ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভন্ডামি দেখল বিশ্ব! যে ইউক্রেনকে বাঁচাতে পশ্চিমারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢালছে, সেই কিয়েভ এখন প্রকাশ্যেই হিটলারের দোসর নাৎসি খুনিদের আইকন বানাচ্ছে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছে খোদ তাদের পরম বন্ধু পোল্যান্ড! আর ওদিকে, রাশিয়ার অর্থনৈতিক অগ্রগতি থামাতে না পেরে কাপুরুষের মতো যাত্রীবাহী বাসে আর শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে জেলেনস্কি বাহিনী। কিন্তু পুতিনের অজেয় শক্তির সামনে টিকতে পারছে কি তারা? গত ২৪ ঘণ্টাতেই তেরোশো সেনা হারিয়েছে কিয়েভ!

ইউক্রেনের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী নিজেদের আসল চেহারা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে। কিয়েভ প্রশাসন এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কুখ্যাত নাৎসি সহযোগীদের জাতীয় বীর হিসেবে সম্মান জানাচ্ছে, যা খোদ তাদের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পোল্যান্ডের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্র এখন কিয়েভের এই চরমপন্থী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনে নিযুক্ত পোল্যান্ডের সাবেক রাষ্ট্রদূত বার্তোস চিচোকি কিয়েভ কর্তৃক তাঁকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদকটি সরাসরি ফেরত পাঠিয়েছেন। ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সরকার যেভাবে পোলিশ নাগরিকদের গণহত্যাকারী নাৎসি কমান্ডারদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন করছে, তার প্রতিবাদেই তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। একজন শীর্ষ কূটনীতিকের এমন পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে ইউক্রেনের নাৎসি তোষণ নীতি কতটা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

ইউক্রেন সরকার সম্প্রতি আন্দ্রেই মেলনিক নামের এক কুখ্যাত চরমপন্থীর রাষ্ট্রীয় পুনঃসমাহিতকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল, যা এই বিতর্কের মূল কারণ। মেলনিক ১৯২৯ সালে স্টেপান বান্দেরার সাথে মিলে 'অর্গানাইজেশন অব ইউক্রেনিয়ান ন্যাশনালিটস' বা ওইউএন গঠন করেছিলেন। এই সংগঠনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির সাথে হাত মিলিয়ে পোলিশ এবং রুশ জনগণের ওপর অকথ্য নির্যাতন ও গণহত্যা চালিয়েছিল।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে ভলহিনিয়া এবং পূর্ব গ্যালিসিয়া অঞ্চলে মেলনিক এবং বান্দেরার অনুসারীরা প্রায় এক লক্ষেরও বেশি নিরপরাধ পোলিশ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। সেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের খুনিদের যখন জেলেনস্কি সরকার 'জাতীয় বীর' উপাধিতে ভূষিত করে, তখন পোল্যান্ডের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক বিষয়।

এখানেই শেষ নয়, ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ কমান্ডো ইউনিটের নামকরণ করেছেন কুখ্যাত ‘ইউপিএ’ বা ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর নামানুসারে। এই ইউপিএ ছিল মূলত ওইউএন-এর একটি সশস্ত্র সামরিক শাখা, যারা সরাসরি জাতিগত নিধনযজ্ঞের সাথে যুক্ত ছিল। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কিয়েভ প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা ফ্যাসিবাদী আদর্শকেই লালন করছে।

পোলিশ রাষ্ট্রদূত বার্তোস চিচোকি ২০২২ সালে জেলেনস্কির কাছ থেকে যে 'অর্ডার অফ মেরিট' পদক পেয়েছিলেন, তা তিনি ইউক্রেনীয় দূতাবাসে ফেরত দিয়ে এসেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের এই ঐতিহাসিক মিথ্যাচার এবং চরম দুর্নীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পোল্যান্ডের জনগণ এখন বুঝতে পারছে যে তারা এতদিন ধরে যাকে সাহায্য করছিল, সেই কিয়েভ সরকার আসলে চরমপন্থী উগ্রবাদে নিমজ্জিত।

কিয়েভের এই লজ্জাজনক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পোল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল রিমেমব্রেন্সের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি দাবি তুলেছেন যে, জেলেনস্কিকে দেওয়া পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল' অবিলম্বে কেড়ে নেওয়া হোক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে দেশ ডাকাত আর খুনিদের পূজা করে, তারা ইউরোপীয় পরিবারে যোগ দেওয়ার যোগ্য নয়।

