আজ ১৯ জানুয়ারি শহিদ জিয়ার ৯০তম জন্মবার্ষিকী
আব্দুল্লাহ আল মাসুম প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০১ এএম

“যে মানুষ চোখে চোখ রেখে সাম্রাজ্যবাদকে কথা শুনিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আজ বলবো সেই দিনটির গল্প, যেদিন দিল্লির বুক কেঁপেছিল।”
প্রবাদ আছে, “সাহসী পুরুষের কথা ইতিহাস লিখে রাখে।” বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন এক নাম, যিনি সাহস দিয়ে ইতিহাস লিখেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আজ আমরা ফিরে যাবো ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বর মাসে, দিল্লির বুকে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায়, যেখানে বাংলাদেশের সম্মান রক্ষা করতে একাই অটল দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
১৯৭৭ সালের ২০ ডিসেম্বর। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিন। মাত্র একচল্লিশ বছর বয়সী বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে যে সম্মান ও প্রটোকল দেওয়া হচ্ছিল, তা ভারতের অনেক প্রবীণ নেতার চোখে ছিল অসহ্য। এই দৃশ্য দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে চাপা অস্বস্তি তৈরি করেছিল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই, রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী—সবাই নীরবে দেখছিলেন কীভাবে এক তরুণ বাংলাদেশি রাষ্ট্রনায়ক কূটনৈতিক মঞ্চে সমান মর্যাদায় দাঁড়াচ্ছেন। এই সম্মান ভারতের অহংকারী মানসিকতায় আঘাত করেছিল।
এই অস্বস্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটান ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জগজীবন রাম। তিনি প্রটোকল ভেঙে, শালীনতা ভুলে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন জনসংখ্যা ও মিলিটারি শক্তির তুলনা টেনে। প্রশ্নের ভাষায় ছিল তাচ্ছিল্য, কণ্ঠে ছিল ঔদ্ধত্য।
তিনি জানতে চান, বাংলাদেশ দখল করতে ভারতের কত সময় লাগবে। এটি ছিল কেবল প্রশ্ন নয়, বরং একটি মানসিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা। অনেক রাষ্ট্রনায়ক এই মুহূর্তে কূটনৈতিক ভদ্রতার আড়ালে চুপ করে যেতেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান সেই মানুষ ছিলেন না।
প্রেসিডেন্ট জিয়া স্থির চোখে তাকিয়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দেন। তাঁর কথায় কোনো উত্তেজনা ছিল না, ছিল আত্মবিশ্বাস। তিনি বুঝিয়ে দেন, বাংলাদেশকে দুর্বল ভেবে নেওয়া ভারতের জন্য ভুল হবে। এই আত্মবিশ্বাসই ছিল তাঁর আসল শক্তি।
জিয়ার বক্তব্য ছিল একটি সতর্কবার্তা, কোনো হুমকি নয়। এটি ছিল আত্মরক্ষার দর্শন, জাতীয় মর্যাদার কথা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ইতিহাসে শক্তির অহংকার সবসময় বিজয় এনে দেয় না। এই মুহূর্তে কক্ষে নেমে আসে গভীর নীরবতা।
জগজীবন রাম কোনো জবাব না দিয়ে উঠে চলে যান। তাঁর সঙ্গে থাকা ভারতের অভিজ্ঞ কূটনীতিকরাও হতভম্ব হয়ে পড়েন। বিষয়টি দ্রুত পৌঁছে যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কানে। দিল্লির শীর্ষ মহলে শুরু হয় অস্থিরতা ও আলোচনা।
কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী দেশাই ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাজপেয়ী উপস্থিত হন। তাঁরা প্রেসিডেন্ট জিয়ার মনোভাব জানতে চান। জিয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলেন, এটি ছিল কেবল কথোপকথন। এই শান্ত ভঙ্গিই দেখায় তাঁর কূটনৈতিক পরিপক্বতা।
প্রেসিডেন্ট জিয়ার পাশে বসা বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা প্রথমে শঙ্কিত হলেও পরে বুঝতে পারেন, তাঁদের নেতা কতটা দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানতেন কখন কঠোর হতে হয়, কখন শান্ত থাকতে হয়। এই ভারসাম্যই একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কের পরিচয়।
এর আগেই পানি বণ্টন চুক্তিতে কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থান অর্জন করেছিল। ভারত বুঝতে পেরেছিল, এই তরুণ প্রেসিডেন্ট শুধু সাহসী নন, কৌশলীও। জিয়াউর রহমান প্রমাণ করেছিলেন, বাংলাদেশ আর কারো ছায়ায় চলবে না।
এই ঘটনা কোনো যুদ্ধের গল্প নয়। এটি আত্মসম্মানের গল্প। এটি দেখায়, কীভাবে একটি ছোট দেশও দৃঢ় নেতৃত্বে বড় শক্তির চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে। জিয়া সেই মানসিক স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
