Latest: artificial intelligence: কৃত্রিম মেধায় রাজ্যকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠাই ব্রত সঙ্কেতের – sanket sarkar’s main aim is to make west bengal a leading name in field of artificial intelligence

Latest: artificial intelligence: কৃত্রিম মেধায় রাজ্যকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠাই ব্রত সঙ্কেতের – sanket sarkar’s main aim is to make west bengal a leading name in field of artificial intelligence

কৌশিক প্রধান

বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম জয়নগর। সেই গ্রামের এক নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে সঙ্কেত সরকার আজ এক অসাধ্য সাধনে ব্রতী — লক্ষ্য, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধায় পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করা।

আর্থিক অনটনেই কেটেছে সঙ্কেতের ছোটবেলা। বাবা ছিলেন বড়জোড়ায় একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। একমাত্র ছেলের পড়াশোনার জন্য গ্রামের বাড়ি ছেড়ে দুর্গাপুরে বাসা ভাড়া নেন। কিন্তু, বেতনের সিংহভাগই বাড়ি ভাড়া দিতে চলে যেত। তিনজনের সংসার চালাতে প্রাণান্তকর অবস্থা।

তবে বরাবরই অঙ্কে মেধাবী সঙ্কেত ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় থেকেই পাড়ার এক সাইবার কাফেতে কোডিং শিখতেন। দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পরে প্রবল ইচ্ছা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। জয়েন্টে র‍্যাঙ্ক করে গড়িয়ায় একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগও মেলে। কিন্তু, প্রতি সেমেস্টারের খরচ ৪০,০০০ টাকা? আসবে কোথা থেকে?

সেই টাকা নিজেকেই জোগাড় করতে হয়েছিল সঙ্কেতকে। আজ তাঁর নিজের স্টার্ট-আপ সংস্থা টিমকগনিটো’র অফিসে বসে ছোটবেলার সেই দিনগুলির কথা স্মরণ করেন সঙ্কেত, ‘বাবাকে বললাম, আমাকে একটা সেমেস্টারের টাকা দাও। আমি বাকিগুলো জোগাড় করে নেব। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গড়িয়ার একটি মেসে থাকতাম। সেই সময়েই ইন্টারনেট ঘেঁটে সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম মেধা নিয়ে পড়া শুরু করলাম। তার পর সল্টলেকে মাইক্রোসফট ইমেজিং অ্যাকাডেমি-তে পড়িয়ে মাসে যে টাকা আয় করতাম, তা দিয়ে সেমেস্টারের খরচ উঠে যেত।’

ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর ২০১৮-র গোড়ায় প্রথম নিজস্ব সংস্থা তৈরিরনা আসে সঙ্কেতের মাথায়। সঙ্গী সন্তোষ কুমার ঝা, স্বর্ণালী সিংহ ও স্নেহাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। গড়ে উঠল টিমকগনিটো। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক আয়োজিত ‘সিটিজেনস ভয়েস চ্যালেঞ্জ’ নামে একটি সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় কনিষ্ঠতম সদ্যোজাত সংস্থার বিশেষ স্বীকৃতিও এল। সঙ্গে নগদ পুরস্কার দশ হাজার টাকা। কিন্তু, তাতেও ২০১৯-এর জুন পর্যন্ত কোনও অফিস ছিল না। মিটিং হতো রাস্তার পাশে থাকা কোনও চায়ের দোকানে। প্রথম ক্লায়েন্ট শ্যাম স্টিল। এক লক্ষ টাকা পাওয়া গেল। তা দিয়েই বেঙ্গল ইন্টেলিজেন্ট পার্কে প্লাগ অ্যান্ড প্লে মোডে অফিস।

