনিরা আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরো ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ইমনকে ধরতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর বেশ কয়েকটিস্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তাকে সেসব স্থানে পাওয়া যায়নি। ইমনকে পাওয়া গেলে আসলে সেদিন কী ঘটেছিল তা বিস্তারিত জানা যাবে।

Source link

Follow and like us:
0
20

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here