আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ এএম

অন্ধকার রাতে প্রদীপ জ্বালালে যেমন মশা আসে, তেমনি দুর্বলতা দেখালে শত্রুরাও জেঁকে বসে। আপনারা কি জানেন? স্পেনের আকাশ থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে! হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনছেন। ইরানের ভয়ে আমেরিকা এখন তাদের সুরক্ষিত ঘাঁটিগুলোও হাতছাড়া করছে। এটা কেবল স্পেনের ঘটনা নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিনিদের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। আজ আমরা উন্মোচন করব কেন আমেরিকা ভীত আর কেন আরব শাসকরা বোকার স্বর্গে বাস করছে!
শুরুতেই বলি, স্পেনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। স্পেনের সরকার বুঝতে পেরেছে, মার্কিনিদের সামরিক ঘাঁটি রাখা মানেই বিপদকে আমন্ত্রন জানানো। ইরানের প্রবল পরাক্রমের ভয়ে তারা সরাসরি আমেরিকাকে বলছে, আপনাদের আস্তানা খালি করুন! এই মার্কিন 'কামড়াকামড়িতে' তাদের সার্বভৌমত্ব যে প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তা স্পেনের সচেতন নাগরিকরা কিছুতেই মেনে নেবে না। আঘাত আসার আগেই স্পেন চালাকির পরিচয় দিল।
আমরা দেখছি কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, দুবাই, বাহরাইন এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো আজ চরম ঝুঁকির মুখে। ইরান বারবার বার্তা দিচ্ছে, তাদের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিনীদের স্থায়ীভাবে বিদায় করা। অথচ, আমাদের তথাকথিত আরব দেশগুলো এখনো বোকার মতো আমেরিকার পদলেহন করে যাচ্ছে। তারা কি বোঝে না যে, মার্কিনিরা শুধু ব্যবহার করবে, কিন্তু বিপদের সময় কাউকে বাঁচাবে না?
সৌদি, দুবাই বা ওমানের শাসকরা ভাবছে তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লড়ে আমেরিকাকে রক্ষা করবে। কত বড় ভুল তাদের! ইরানের মিসাইল আর ড্রোন টেকনোলজি আজ বিশ্বসেরা। অথচ এই শাসকরা নিজেদের নিরাপত্তা না খুঁজে, পরকে তোষামোদ করতে ব্যস্ত। ইরান যেটা করছে, তা হলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিনাশ। আরব দেশগুলো চাইলে স্পেনের মতোই সাহসী হয়ে বলত, তোমরা চলে যাও!
ঠিক এই সুযোগে মার্কিনিদের সহজে বিতারিত করার সময় ছিল তাদের কাছে। কিন্তু তারা তা করবে না, কারণ তাদের মেরুদণ্ড নেই। ইরান এবং তুরস্ক বাদে পুরো মুসলিম বিশ্ব আজ চরম মূর্খতায় ডুবছে। আল্লাহ আরবদের প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়েছেন, আর সেই সম্পদ বিক্রি করে তারা এখন বিলাসিতায় মত্ত। তারা কি করছে? তারা মদ, নারী আর বিলাসিতাই মগ্ন। বড় বড় দালান বানাচ্ছে, কিন্তু মানুষের মান বাড়ছে না।
সত্যি বলতে, ইতিহাস, বাস্তবতা, বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির ব্যাপারে এই শাসকদের জ্ঞান একদম শূন্য। তারা ভবিষ্যতের কথা ভাবে না, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছুই রাখে না। আজ তরুণদের বলছি, আপনারা জেগে উঠুন! দয়া করে পড়াশোনা করুন। রাজনীতি, ইতিহাস, বিজ্ঞান, টেকনোলজি এবং মেডিকেল নিয়ে গবেষণা করুন। দালান কোঠা নয়, বরং জ্ঞানই মানুষের প্রকৃত শক্তি।
ডার্টি পলিটিক্সে ঢুকে ছাত্রনেতা বা সভাপতি হওয়ার পেছনে সময় নষ্ট করবেন না। নিজের জীবনকে মূর্খতার আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলবেন না। আজকে পুরো বিশ্বের মুসলিমরা সব দিক থেকে পিছিয়ে আছে কেন জানেন? কারণ আমরা পড়ালেখা করি না। আমরা বিজ্ঞানী বা বুদ্ধিজীবী হতে চাই না। বিশ্ব রাজনীতি এবং আগামী দিনের পৃথিবী নিয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা শুধু স্রোতে গা ভাসাই।
শেষ কথা হলো, সময় থাকতে সচেতন হোন। ইরান দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে আধিপত্যবাদকে রুখে দিতে হয়। যদি আমরা বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিতে শ্রেষ্ঠ হতে পারি, তবেই আমাদের সম্মান ফিরবে। আমেরিকার তাঁবেদারি ছেড়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ান। ইতিহাস সাক্ষী, যারা জ্ঞান ও সাহসের চর্চা করেছে, তারাই টিকে আছে।