ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২৬ | ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

সাদিক কায়েমের বিষোদগার কি জামায়াতের নীল নকশা? তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে বিএনপিকে দমানোর এক গভীর ষড়যন্ত্র


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:০২ এএম

সাদিক কায়েমের বিষোদগার কি জামায়াতের নীল নকশা? তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে বিএনপিকে দমানোর এক গভীর ষড়যন্ত্র

চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী, আর ষড়যন্ত্রকারীরা বোঝে না গণমানুষের নাড়ির স্পন্দন। ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর যখন দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই আবু সাদিক কায়েমের মতো কিছু মুখচেনা ষড়যন্ত্রকারী মাঠে নেমেছে। এরা কি সত্যিই বিপ্লবের সন্তান, নাকি পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়া জামায়াতের বেতনভুক্ত এজেন্ট? আজ আমরা ফাঁস করব সাদিক কায়েমের সেই ভয়ংকর এজেন্ডা যা সরাসরি বিএনপির অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়।

দেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লবের পর যখন পুরো জাতি একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই এক গভীর ষড়যন্ত্রের কালো মেঘ আমাদের আকাশে জমাট বাঁধছে। বিশেষ করে আবু সাদিক কায়েমের মতো কিছু স্বঘোষিত নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্য কেবল অবান্তরই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এক চরম হুমকিস্বরূপ বলে সাধারণ মানুষ মনে করছে।

সাদিক কায়েম অতি সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে বিএনপি নাকি শেখ হাসিনার ফেলে যাওয়া ফ্যাসিবাদী রাজনীতি করছে। তার এই দাবি কেবল হাস্যকরই নয়, বরং চরম ধৃষ্টতা। গত ১৫টি বছর রাজপথে রক্ত দিয়েছে কারা? কারাবরণ করেছে কারা? আয়নাঘরের বিভীষিকা থেকে শুরু করে গুম ও খুনের শিকার হয়েছে বিএনপির লক্ষ লক্ষ নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী। আজ হঠাৎ উদয় হওয়া কেউ বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের জ্ঞান দেবে, তা মেনে নেওয়া যায় না।

জুলাই মাসের বিপ্লব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটি ছিল বিএনপির দীর্ঘ দেড় দশকের মরণপণ সংগ্রামের এক চূড়ান্ত বিস্ফোরণ। যখন জননেতা তারেক রহমান দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানালেন, তখনই সাধারণ মানুষ সাহস পেয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। অথচ আজ কিছু স্বার্থান্বেষী নেতা বিএনপিকে বিতর্কিত করার মিশনে নেমেছে। তারা আসলে দেশ ও জাতির প্রকৃত বন্ধু নয়, বরং তারা এক বিশেষ মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী।

সাদিক কায়েমদের আসল পরিচয় ও রাজনৈতিক ভিত্তি আমাদের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। আপনারা যদি একটু ভালো করে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন এই তথাকথিত আন্দোলনের সমন্বয়কদের অনেকেরই আদর্শিক শিকড় প্রোথিত রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর গভীরে। জামায়াত সবসময়ই চায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে। তারা জানে যে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিএনপির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কাছে তারা টিকে থাকতে পারবে না এবং পরাজিত হবে।

তাই জামায়াত এই সব মুখোশধারী তরুণদের ব্যবহার করে দেশে একটি কৃত্রিম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সাদিক কায়েমের মতো ব্যক্তিদের মাধ্যমে তারা এমন সব প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তারা আসলে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তাকে ভয় পায়। গণমানুষের ঢল দেখে তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তাই তারা প্রমাণের অযোগ্য সব মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিএনপিকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সাদিক কায়েম অভিযোগ করেছেন যে তারেক রহমানের পেছনে কর্মীরা কেন দৌড়াচ্ছে। এটি কি কোনো অপরাধ? এটি তো গণমানুষের হৃদয়ের নিংড়ানো ভালোবাসা! বাংলাদেশের মানুষ যখন তাদের প্রিয় নেতাকে দীর্ঘ সময় পর গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে পাচ্ছে, তখন তাদের আবেগ ধরে রাখা অসম্ভব। এটাকে যারা ফ্যাসিবাদ বলে আখ্যা দেয়, তারা আসলে জনগণের পালস বা সাধারণ মানুষের ভালোবাসা কী তা কোনোদিন বুঝতে পারবে না।

সাদিক কায়েম দাবি করেছেন যে বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগেই নাকি আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিচ্ছে। এটি কেবল একটি ডাহা মিথ্যাচারই নয়, বরং এটি বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। বিএনপি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আওয়ামী লীগের খুনি সরকারের হাতে। বিএনপি কখনও খুনি হাসিনাকে পুনর্বাসন করবে না। বরং জামায়াত এবং এই কায়েমরাই চায় বিএনপিকে বিতর্কিত করে অসাংবিধানিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে।

সাদিক কায়েম কি জানেন না যে জামায়াতের অতীত ইতিহাস কতটা কলঙ্কিত? যারা একসময় এদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা আজ গণতন্ত্রের বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছে। তাদের মদদপুষ্ট হয়ে কায়েম সাহেব যখন কথা বলেন, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে সুতাটা আসলে কার হাতে। এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো বিএনপিকে ক্ষমতায় যেতে বাধা দেওয়া এবং দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী করা।

তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের জন্য ইতিমধ্যে ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছেন। যেখানে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে, সাদিক কায়েম এবং জামায়াত সংশ্লিষ্ট এই গ্রুপটি জাতিকে কী উপহার দিচ্ছে? তারা দিচ্ছে কেবল অস্থিরতা ও বিভাজন। তারা চায় বিচার বিভাগ ও সংবিধান নিয়ে এমন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যা সংকট বাড়াবে।

তারা বারবার বলছে যে আবার জুলাই মাসের মতো পরিস্থিতি নেমে আসবে। এটি কি কোনো সরাসরি হুমকি? ছাত্র-জনতা তাদের এই সস্তা ও ভিত্তিহীন হুমকিকে বিন্দুমাত্র ভয় পায় না। দেশবাসী আজ খুব ভালোভাবেই জানে যে বিএনপিই একমাত্র দল যাদের রাষ্ট্র মেরামতের সক্ষমতা ও জনসমর্থন রয়েছে। কোনো ভূঁইফোড় নেতার কথায় এদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না এবং আন্দোলনের বিজয়কে নস্যাৎ হতে দেবে না।

এখন সময় এসেছে সচেতন হওয়ার এবং এই ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করার। সাদিক কায়েমদের মতো যারা জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় এবং বিএনপিকে বিতর্কিত করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। জুলাই বিপ্লব কোনো একক ব্যক্তির বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর পৈতৃক সম্পদ নয়; এটি সারা বাংলাদেশের আপামর মানুষের অর্জন। আর এই অর্জনের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিএনপি সবসময় রাজপথে থাকবে।

শেষে বলতে চাই, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে আমাদের এই অগ্রযাত্রা কোনো অপশক্তি রুখতে পারবে না। সাদিক কায়েমের মতো ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপপ্রচারই বিএনপির অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ, খুব শীঘ্রই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায় ও চক্রান্ত চিরতরে দূর করা সম্ভব হবে।