জিয়াউর রহমান ছিলেন সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক। তাঁর রাজনীতি ছিল বাংলাদেশের স্বার্থকেন্দ্রিক। তিনি কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করেননি। এই কারণেই তিনি সমর্থকদের কাছে কিংবদন্তি, আর সমালোচকদের কাছে অস্বস্তির নাম।
আজ ১৯ জানুয়ারি তাঁর জন্মদিনে আমরা কেবল একজন মানুষকে স্মরণ করছি না, স্মরণ করছি এক ধরনের রাজনীতি। যে রাজনীতি আত্মমর্যাদার, যে রাজনীতি আপোসহীন। বর্তমান প্রজন্মের জন্য এটি একটি শক্তিশালী বার্তা।
বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক নেতা এসেছেন, কিন্তু সবাই রাষ্ট্রনায়ক হতে পারেননি। জিয়া হয়েছিলেন কারণ তিনি সিদ্ধান্ত নিতে জানতেন এবং সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকতেন। দিল্লির সেই দিন তার প্রমাণ।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হোক সমতার ভিত্তিতে—এই দর্শনেই বিশ্বাস করতেন জিয়া। তিনি সংঘাত চাননি, কিন্তু দুর্বলতা দেখাতেও রাজি ছিলেন না। এই ভারসাম্য আজও প্রাসঙ্গিক।
একটি জাতির আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে নেতৃত্ব দেখে। জিয়াউর রহমান সেই আত্মবিশ্বাস উপহার দিয়েছিলেন। তাঁর কণ্ঠে বাংলাদেশ কথা বলেছিল, মাথা উঁচু করে।
আজ অনেকেই প্রশ্ন করেন, এমন নেতৃত্ব কোথায়? ইতিহাস আমাদের শেখায়, নেতৃত্ব তৈরি হয় সাহস আর নৈতিকতা দিয়ে। জিয়া সেই দুই গুণেই অনন্য ছিলেন।
এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা শুধু মানচিত্রে নয়, মনেও থাকতে হয়। জিয়াউর রহমান সেই মানসিক স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন।
আজ তাঁর নব্বইতম জন্মদিনে বলি—জিয়া মানে সাহস, জিয়া মানে আত্মমর্যাদা। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, এই নাম ইতিহাসে উচ্চারিত হবে সম্মানের সাথে।
সৈনিক হয়ে ওঠা - ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়িতে জন্ম নেওয়া জিয়াউর রহমানের শৈশব কেটেছে তৎকালীন ভারত ও পাকিস্তানের নানা ভূগোল আর রাজনৈতিক বাস্তবতার ভেতর দিয়ে। কলকাতা ও করাচিতে পড়াশোনা শেষে তরুণ জিয়া বেছে নেন সামরিক জীবন। ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান ও ১৯৫৫ সালে কমিশন লাভের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার পেশাদার সৈনিকজীবন। ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সাহসিকতা তাকে এনে দেয় ‘হিলাল-ই-জুরাত’ খেতাব। কিন্তু এই পদকপ্রাপ্ত পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাই মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ইতিহাসের সম্পূর্ণ বিপরীত পাশে দাঁড়ান— একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম ঘোষণা দিয়ে।
মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসের সন্ধিক্ষণ - ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে যখন পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করে, তখন জিয়াউর রহমান আর কেবল একজন সেনা কর্মকর্তা নন, তিনি হয়ে ওঠেন বিদ্রোহী। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তার কণ্ঠে ভেসে আসে স্বাধীনতার ঘোষণা। এই ঘোষণা শুধু সামরিক বিদ্রোহের আহ্বান ছিল না; এটি ছিল ভীতসন্ত্রস্ত জাতির জন্য সাহসের প্রথম উচ্চারণ। মুক্তিযুদ্ধে তিনি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেন এবং ‘জেড ফোর্স’ গঠন করে সংগঠিত সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যুদ্ধশেষে ‘বীর উত্তম’ খেতাবপ্রাপ্ত এই সেনানায়ক হয়ে ওঠেন জাতির কাছে এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রবেশ - স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ একের পর এক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ১৯৭৫ সালের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন। ৭ নভেম্বরের পরিবর্তনের পর তিনি ধীরে ধীরে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। এই পর্যায়ে তার সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি ক্ষমতাকে কেবল সামরিক শাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং, রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে উদ্যোগী হন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ‘বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তন’।
বিএনপি প্রতিষ্ঠা - একদলীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে তিনি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পথ খুলে দেন। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তিনি বিশ্বাস করতেন, গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং বিরোধী কণ্ঠের অস্তিত্ব নিশ্চিত করাও গণতন্ত্রের অংশ। এই কারণে তার আমলে সংবাদপত্রের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হয়, রাজনৈতিক পরিসর তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত হয়।
উন্নয়ন দর্শন: গ্রাম থেকে রাষ্ট্র - জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল গ্রাম। ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি, খাল খনন, সেচ প্রকল্প, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা- সবকিছুর লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। তিনি আত্মনির্ভরতার কথা বলতেন, উৎপাদনের রাজনীতির কথা বলতেন। তার বিখ্যাত আহ্বান, আরও বেশি উৎপাদন, আরও বেশি কাজ—যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের জন্য বাস্তববাদী দিকনির্দেশনা ছিল। কৃষি ও শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধির চেষ্টা চালানো হয়, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেওয়া হয়।
নারী ও সমাজ - জিয়াউর রহমানের শাসনামলে নারী উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। পুলিশে নারীর অন্তর্ভুক্তি, মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, সংসদে সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি— এসব পদক্ষেপ তৎকালীন সমাজ বাস্তবতায় উল্লেখযোগ্য ছিল। সেইসঙ্গে যৌতুকবিরোধী আইন, যুব উন্নয়ন কর্মসূচি, প্রাথমিক ও বয়স্ক শিক্ষা বিস্তারের উদ্যোগ সামাজিক রূপান্তরের ইঙ্গিত বহন করে।
জাতীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রচিন্তা - ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ধারণাটি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম কেন্দ্রীয় উপাদান। তিনি জাতীয় পরিচয়কে কেবল ভাষাভিত্তিক নয়, রাষ্ট্রভিত্তিক ও সার্বভৌমত্বকেন্দ্রিক দেখতে চেয়েছিলেন। সংবিধানে আনা পরিবর্তনগুলো— ধর্মীয় বিশ্বাসের উল্লেখ, মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সংহতির নীতি, সমর্থন ও সমালোচনা উভয়ই জন্ম দিয়েছে। তবে এতে সন্দেহ নেই, এসব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তাকে নতুন এক দিকে মোড় নিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জিয়া -দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতার স্বপ্ন থেকেই সার্কের ধারণা উঠে আসে। মুসলিম বিশ্ব, চীন, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন তিনি। তার কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একমুখী নির্ভরতা থেকে বহুমাত্রিকতায় নিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ড ও অসমাপ্ত অধ্যায় - ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে থেমে যায় তার জীবন। চার বছরের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন—সময়টা ছিল অল্প, কিন্তু প্রভাব ছিল দীর্ঘস্থায়ী। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে। অনেকের কাছে তিনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক, আবার অনেকের কাছে বিতর্কিত শাসক—এই দ্বৈত মূল্যায়নই হয়তো তার রাজনৈতিক গুরুত্বের প্রমাণ।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘শহিদ জিয়া ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক। তার দেশপ্রেম, সাহস, সততা আর সহজ-সরল-অনাড়ম্বর জীবনযাপন আজও আমাদের জন্য আদর্শ। সমাজে যেকোনো ব্যক্তির মহৎ চরিত্র গঠনে শহিদ জিয়া হচ্ছেন এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রমিত আজাদ সারাবাংলাকে বলেন, “জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য ‘সিন্থেসিস’ বা সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো- তিনি রাজনীতিকে ড্রয়িংরুম থেকে বের করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন। যখন দেশ একদলীয় শাসনের আবর্তে ছিল, তখন তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক আকাশকে উন্মুক্ত করেছিলেন। তার ‘১৯ দফা’ কর্মসূচি ছিল আধুনিক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ব্লু-প্রিন্ট। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠনে তার ভূমিকা আজও অনস্বীকার্য।’