আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

কথায় আছে, 'বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো'—ঠিক তেমনি আমেরিকা আর ইসরায়েল যতবারই ইরানকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, ততবারই তারা খামেনেইর বুদ্ধিমত্তার কাছে পরাজিত হয়েছে। কিন্তু এবার কি সত্যিই তারা সফল হলো? নাকি এটি কেবল একটি অসম যুদ্ধের শুরু? আজকের ভিডিওতে আমরা উন্মোচন করবো সেই সত্য যা পশ্চিমা মিডিয়া আপনার কাছে লুকিয়ে রাখতে চায়!
পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের চোখের বালি এবং ফিলিস্তিন তথা বিশ্বের মজলুম মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে আজ তোলপাড়। ইসরায়েল এবং আমেরিকার এই কাপুরুষোচিত যৌথ হামলার খবরটি কেবল একটি সংবাদ নয়, বরং এটি ইসলামি জাগরণকে থামিয়ে দেওয়ার একটি ঘৃণ্য নীল নকশা। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে তিনি ছিলেন পারস্যের অকুতোভয় পাহারাদার এবং সত্যের ধারক।
১৯৩৯ সালের মাশহাদ শহরে জন্ম নেওয়া এই মহান নেতার রক্তে মিশে ছিল সংগ্রামের বীজ। মাত্র চার বছর বয়স থেকে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা নিয়ে বড় হওয়া খামেনেই জানতেন, একদিন তাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। তার শৈশব কেটেছে কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনে এবং যৌবনে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অগণিত মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণা। তার জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা তাকে বাকিদের থেকে আলাদা করে রেখেছিল।
তৎকালীন ইরানের শাসক শাহ পাহলভি যখন আমেরিকার পুতুল হয়ে দেশকে পশ্চিমা নোংরামিতে ডুবিয়ে দিচ্ছিল, তখন খামেনেই চুপ করে বসে থাকেননি। রুহুল্লাহ খোমিনির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই শুরু করেন। এই সংগ্রামের পথে তাকে অন্তত ছয়বার গ্রেফতার হতে হয়েছে এবং দীর্ঘ তিন বছর সইতে হয়েছে অমানবিক নির্বাসন। তবুও তিনি মাথা নত করেননি কখোনোই।
১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরান যখন রাজতন্ত্রের শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে, তখন খামেনেই ছিলেন সেই বিজয়ের অগ্রসৈনিক। পশ্চিমা বিশ্ব অবাক হয়ে দেখেছিল কীভাবে একজন ধর্মীয় নেতার নেতৃত্বে একটি জাতি পুনর্জন্ম লাভ করে। বিপ্লবের পর থেকে ইরান আর কখনো আমেরিকার গোলামি করেনি, বরং নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে তাদের আসল ক্ষমতা ও নিজস্ব স্বকীয়তা।
সাদ্দাম হোসেন যখন আমেরিকার ইন্ধনে ইরান আক্রমণ করে, তখন খামেনেই সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। ১৯৮১ সালের সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের কথা কি কেউ ভুলতে পারে? যেখানে তাকে হত্যার চূড়ান্ত চেষ্টা করা হয়েছিল। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হাত নিয়েই তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। সেই পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল খোদ বাগদাদের একনায়ক সাদ্দাম।
খামেনেইর যোগ্যতা এবং বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে ইমাম খোমেনি তাকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত করেন। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলেন। ১৯৮৯ সালে খোমিনির প্রয়াণের পর তিনি যখন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন থেকেই শুরু হয় ইরানের আধুনিক সামরিক শক্তির নবদিগন্ত। তিনি হয়ে ওঠেন পশ্চিমাদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন।
ইসরায়েলকে 'ছোট শয়তান' এবং আমেরিকাকে 'বড় শয়তান' বলা এই নেতা কখনোই তাদের হুমকির পরোয়া করেননি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং শক্তিশালী আইআরজিসি বাহিনী গড়ে তুলে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মুসলিম উম্মাহ চাইলে যে কোনো শক্তির মুখোমুখি হতে পারে। ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিদের পেছনে তার নিঃস্বার্থ সমর্থনই ছিল ইজরায়েলের মূল মাথাব্যথার কারণ।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে খামেনেই রাশিয়ার সাথে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলে ওয়াশিংটনকে দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রমাণ করেছে যে, পারস্যের প্রযুক্তি এখন বিশ্বসেরা। পুতিনের সাথে তার বন্ধুত্ব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে, যা আমেরিকার একচেটিয়া আধিপত্যকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন।
পশ্চিমা মিডিয়া সবসময় ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে এসেছে, বিশেষ করে হিজাব বা নীতি পুলিশের ইস্যু নিয়ে। কিন্তু খামেনেই জানতেন, এটি কেবল ইরানের ইসলামি সংস্কৃতি ধ্বংস করার একটি ষড়যন্ত্র। দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি ভাড়াটেদের মাধ্যমে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা তিনি কঠোর হাতে দমন করেছেন। নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি ছিলেন সব সময় আপোষহীন এবং অত্যন্ত কঠোর।
আজকের এই হামলা বা খামেনেইর মৃত্যুসংবাদ যদি সত্যও হয়, তবুও ইরানের ইসলামি আদর্শ এবং প্রতিরোধের আগুন নেভানো সম্ভব নয়। একজন খামেনেইর রক্ত থেকে জন্ম নেবে হাজারো খামেনেই, যারা ইসরায়েল নামক ক্যান্সারকে পৃথিবী থেকে মুছে দেবে। ইরানের এই মহান নেতার ত্যাগ এবং আদর্শ সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য অমর হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ। সত্যের জয় নিশ্চিত এবং অনিবার্য।