আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ এএম

গাজায় যখন হাজার হাজার শিশুর রক্তে আকাশ লাল হচ্ছে, ঠিক তখনি কেন ইরানে হামলা করল ইসরায়েল? এটি কি নিছক সামরিক লড়াই, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র? পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি বিস্ফোরক টুইট কাঁপিয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। খুনি নেতানিয়াহু কি গাজার গণহত্যা আড়াল করতেই নতুন ফ্রন্ট খুলল? সত্যটা জানতে পুরো ভিডিওটি দেখুন।
প্রবাদ আছে, "চোরের মন পুলিশ পুলিশ।" যারা নিজেরা অপরাধ করে, তারা সবসময় চায় অন্য কোনো গোলমাল পাকিয়ে মানুষের চোখ ফাঁকি দিতে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরাধী এবং খুনি রাষ্ট্র ইসরায়েল ঠিক এই কাজটিই করছে। গাজায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর যে পৈশাচিক এবং বর্বরোচিত হামলা তারা চালাচ্ছে, সেখান থেকে বিশ্বের মানুষের নজর সরাতেই তারা ইরানে হামলার নাটক মঞ্চস্থ করেছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ইরানের ওপর আক্রমণ চালিয়েছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব গণমাধ্যমের ক্যামেরাকে গাজা থেকে সরিয়ে ইরানের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। এর ফলে ইসরায়েল নির্বিঘ্নে গাজায় তাদের খুনি মিশন এবং ভয়াবহ গণহত্যার এজেন্ডা চালিয়ে যেতে পারবে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের প্রধান খবর এখন ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা। অথচ কিছুদিন আগেও প্রতিদিন গাজার বিধ্বস্ত হাসপাতাল এবং শিশুদের লাশের খবর শিরোনামে থাকতো। খাজা আসিফ মনে করেন, এটি নেতানিয়াহুর একটি সূক্ষ্ম চাল। গাজা এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের যে গণহারে হত্যা করা হচ্ছে, সেই খবর যেন চাপা পড়ে যায়, সেজন্যই এই সংঘাতকে অন্য দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো বরাবরই ইসরায়েলের এই অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। তারা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার অজুহাতে ইসরায়েলকে আধুনিক অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে। অথচ এই অস্ত্রগুলো দিয়েই গাজায় হাজার হাজার নারী ও শিশুকে হত্যা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের এই দ্বিমুখী নীতি এখন স্পষ্ট। তারা ইরানকে উস্কানি দিয়ে বড় যুদ্ধের ভয় দেখিয়ে নিজেদের অপরাধগুলো ঢাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
ইরান সবসময় মজলুম ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। আর এটাই যেন ইসরায়েল ও আমেরিকার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা ছলে-বলে-কৌশলে ইরানকে দুর্বল করতে চায়। খাজা আসিফের বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, পশ্চিমা বিশ্বের নির্লজ্জ সমর্থনে ইসরায়েল এখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে চাইছে, যা পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য এক চরম উদ্বেগের এবং অপমানের বিষয়।
পশ্চিম তীরে বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তা কল্পনাকেও হার মানায়। সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি দখল করে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আর এই পুরো অমানবিক কার্যক্রমটি আড়াল করা হচ্ছে ইরানের সাথে কথিত যুদ্ধের ধোঁয়াশা তৈরি করে। নেতানিয়াহু খুব ভালো করেই জানেন, বিশ্ববাসীর আবেগ যখন ইরানের দিকে থাকবে, তখন তিনি ফিলিস্তিনের মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিনিদের চিরতরে মুছে ফেলার কাজ সহজ করতে পারবেন।
আমাদের বুঝতে হবে যে, এই সংঘাত শুধুমাত্র সীমান্ত রক্ষার লড়াই নয়। এটি হলো সত্য ও মিথ্যার লড়াই। ইরান যেখানে ন্যায়ের পক্ষে আওয়াজ তুলছে, সেখানে ইসরায়েল ও তার মিত্ররা গাজায় ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সাহসী উচ্চারণ আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, খুনি নেতানিয়াহু গাজার রক্তে হাত ধুয়ে এখন ইরানের সাথে নতুন সংঘাতের নাটক করছেন।
এখন সময় এসেছে বিশ্ববাসীর জেগে ওঠার। ইসরায়েলের এই নোংরা গেমপ্ল্যান সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে। গাজার মানুষের আর্তনাদ যেন কোনোভাবেই ইরানের সংঘাতের আড়ালে হারিয়ে না যায়। খাজা আসিফ ঠিকই বলেছেন, এই হামলা কোনো আত্মরক্ষা নয়, বরং এটি হলো গণহত্যাকে নির্বিঘ্ন করার একটি সুনিপুণ কৌশল। আসুন আমরা ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের কণ্ঠস্বর আরও সোচ্চার করি।
নেতানিয়াহুর এই শয়তানি চাল বেশিদিন টিকবে না। গাজার নিরপরাধ মানুষের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। বিশ্ববাসী আজ দেখছে কীভাবে মার্কিন মদদে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক অপরাধ করে চলেছে। ইরান তাদের এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম। ফিলিস্তিনিদের মুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে হলে ইসরায়েলের এই দ্বিমুখী নীতি এবং গণহত্যার রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
শেষে বলা যায়, গাজা থেকে নজর সরাতেই ইসরায়েলের এই ইরানি ফ্রন্ট খোলা। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রতিটি সচেতন মানুষের জন্য একটি সতর্কবাণী। ইসরায়েল ও আমেরিকার এই অশুভ আঁতাত মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের দায়িত্ব হলো সত্যকে তুলে ধরা এবং মজলুমের পাশে দাঁড়ানো। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবেই।