Latest: Umar Khalid: ১৭,৬০০ পাতার নতুন চার্জশিটে নাম নেই, তবু স্বস্তি নেই উমরের – the new 18,600-page chargesheet does not name umar, but he is not relieved

Latest: Umar Khalid: ১৭,৬০০ পাতার নতুন চার্জশিটে নাম নেই, তবু স্বস্তি নেই উমরের – the new 18,600-page chargesheet does not name umar, but he is not relieved

এই সময়: দিল্লি হিংসার নতুন চার্জশিটে নাম নেই উমর খালিদের। তা বলে পরের চার্জশিটে তাঁর নাম থাকবে না, এমনটাও নয়।

দিন দুয়েক আগেই দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতাকে উমরকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লি হিংসার অন্যতম চক্রী হিসেবে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তো বটেই, খালিদের নামে দেওয়া হয়েছে ইউএপিএ-র মতো কঠোর ধারাও৷ এত কিছুর পরেও দিল্লি পুলিশ কেন খালিদের নাম নতুন চার্জশিটে রাখেনি? দেশজোড়া প্রতিবাদের মুখে পিছু হটে কি কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে উমরকে?

দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তা যা বলছেন, তাতে অবশ্য ধৃত ছাত্রনেতার জন্য স্বস্তির কোনও বার্তা নেই। ওই কর্তার কথায়, ‘উমর খালিদ গ্রেপ্তার হয়েছেন দিল্লি দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে৷ এখন তাঁকে ধারাবাহিক জেরা করা হচ্ছে৷ জেরা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পেশ করা হবে নতুন চার্জশিট৷ একই ভাবে অনেকের নামই আসতে পারে পরবর্তী চার্জশিটে৷’

ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি হিংসার ঘটনায় দিন কয়েক আগেই দিল্লি পুলিশের তরফে যে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল, যেখানে নাম ছিল সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, স্বরাজ অভিযান পার্টির প্রধান যোগেন্দ্র যাদব এবং জেএনইউয়ের অধ্যাপক জয়তী ঘোষের৷ বুধবারের চার্জশিটে অবশ্য তাঁদের কারও নাম নেই। নাম নেই উমরের সহযোগী, জেএনইউয়ের গবেষক-ছাত্র শার্জিল ইমামেরও। বুধবার দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ১৭,৫০০ পাতার যে নতুন চার্জশিট জমা দিয়েছে, তাতে দিল্লি হিংসার মূল অভিযুক্ত হিসেবে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে৷ ৭৪৭ জন সাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই চার্জশিট৷ পুলিশের অভিযোগ, জাফরাবাদ-সহ উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে দাঙ্গা ছড়ানোর জন্য অভিযুক্তরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নিয়েছিলেন, ব্যবহার করা হয়েছিল ২০টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ৷

দিল্লি পুলিশ এবং বিজেপির বিরুদ্ধে কিন্তু পাল্টা অভিযোগ, অমরাবতীর যে ভাষণ তুলে ধরে উমরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে, তাতে গান্ধীর অহিংস পথে প্রতিবাদের কথা বলেছিলেন উমর, কোনও হিংসাত্মক পথে নয়। দিল্লি পুলিশ আবার এই অভিযোগ মানতে নারাজ। এক উচ্চপদস্থ কর্তা বলেছেন, ‘উমর খালিদকে জেরা করে দেখা যাচ্ছে, দিল্লি দাঙ্গার সময়ে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে প্রবল সক্রিয় ছিলেন, ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছিলেন অন্যদের সঙ্গে৷ দিল্লিতে সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক খালিদ৷ তাহির হুসেন ও খালিদ সাইফিকে উস্কানিও দিয়েছেন তিনি।’

উমরদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ এবং রাষ্ট্রদ্রোহের আইনের প্রয়োগ যখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে, তখন রাষ্ট্রদ্রোহের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে কেন্দ্রীয় সরকার৷ বুধবার রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শান্তনু সেন জানতে চেয়েছিলেন, কোনও দেশের নামে ‘জিন্দাবাদ’ ধ্বনি তোলা মানেই কি রাষ্ট্রদ্রোহিতা? তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষেন রেড্ডি ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের সংজ্ঞার কথা উল্লেখ করেছেন। ঘটনা হলো, ১২৪এ ধারায় কিন্তু কোথাও বলা নেই, অন্য কোনও দেশের নামে জয়ধ্বনি করলে তা রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে বিবেচিত হবে৷

দেশের শীর্ষ আদালতের আইনজীবী মহল এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞদের অনেকেই কিন্তু মনে করছেন, কোনও দেশের নামে জিন্দাবাদ বলা মানেই তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়৷ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শুভাশিস ভৌমিকের ব্যাখ্যা, ‘ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারায় যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তাতে সাধারণ ভাবে কোনও দেশের নামে জয়ধ্বনি করা মানে রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়৷ কিন্তু কোনও দেশের সঙ্গে আমাদের দেশের সম্পর্ক যদি খারাপ হয়, তা হলে সেই দেশের নামে জয়ধ্বনির অর্থ রাষ্ট্রদ্রোহিতার আঙ্গিকে বিচার্য হতে পারে। বিশেষ করে, সেই মুহূর্তে যদি সংশ্লিষ্ট জয়ধ্বনির সঙ্গে আমাদের দেশের কোনও অংশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ এর সঙ্গে জড়িত থাকবে বিদ্বেষমূলক প্রচার ও জাতীয় সংহতি রক্ষার প্রশ্নটিও৷’

শান্তনু সেন এ-ও প্রশ্ন করেছিলেন যে, ২০১৪ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশের সর্বত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতার আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে কি? এই প্রশ্নেরও সরাসরি কোনও উত্তর দেয়নি কেন্দ্র৷ জি কিষেণ রেড্ডি শুধু জানিয়েছেন, ‘ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো বা এনসিআরবি সারা দেশের অপরাধের তালিকা প্রকাশ করে৷ ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে রিপোর্ট৷ ২০১৪-১৮ সময় পর্যন্ত কতগুলি রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনা ঘটেছে, সেই সম্পর্কে ঠিক কোনও ধারণা পাওয়া যায় না৷’

Source link

Follow and like us:
0
20

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here