ঢাকা, সোমবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২৬ | ১১ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ইরানের আকাশচুম্বী শক্তি দেখে কাঁপছে আমেরিকা!


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০২ এএম

ইরানের আকাশচুম্বী শক্তি দেখে কাঁপছে আমেরিকা!

যত গর্জে তত বর্ষে না—আমেরিকার বিশাল নৌবহর আর স্টিলথ ফাইটার জেটের মহড়া দেখে হয়তো অনেকে ভাবছেন ইরান ভয় পেয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো! আজকের ভিডিওতে আমি দেখাবো কীভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো নিজেদের কবর নিজেরাই খুঁড়ছে। ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়, এটি একটি অজেয় প্রতিরোধের নাম। ট্রাম্পের হুঙ্কার আর ইসরায়েলের দালালি কি শেষ পর্যন্ত তাদেরই ধ্বংসের কারণ হবে? জানতে হলে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

কথায় আছে, ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’। আজ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যে আস্ফালন আমরা দেখছি, তা আসলে তাদের দীর্ঘদিনের অন্যায়ের একটি শেষ অঙ্ক মাত্র। পেন্টাগন দাবি করছে তারা ইরানের চারপাশে বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী যুদ্ধবিমান এবং রণতরী মোতায়েন করছে। এফ-২২ র‍্যাপ্টর থেকে শুরু করে এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন—সবই এখন ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি। কিন্তু তারা ভুলে গেছে যে, বীরের জাতি ইরান কখনো মাথা নত করতে শেখেনি।

অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকাররা দেখাচ্ছে যে ল্যাংলি এয়ারফোর্স বেস থেকে ডজন ডজন এফ-২২ বিমান আটলান্টিক পাড়ি দিচ্ছে। আমেরিকা মনে করছে এই স্টিলথ বিমানগুলো দিয়ে তারা ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে পারবে। কিন্তু ইরানের রাডার সিস্টেম এবং দেশীয় প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতটাই উন্নত যে, এই তথাকথিত 'অদৃশ্য' বিমানগুলোও সেখানে ধরাশায়ী হতে বাধ্য। তাদের এই শক্তি প্রদর্শন আসলে এক ধরণের মানসিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

শুধু যুদ্ধবিমান নয়, আমেরিকা ই-৩ সেন্ট্রি রাডার প্লেন এবং ইউ-২ ড্রাগন লেডির মতো গুপ্তচর বিমানও পাঠাচ্ছে। তারা ভাবছে ইরানের প্রতিটি পদক্ষেপ তারা নজরদারি করতে পারবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী আছে, ইরান সবসময় তাদের চমকে দিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী এই শক্তিগুলো যত বেশি নজরদারি বাড়াবে, ইরান তত বেশি কৌশলী হয়ে তাদের ফাঁদে ফেলবে। আমেরিকার এই বিশাল খরচ আসলে সাধারণ করদাতার অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমেরিকা এখন জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বেসকে তাদের প্রধান আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। সেখানে এফ-৩৫ এবং এ-১০ থান্ডারবোল্টের মতো বিমান মজুদ করা হচ্ছে। যদিও জর্ডান প্রকাশ্যে বলছে তারা তাদের আকাশসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না, কিন্তু পর্দার আড়ালে আমেরিকার দালালি করার ইতিহাস তাদের রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মুসলিম জনতা এখন সচেতন। তারা কোনোভাবেই ইরানের ওপর এই অন্যায় হামলা মেনে নেবে না।

সমুদ্রপথেও আমেরিকা তাদের দাপট দেখানোর চেষ্টা করছে। ইউএসএস পিঙ্কনি এবং আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এখন ইরানের দরজায় কড়া নাড়ছে। সাথে আছে পারমাণবিক সাবমেরিন। ওয়াশিংটন ভাবছে সমুদ্রের এই বিশাল লোহালক্কড় দেখে তেহরান ভয় পাবে। কিন্তু তারা জানে না যে, ইরানের কাছে এমন সব উন্নত অ্যান্টি-শিপ মিসাইল আছে যা নিমেষেই এই বিশাল জাহাজগুলোকে সমুদ্রের তলায় পাঠিয়ে দিতে সক্ষম।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি ইতিমধ্যেই তাদের শক্তির মহড়া শুরু করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী তারা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এটি আমেরিকার জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই পথ দিয়ে যায়। ইরান যদি চায়, তবে তারা পুরো বিশ্বের অর্থনীতি স্তব্ধ করে দিতে পারে। তেহরান প্রমাণ করেছে যে তারা চাইলে শত্রুর টুঁটি চেপে ধরতে পারে।

