Latest: Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মানভঞ্জনে কাঁথির অধিকারী বাড়িতে প্রশান্ত কিশোর, কথা শিশিরের সঙ্গে – west bengal: political strategist prashant-kishor-went-to-suvendu-adhikari-s-house-in-contai

Latest: Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মানভঞ্জনে কাঁথির অধিকারী বাড়িতে প্রশান্ত কিশোর, কথা শিশিরের সঙ্গে – west bengal: political strategist prashant-kishor-went-to-suvendu-adhikari-s-house-in-contai

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তৃণমূলে টানাপোড়েনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর কাঁথির বাড়িতে হঠাত্‍‌ই হাজির হন রাজনৈতিক বিশ্লেষক তথা ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর। শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলতেই শান্তিকুঞ্জে গিয়েছিলেন পিকে। কিন্তু, বাড়িতে সেসময় শুভেন্দু না-থাকায় তাঁর বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গেই কথা হয় প্রশান্তের। ঘণ্টা দুয়েক অধিকারী বাড়িতে কাটিয়ে রাত ১০টা নাগাদ তিনি বেরিয়ে আসেন। দু’জনের মধ্যে কী কথা হয়েছে, এ বিষয়ে অধিকারী পরিবারের কেউ মুখ খোলেননি। তবে, সূত্রের খবর, শুভেন্দুকে নিয়েই শিশির অধিকারীর সঙ্গে কথা হয়েছে প্রশান্তের। পরে মোবাইলে শুভেন্দুর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে।

রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতিগতি নিয়ে ইদানীং জল্পনা তৈরি হয়েছে। তার সংগত কারণও আছে। প্রতিদিনই শুভেন্দুর মুখে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য। সরাসরি তৃণমূলের নাম না-করেই আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছেন। নেত্রীর নামও তাঁর মুখে শোনা যাচ্ছে না। দলের সভা-অনুষ্ঠানেও যোগ দিচ্ছেন না। এমনকী নন্দীগ্রাম দিবসেও তিনি অরাজনৈতিক মঞ্চে সভা করেন। বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক থাকলেও শুভেন্দু সেখানে গরহাজির ছিলেন। কিন্তু, ওই সন্ধ্যায় তাঁকে বাগুইআটিতে কালীপুজোর উদ্বোধনে দেখা যায়। বাগুইআটিতে আসতে পারলেও নবান্নের বৈঠকে না-যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবে দলেই তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ দিন ঘাটালের সভাতেও জনতার উদ্দেশে শুভেন্দু বার্তা দেন, ‘আপনাদের সঙ্গে ছাত্রাবস্থায় ছিলাম। আজ আছি। ভবিষ্যতেও থাকব। আমরা এগোব, অন্যরা দেখবে আর কাঁদবে। ট্রাকগুলো যায় দেখেছেন, পিছনে লেখা থাকে, দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মতো ফুলবি!’

তিনি যে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনাবলিতেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।এমন শোনা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর গোসা করে তিনি বিজেপিতে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করছেন। অধীর চৌধুরীও তাঁকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে রেখেছেন। স্বভাবতই শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিড়ম্বনা বেড়েছে তৃণমূলে।

এমনই এক প্রেক্ষাপটে সম্ভবত সমঝোতার বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার কাঁথির অধিকারী বাড়িতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের ভোটকৌশলী পিকে। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ কাঁথি শহরের হাতাবাড়ি এলাকায় শুভেন্দুর বাড়িতে হাজির হন প্রশান্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও চার জন। তবে, প্রশান্ত যখন অধিকারীদের বাড়িতে যান, তখন শুভেন্দু বা তাঁর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী, কেউই বাড়িতে ছিলেন না। শুভেন্দু এদিন জেলার বাইরে একাধিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সারাদিন হুগলি থেকে রাজারাহাট, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে বর্ধমান– তিনি জনসংযোগ সেরেছেন। বাড়িতে ছিলেন তাঁদের বাবা, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি শিশির অধিকারী। তাঁর সঙ্গে কথা বলে রাত পৌনে ১০টা নাগাদ অধিকারী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান প্রশান্ত। অধিকারী বাড়ির কেউই যেমন এ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেননি, প্রশান্তও শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। ফলে, দু’জনের কথার কিছুই জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:‘তৃণমূলে থাকতে অসুবিধা হলে কংগ্রেসের দরজা খোলা’, শুভেন্দুকে বার্তা অধীরের?

প্রশান্ত কিশোর যে এদিন শুভেন্দুর বাড়িতে গিয়েছিলেন, সে খবর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের অনেকের কাছেই ছিল না। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য, শিশির অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা তৃণমূল সভাপতি। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই পিকের এই ঝটিকা সফর।

আরও পড়ুন: পদত্যাগপত্র নিয়ে বিধানসভায় বেচারাম! মান ভাঙল তৃণমূল ভবন গিয়ে

তৃণমূলেরই একটি সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বেচারাম মান্নার ‘ইস্তফা-নাট্য’ সামলানোর পর দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও ফোন করেছিলেন শুভেন্দুকে। কিন্তু খুব একটা সুবিধা হয়নি। পিকের শুভেন্দুর বাড়ি যাওয়ার খবর প্রচার হতেই শুভেন্দুর অনুগামীরা নিজেদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এ নিয়ে খিল্লি শুরু করেন। ফলে, আদতে এ দূরত্ব ঘুচবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। তবে, তৃণমূলের তরফে শেষ একটা চেষ্টা করা হচ্ছে। পিকে’কে পাঠিয়ে সেই বার্তাই দেওয়া হল বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞমহল মনে করছে। আদতে চিঁড়ে ভিজেছে কি না, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন

Source link

Follow and like us:
0
20

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here