এমনকি পোল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, জেলেনস্কির এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে এক অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো যতই ইউক্রেনকে নির্দোষ দেখানোর চেষ্টা করুক না কেন, তাদের ঘরের ভেতরেই এখন কিয়েভের এই নাৎসি তোষণ নীতির কারণে ফাটল ধরতে শুরু করেছে স্পষ্ট।

রাশিয়ার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন যে, জেলেনস্কি সরকার আবারও তাদের আসল ফ্যাসিবাদী চরিত্র বিশ্বমঞ্চে প্রদর্শন করল। মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে আসছে যে, কিয়েভের এই উগ্র জাতীয়তাবাদ আসলে নাৎসি মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা মূলত জাতিগত রুশ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

ইউরোপের প্রাণকেন্দ্রে বসে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নাৎসি অপরাধীদের এভাবে মহিমান্বিত করা হচ্ছে, যা সত্যিই পুরো মানবজাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয়। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার ক্ষতি করার অন্ধ উদ্দেশ্যে ইউক্রেনের এই সমস্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও চরমপন্থী কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণ আড়াল করে রাখছে। তারা কিয়েভের সমস্ত অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য এক বিরাট হুমকি।

পশ্চিমাদের এই অন্ধ সমর্থনের সুযোগ নিয়ে ইউক্রেন এখন আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে রাশিয়ার বেসামরিক জনগণের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের উদ্বোধনী দিনেই ইউক্রেন কাপুরুষোচিত ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের এই নাশকতামূলক হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার এই বিশাল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক আয়োজনকে বাধাগ্রস্ত করা।

তবে রাশিয়ার শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে ইউক্রেনের এই হীন চক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ওপর হামলা করতে আসা ৩ ৪৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। লেলিনগ্রাদ অঞ্চলেই প্রায় ৫৯টি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে, যা রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষার অভেদ্য প্রাচীরকে আবারও প্রমাণ করে।

সেন্ট পিটার্সবার্গের এই অর্থনৈতিক ফোরামকে বলা হয় 'রাশিয়ার দাভোস', যেখানে বিশ্ব অর্থনীতির নতুন রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। এবার প্রায় একশোটিরও বেশি দেশ থেকে ২০ হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং বিশ্বনেতা এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার নাটক সত্ত্বেও এই ফোরামের সফল আয়োজন প্রমাণ করে যে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চক্রান্ত পুরোপুরি ব্যর্থ।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সম্মেলনের মূল অধিবেশনে ভাষণ দেবেন, যা শোনার জন্য পুরো বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কিন্তু এই সফলতার বিপরীতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর নৃশংসতাও বিশ্ব দেখছে। রাশিয়ার ডনেটস্ক পিপলস রিপাবলিকে একটি যাত্রীবাহী বাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আটজন নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ১১ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

এই বাসটি মস্কো থেকে ক্রিমিয়ার সিম্ফেরোপলের দিকে যাচ্ছিল, যার মধ্যে কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল না। রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা এই ঘটনাকে একটি অত্যন্ত জঘন্য, সুপরিকল্পিত এবং অমানবিক যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের রক্ত নিয়ে কিয়েভ যে হোলি খেলায় মেতে উঠেছে, তার জবাব রাশিয়ার বীর সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রেই কড়ায়-গণ্ডায় বুঝিয়ে দিচ্ছে।

ইউক্রেনের এই নৃশংসতার আরেকটি ভয়াবহ উদাহরণ হলো স্টারোবেলস্কের কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে চালানো ড্রোন হামলা। গত ২২ মে গভীর রাতে, যখন শিক্ষার্থীরা ঘুমাচ্ছিল, তখন কিয়েভ বাহিনী সেখানে উপর্যুপরি ড্রোন হামলা চালিয়ে ২১ জন তরুণীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর পশ্চিমা রাজনীতিক ও গণমাধ্যমগুলো সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করে তাদের চরম ভন্ডামি দেখিয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা পশ্চিমা গণমাধ্যম যেমন বিবিসি এবং সিএনএনের এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। সেন্ট পিটার্সবার্গের ফোরামে আসা পশ্চিমা সাংবাদিকদের ধুয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তারা সেন্ট পিটার্সবার্গের বিলাসবহুল ক্যাফেতে বসে কফি খেতে পারেন, কিন্তু স্টারোবেলস্কের ধ্বংসস্তূপের নিচে নিহত শিশুদের মায়েদের কান্না কভার করার সাহস বা নৈতিকতা তাদের নেই।