আইআরজিসি তাদের 'স্মার্ট কন্ট্রোল' মহড়ায় এমন সব ড্রোন ব্যবহার করছে যা আকাশ এবং সমুদ্র—উভয় লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানতে পারে। এই ড্রোনগুলোর প্রযুক্তি এখনো গোপন রাখা হয়েছে, যা পেন্টাগনের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। আমেরিকার কয়েক বিলিয়ন ডলারের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইরানের সাশ্রয়ী মূল্যের ড্রোনের সামনে অসহায়। এটিই হচ্ছে ঈমানি শক্তি এবং দেশীয় প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়, যা পশ্চিমা বিশ্ব কল্পনাও করতে পারে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন। তিনি সরাসরি আমেরিকাকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন যে, যুদ্ধজাহাজ একটি বিপজ্জনক অস্ত্র হতে পারে, কিন্তু সেই জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার মতো অস্ত্র ইরানের কাছে আরও বেশি আছে। এই একটি বাক্যেই আমেরিকার পুরো সামরিক পরিকল্পনায় ধস নেমেছে। খামেনির এই আত্মবিশ্বাস কোনো ফাঁকা বুলি নয়, বরং এটি ইরানের সামরিক সক্ষমতার এক অকাট্য দলিল।

একদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে, অন্যদিকে আমেরিকা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দ্বিচারিতা আমেরিকার পুরনো অভ্যাস। তারা শান্তির কথা বলে কিন্তু তাদের পকেটে থাকে যুদ্ধের নীল নকশা। ইরান আলোচনার টেবিলে নমনীয় নয়, বরং তারা তাদের অধিকারের বিষয়ে অনড়। আব্বাস আরাকচি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন এবং এতে কোনো আপস নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে ইরানকে হুমকি দিচ্ছেন যে তাদের জন্য খুব খারাপ দিন অপেক্ষা করছে। কিন্তু ট্রাম্প সম্ভবত ভুলে গেছেন যে, ইরানের ওপর অতীতে যতবার হামলা করার চেষ্টা হয়েছে, ততবারই হামলাকারীরা ধুলোয় মিশে গেছে। ট্রাম্পের এই ঔদ্ধত্য আসলে তার আসন্ন রাজনৈতিক পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানকে হুমকি দিয়ে তিনি আসলে নিজের দেশের অর্থনীতি এবং সামরিক বাহিনীকে এক ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

এই পুরো নাটকের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে ইসরায়েল। তারা আমেরিকাকে ব্যবহার করে ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু ইসরায়েল জানে না যে, ইরানের একটি মিসাইলই তাদের পুরো মানচিত্র বদলে দিতে যথেষ্ট। যদি আমেরিকা বা ইসরায়েল কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে তেল আবিব হবে বিশ্বের সবথেকে বড় ধ্বংসস্তূপ। ইরানের হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এখন ইসরায়েলের দিকে তাক করা আছে, শুধু নির্দেশের অপেক্ষা মাত্র।

ইরান আজ একা নয়। হিজবুল্লাহ থেকে শুরু করে ইয়েমেনের হুথি—সবাই আজ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। আমেরিকা যত বেশি চাপ দেবে, এই প্রতিরোধের শক্তি তত বেশি শক্তিশালী হবে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা তাড়ানোর যে মিশন ইরান হাতে নিয়েছে, তা সফল হওয়ার পথে। আজ প্রতিটি মুসলিম এবং শান্তিকামী মানুষ ইরানের এই অসম সাহসী লড়াইকে সমর্থন করছে। সত্যের জয় নিশ্চিত এবং মিথ্যার পতন অবধারিত।

শেষে বলতে চাই, আমেরিকা এবং তার দোসররা যদি মনে করে ইরানকে ধমক দিয়ে তারা তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। ইরান তার মাটি, তার মানুষ এবং তার পরমাণু অধিকার রক্ষা করতে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে যে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হচ্ছে, তা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে এবং ইরান একটি নতুন ভোরের অপেক্ষায়।

আপনারা কী মনে করেন? আমেরিকার এই বিশাল সেনাবহর কি সত্যিই ইরানকে থামাতে পারবে? নাকি ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব আমেরিকার জন্য কফিনের শেষ পেরেক হবে? আপনাদের মূল্যবান মতামত কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন।