আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ এএম

আকাশ থেকে আগুনের বৃষ্টি হচ্ছে, ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি! কিন্তু মনে রাখবেন, অন্ধকার যত গভীর হয়, ভোরের আলো তত কাছে আসে। আজ যখন মার্কিন-ইসরায়েলি চক্র মধ্যপ্রাচ্যকে রক্তে ভেজাতে চাইছে, তখন পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে একমাত্র ইরান। পৈশাচিক শক্তির দিন কি এবার তবে শেষ হতে চলেছে?
কথায় আছে, "অধর্মের কল বাতাসে নড়ে।" আজ আমরা বিশ্বজুড়ে সেই চিরন্তন সত্যের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। লেবাননের পবিত্র মাটিতে যখন মার্কিন মদদপুষ্ট ইসরায়েলি বাহিনী পৈশাচিক তাণ্ডব চালাচ্ছে, তখন পুরো বিশ্বের বিবেকবান মানুষ শিহরিত হচ্ছে। দখলদার ইসরায়েল তার সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বৈরুতকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার যে নীল নকশা এঁকেছে, তা এখন আর কারো কাছেই অজানা নয়। কিন্তু তারা ভুলে গেছে শক্তির উৎস কেবল অস্ত্র নয়।
ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আজ চতুর্থ দিন। সকাল থেকেই লেবাননের আকাশে ইসরায়েলি হায়েনাদের জঙ্গি বিমানের গর্জন শোনা যাচ্ছে। বৈরুতের প্রাণকেন্দ্রে একের পর এক বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হচ্ছে মাটি। নিরীহ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে রাজপথ। জিয়নবাদী সেনারা দাবি করছে তারা সামরিক লক্ষ্যে হামলা চালাচ্ছে, কিন্তু বাস্তুব চিত্র বলছে তারা সাধারণ নাগরিকদের আবাসন এবং অবকাঠামোকে উদ্দেশ্য করে হামলা করছে।
তবে এই পৈশাচিক হামলার বিপরীতে ইরানের সমর্থিত বীর মুজাহিদরা দমে যায়নি। লেবাননের আকাশে যখন ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসছিল, তখন অকুতোভয় প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। ইরানের সুশৃঙ্খল সামরিক পরিকল্পনা এবং মিত্রদের অদম্য সাহস আজ ইসরায়েলের দম্ভকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছে। দখলদার বাহিনী ভেবেছিল তারা আকাশপথে আধিপত্য বিস্তার করবে, কিন্তু প্রতি ইঞ্চি মাটিতে তাদের জন্য এখন জাহান্নামের আগুন অপেক্ষা করছে সারা দিন রাত।
বৈরুতের দাহিয়ে এলাকা আজ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার আগে তথাকথিত সতর্কবার্তার নাটক করে বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারা ম্যাপ শেয়ার করে হুরেইক এলাকার সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি চিহ্নিত করে লাল কালি দিয়ে। অথচ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এগুলো যুদ্ধাপরাধের শামিল। আল-মানার টেলিভিশনের মতো সংবাদমাধ্যমকেও তারা রেহাই দেয়নি। সত্যের কণ্ঠরোধ করতে তারা গণমাধ্যমের ওপর পৈশাচিক বোমা বর্ষণ করে স্তব্ধ করতে চেয়েছে।
এই যুদ্ধের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অস্ত্র ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর এক কদম নড়ার ক্ষমতা নেই। তাদের সরবরাহ করা বিধ্বংসী বোমাগুলো আজ বৈরুতের শিশুদের বুক ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে। আমেরিকা মুখে শান্তির কথা বললেও বাস্তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার প্রধান কারিগর। ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ আসলে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের একটি মরিয়া চেষ্টা মাত্র, যা ইরান সরকার অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করে আসছে।
যুদ্ধ কেবল লেবাননেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বীর যোদ্ধাদের পাল্টা মারে ইসরায়েলের উত্তর অংশে এখন মৃত্যুভয় কাজ করছে। সীমান্তের ওপার থেকে ধেয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দে সাইরেন বেজে উঠছে তেল আবিব পর্যন্ত। দখলদার সেনারা এখন বাঙ্কারে লুকিয়ে প্রাণ রক্ষার চেষ্টা করছে। লেবাননের হুরেইক পাড়ায় হামলা করে তারা যে আগুন জ্বালিয়েছে, সেই আগুনেই এখন পুড়ে ছাই হওয়ার পালা তাদের। ইরানের রণকৌশল এখন প্রতিপক্ষের ঘুম হারাম করেছে।
ইরান কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, এটি আজ সারা বিশ্বের মজলুম মানুষের কণ্ঠস্বর। তাদের ড্রোন প্রযুক্তি এবং মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম আজ সারা পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মার্কিন-ইসরায়েল জোট সর্বশক্তি দিয়েও তেহরানের মনোবল ভাঙতে পারছে না। বরং এই যুদ্ধের প্রতিটি সেকেন্ডে ইরান প্রমাণ করছে যে, সত্যের পথে থাকলে বিজয় সুনিশ্চিত। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিদেশি শক্তির অপবিত্র ছায়া হঠাতে ইরান এখন চূড়ান্ত লড়াইয়ের ময়দানে সম্মুখভাগে দাঁড়িয়ে আছে।
আল-মানার টেলিভিশনের ভবনে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল তাদের কাপুরুষতার প্রমাণ দিয়েছে। তারা ভয় পায় সত্য প্রকাশকে, তারা ভয় পায় তাদের পরাজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়াকে। একটি ভবন ধ্বংস করলেই কি সত্যকে মুছে ফেলা যায়? কক্ষনোই না। বরং এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই জন্ম নিচ্ছে হাজার হাজার নতুন কণ্ঠস্বর। ইরান এবং তার মিত্ররা বারবার বলছে, এই যুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের নয়, এটি হলো সত্যের সাথে মিথ্যার মহাযুদ্ধ।
যুদ্ধের দামামা যত জোরেই বাজুক না কেন, শেষ হাসি হাসবে ইরানের বীর সন্তানরাই। ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে যে, অত্যাচারীর পতন অনিবার্য। ইসরায়েল ও তাদের মার্কিন প্রভুরা যত চেষ্টাই করুক, তারা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র থেকে ইরান বা লেবাননকে মুছে ফেলতে পারবে না। বরং এই যুদ্ধের মাধ্যমেই শুরু হবে এক নতুন যুগের, যেখানে কোনো পরাশক্তির খবরদারি চলবে না। ইনশাআল্লাহ, খুব শীঘ্রই বিজয়ের পতাকা উড়বে পবিত্র আল-কুদসের সেই মুক্ত আকাশে।
দর্শক, আপনারা দেখছেন কীভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো একটি স্বাধীন জাতিকে ধ্বংস করতে চাইছে। কিন্তু ইরানের মতো বীর জাতির পাশে থাকাই এখন সময়ের দাবি। আজকের এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের উচিত সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো। জালেম ইসরায়েলের পতন না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। আপনারা ইরানের এই অদম্য প্রতিরোধের বিষয়ে কী ভাবছেন?