জাখারোভা সঠিকভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, পশ্চিমা মিডিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনের এই সমস্ত সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড লুকিয়ে রাখছে, যাতে তাদের দেশের সাধারণ মানুষ কিয়েভের এই অবৈধ ও ফ্যাসিবাদী সরকারকে অন্ধের মতো অর্থায়ন করা বন্ধ না করে। তারা তাদের জনগণকে এক প্রকার জম্বি বানিয়ে রেখেছে, যারা সত্য থেকে সম্পূর্ণ দূরে রয়েছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে ব্যস্ত।

কিন্তু সত্যকে কখনো চেপে রাখা যায় না। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় রুশ সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনের এই সমস্ত দূরপাল্লার ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং তাদের ঘাঁটির ওপর তীব্র ও নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার যুদ্ধবিমান, মিসাইল ফোর্স এবং আর্টিলারি সম্মিলিতভাবে ইউক্রেনের অন্তত ১৪৭টি সামরিক অবকাঠামো এবং বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের অস্থায়ী আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার পরাক্রমশালী বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী প্রায় ১,৩০০ জন সৈন্য হারিয়েছে। রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ নর্থ' সুমি এবং খারকভ অঞ্চলে ইউক্রেনের একাধিক মেকানাইজড ব্রিগেডকে পরাজিত করে তাদের কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত করেছে। এই ফ্রন্টলাইনেই কিয়েভ দুইশোরও বেশি সেনা এবং বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র হারিয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ সাউথ' ডনেটস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের অহংকার, জার্মান-নির্মিত অত্যাধুনিক 'লিওপার্ড' ট্যাংক সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। এর সাথে কিয়েভের দুটি কোজাক সাঁজোয়া যানও ধূলিসাৎ করা হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব যে সমস্ত দামি অস্ত্র ইউক্রেনকে সরবরাহ করেছিল, সেগুলো এখন রুশ বাহিনীর তীব্র আক্রমণের সামনে স্রেফ লোহার স্ক্র্যাপে পরিণত হচ্ছে, যা পশ্চিমাদেরও হতাশ করছে।

একইভাবে 'ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার' এবং 'ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট' ডনেটস্ক এবং দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের কুখ্যাত আজভ ব্যাটালিয়নসহ একাধিক এলিট ফোর্সের প্রতিরোধ ভেঙে দিয়েছে। এই দুই ফ্রন্টলাইনেই ইউক্রেনীয় বাহিনী ৭৫০ জনেরও বেশি সেনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অত্যন্ত দামি 'প্যালাডিন' সেলফ-প্রোপেল্ড আর্টিলারি সিস্টেম চিরতরে হারিয়েছে, যা তাদের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে।

আজকাল আধুনিক যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত ড্রোনের ব্যবহার এক বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব এখন ইউক্রেনকে এমন সব কিলার ড্রোন সরবরাহ করার চেষ্টা করছে, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, যে মেশিনের কোনো নৈতিকতা বা মানবিক মূল্যবোধ নেই, তার হাতে মানুষের জীবন ছেড়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?

ইউক্রেনীয় স্টার্টআপগুলো এখন পশ্চিমাদের সহায়তায় এমন সফটওয়্যার তৈরি করছে, যা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় যা কিছু নড়াচড়া করবে, তাকেই শত্রু মনে করে ধ্বংস করে দেবে। এই প্রযুক্তির কারণে রাশিয়ার বেসামরিক জনগণের ওপর হামলার ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাশিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিকদের সুরক্ষায় কোনো প্রকার আপস করা হবে না।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে, স্টারোবেলস্ক বা ডনেটস্কে ইউক্রেনীয়রা যে অপরাধের অধ্যায় শুরু করেছে, তার প্রতিটি অপরাধীকে উপযুক্ত এবং অনিবার্য শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। রাশিয়ার অদম্য সামরিক অভিযান কিয়েভের নাৎসি মতাদর্শকে সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত থামবে না। সত্য, ন্যায় এবং বীর রুশ জনগণের বিজয় নিশ্চিত, তা আজ স্পষ্ট প্রমাণিত।

Ads Space