গত মে মাসে সঙ্কেতের সংস্থা টিমকগনিটো তৈরি করেছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সলিউশন কেনাবেচা করার মার্কেটপ্লেস ‘এআইমার্ট’। যারা কৃত্রিম মেধার সলিউশন তৈরি করেছে এবং আগ্রহী ক্রেতা ও বিক্রেতা, উভয়ের জন্য এটা আসলে এগ্রিগেটার প্ল্যাটফর্ম। সঙ্কেতের বক্তব্য, ‘কিছু দিন পরেই আমাদের এই অ্যাপটি গুগ্‌ল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল্ অ্যাপ স্টোরে মিলবে। আগামী তিন বছরে আমাদের লক্ষ্য, ভারতের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অফিস খোলা, কারণ, এই সমস্ত জায়গায় ব্যবসায়িক সুযোগ ও সম্ভাবনা অনেক বেশি।’

পাশাপাশি, মূলধন জোগাড়ের জন্য একাধিক দেশি-বিদেশি লগ্নিকারীর সঙ্গে আলোচনাও চলছে। সঙ্কেতের কথায়, ‘আমাদের সংস্থার মূল্য এখন ১.৭০ কোটি টাকা। অন্তত ২ কোটি টাকার লগ্নি তুলতে অনেকের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। পাঁচ-ছয়জন লগ্নিকারী ব্যক্তি ও সংস্থা অত্যন্ত আগ্রহও দেখিয়েছেন। এআইমার্ট-কে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে আমাদের বিপণন, বিক্রয় ও ২৪X৭ ভিত্তিতে পরিষেবা দেওয়ার পরিকাঠামো ও কর্মী নিয়োগ করতে দরকারে আমরা সংস্থার ৭-৮ শতাংশ অংশীদারিত্বও লগ্নিকারীদের দিতে রাজি।’
তাঁর যুক্তি, ‘আমরা কৃত্রিম মেধার পাশাপাশি মেশিন লার্নিং ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করি। বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণের পর থেকে এই তিনটি ক্ষেত্রেই চাহিদা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিপুল বেড়েছে। আমাদের বর্তমানে ক্লায়েন্ট সংখ্যা ৫০-এর বেশি এবং যে আন্তর্জাতিক প্রোজেক্টগুলি পাইপলাইনে রয়েছে, তাতে সংস্থার আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার বিষয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। সাব-কন্ট্রাক্টে আমরা বাংলাদেশ সরকারের পোর্টালও তৈরি করছি।’

নিজে কোনও সংস্থা গড়ে তুলবেন এবং মাত্র দেড় বছরের মধ্যে তার এমন উল্কার গতিতে বৃদ্ধি ঘটবে, তা নিশ্চিত ভাবেই স্কুলে পড়ার সময়ে তিনিও ভাবেননি।

এক বছরের মধ্যে ক্লায়েন্ট সংস্থা ৫০-এর বেশি, যার মধ্যে ব্রিটেনের মিকেয়ার, কানাডার অ্যাপয়েন্টকেয়ার, আমেরিকার টিসিবিপে-র মতো ১৭টি বিদেশি সংস্থা রয়েছে। ভারতীয় সংস্থাগুলির মধ্যে শ্যাম স্টিল ছাড়াও রয়েছে কেপিএমজি, শ্রেয়ী, টেকনো গোষ্ঠী প্রমুখ। এ ছাড়া টিমকগনিটো কলকাতা ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইইএসটি শিবপুরের মতো অনেক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য কৃত্রিম মেধা ও মেশিন লার্নিং-এর উপর প্রশিক্ষণ কর্মশালা করে থাকে। এটাও তাদের আয়ের অন্যতম উৎস।

বর্তমানে টিমকগনিটো-র কর্মী সংখ্যা ১৭। তার মধ্যে সাত জন রয়েছেন, যাঁরা পড়াশোনার খরচ জোগাড়ের জন্যই চাকরি করেন। সঙ্কেত চান না অর্থাভাবে কারও পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। নিজেই বলছেন, তাঁর এই উদ্যোগের আসল উদ্দেশ্য। রাজ্যে আরও শিল্পোদ্যোগী গড়ে তোলা।

Source link

Follow and like us:
0
20

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here