Latest: ভালো কিছু করতে গেলেই কিছু লোক বাধা হয়ে দাঁড়ায়: শাকিব খান

Latest: ভালো কিছু করতে গেলেই কিছু লোক বাধা হয়ে দাঁড়ায়: শাকিব খান


শাকিব খান। নন্দিত অ’ভিনেতা। সাত মাস বিরতির পর সম্প্রতি ‘নবাব এলএলবি’ ছবিতে অ’ভিনয় শুরু করেছেন তিনি। অনন্য মামুন পরিচালিত এই ছবির মাধ্যমে শুটিংয়ে ফেরা, দেশীয় চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-

সাত মাস পর অ’ভিনয়ে ফিরলেন। কেমন লাগছে?

অনেক দিন পর চিরচেনা জায়গায় পা রাখলে যেমন লাগে, তেমনই অনুভূতি হচ্ছে। আম’রা কেউ তো ভাবিনি কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। কাজকর্ম ফেলে ঘরে বসে থাকা ছিল একেবারেই অ’প্রত্যাশিত।

করো’নার কারণে পৃথিবীজুড়ে যখন এ অবস্থা, তখন মানুষ কী’ভাবে বেঁচে থাকবে, সেটাই ছিল চিন্তার বিষয়। করো’না পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। মৃ’ত্যুর হার প্রায় আগের মতোই আছে। তারপরও আমাদের শুটিংয়ে ফিরতে হচ্ছে।

হয়তো আগামী এক বছর কাজ না করলেও আমা’র কিছু যাবে-আসবে না। কিন্তু যে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি, সেখানকার মানুষগুলো কেমন আছে, এ কথাও ভাবতে হয়েছে। কাজ না থাকায় অনেকে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাদের কথা ভেবেই ঝুঁ’কি নিয়ে শুটিংয়ে ফেরা।

শুটিং নেই, ঘরের বাইরে যাওয়াও ঝুঁ’কিপূর্ণ- এমন পরিস্থিতিতে সময় কে’টেছে কী’ভাবে?

শুটিং না করলেও কাজ কিন্তু থেমে থাকেনি। চলচ্চিত্রের উন্নয়ন নিয়ে নতুন সব পরিকল্পনা সাজিয়েছি। এ ছাড়া পরিচালক অনন্য মামুনের ‘নবাব এলএলবি’র জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।

নিয়মিত শরীরচর্চাও ধরে রেখেছিলাম। নবাব চরিত্রে নিজেকে আরও পরিণত অ’ভিনেতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছি বলেই এত কিছু করা। এ ছবিতে দর্শক নতুন এক শাকিব খানকে আবিস্কার করতে পারবেন বলেই আমা’র ধারণা।

করো’না পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। এমন সময় শুটিং নিয়ে কোনো আতঙ্ক কাজ করছে না?

আতঙ্ক নিয়ে ঘরে বসে থাকলে তো হবে না। অনেকেই বলছিলেন আরও কিছুদিন দেখতে, পরিস্থিতি আরও উন্নতি হলেই শুটিংয়ে ফিরতে। কিন্তু আমি তো চলচ্চিত্র অঙ্গনের অবস্থা জানি। এভাবে ঘরে বসে থাকলে আমা’র ইন্ডাস্ট্রিও বসে যাবে।

আমি শুটিং করছি দেখে হয়তো অনেকেই কাজে ফিরবেন। পাঁচ কেজি ডাল আর ১০ কেজি চালের সাহায্য নিয়ে কত দিন অসহায় মানুষের দিন চলবে? অবিশ্বা’স্য হলেও সত্যি, করো’নার এই দুঃসময়েও কোনো টেকনিশিয়ান ত্রাণের লাইনে দাঁড়াননি। তারা ত্রাণ চানও না। আসলে তারা কাজ করে খেতে চান। আমি তাদের সেই কাজের সুযোগ করে দিচ্ছি।

দেশীয় চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কী’ ভাবছেন?

আমা’র লক্ষ্য দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি সুন্দরভাবে গড়ে তোলা। এফডিসির কাজের পরিবেশ হোক আনন্দময়, সবাই যেন এখানে কাজ করে ভালো’ভাবে বেঁচে থাকতে পারেন- এটাই চাওয়া। কিন্তু আমি খেয়াল করে দেখেছি, চলচ্চিত্রের ভালো করতে গেলে অনেকে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এটা মানতে চায় না, চলচ্চিত্রের মানুষ ভালো বা মন্দ হয়ে সবার কাছে ধ’রা দেয় সিনেমা’র কারণে। বড়াই করার জন্য কেউ ১০টি ছবি নির্মাণ করলেন, সেগুলো দর্শক দেখল না- তেমন ছবি দিয়ে তো ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি সম্ভব নয়। তাই এমন ছবি নির্মাণ করতে হবে, যা দিয়ে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি আরও বড় হবে।

ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিতে সংগঠনের প্রয়োজন আছে কি?

রাজ্জাক, ফারুক, আলমগির, শাবানা, ববিতা, কবরীদের মতো কিংবদন্তীদের সংগঠন করার প্রয়োজন হয়নি। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের আসল কাজ দিয়ে নিজেরা একেকটা সংগঠনের মতো হয়েছেন।

আমি জানি না অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খানরা কোন সংগঠনের সভাপতি সেক্রেটারি কিনা! কিছু মানুষের মূল্যায়ন হয় সবকিছুর উর্দ্ধে। আমাদের দেশেও যখন সঠিক মানুষকে সঠিক মূল্যায়ন করা হবে, আম’রা সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাবো।


সিনেমা হল মালিকরা সরকারিভাবে ৭০০ কোটি টাকা সহায়তা পাচ্ছেন। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

সিনেমা হল মালিকদের টাকা দেয়া হবে শোনা যাচ্ছে। যদি হয় এটা খুব ভালো হবে। কিন্তু হল ঠিক করে দেয়ার পর সিনেমা না থাকলে তখন কী’ হবে? তাই যারা নিয়মিত ছবি বানায় বা আগে বানাতো এখন পারছেন না, তাদের দিকটাও বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনে সহ’জ শর্তে কিছু দিতে হবে এবং সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করতে হবে।

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি, শুনলাম কলকাতার ছবিতে আবার অ’ভিনয় করতে যাচ্ছেন?কলকাতার বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট চূড়ান্ত হয়ে আছে। এর আগে ‘পাসওয়ার্ড’-এর কারণে ‘কিডন্যাপ’ ছবিটি ছেড়ে দিতে হয়েছে।

পরের ছবির শুটিং করো’না না হলে এত দিনে শেষ হয়ে যেত। লকডাউনের জন্য শুটিং করা হয়নি। তবে ঢাকা টু কলকাতার ফ্লাইট চালু এবং পরিস্থিতি আরেকটু স্বাভাবিক হলেই কলকাতার নতুন ছবির কাজ শুরু করব।

আপনার কাজের জায়গায় কতটুকু সন্তুষ্ট?

আমা’র মতো অনেকের ভালো’ভাবে সবকিছু শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে সময় লাগেনি। নানা সমস্যায় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ক্রমেই অন্ধকারের দিকে চলে গেছে।

সুস্থ ধারার ছবির অভাব দেখা দিয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে অসংখ্য সিনেমা হল। তারপরও কিছু মানুষ এই ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁ’চাতে কাজ করে যাচ্ছেন, যাদের মধ্যে আমিও একজন। দেখি, ভবিষ্যতে কতটা সন্তুষ্টি দিতে পারে।

Follow and like us:
0
20

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here