আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

আপনি কি ভেবেছিলেন ইরানকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা সম্ভব? ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঠিক একই ভুলটি করেছিলেন! কিন্তু তেহরানের আকাশ থেকে যখন বৃষ্টির মতো ড্রোন আর মিসাইল পড়তে শুরু করলো, তখন হোয়াইট হাউসের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে গেছে। আজকের ভিডিওতে দেখুন কীভাবে ইরানের অদম্য শক্তি আর রণকৌশলের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের দম্ভ!
কথায় আছে, শিকার ধরতে গিয়ে হিসাব ভুল হলে তার মূল্য দিতে হয় ভয়াবহভাবে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত যেন সেই প্রবাদকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে আমাদের। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই একের পর এক আগ্রাসী সিদ্ধান্তে বিশ্ব রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছেন বারবার। কিন্তু ইরানের অকুতোভয় প্রতিরোধের সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের সেই পুরনো দম্ভ আজ চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
কখনও কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে অপমান করা, আবার কখনও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে অন্য দেশ থেকে মানুষ তুলে আনা ট্রাম্পের নিয়মিত কাজে পরিণত হয়েছে। নজিরবিহীন শুল্ক আর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে তিনি বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিতে যখন অনেক দেশ মুখ বুজে সহ্য করছিল, ঠিক তখনই ইরান মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তেহরান প্রমাণ করেছে তারা কারো রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না।
মার্কিন প্রশাসনের একটি বড় ভুল ধারণা ছিল যে ইরানের সামরিক স্থাপনায় সীমিত আঘাত হানলেই তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবতা আজ বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পরপরই শুরু হয় নজিরবিহীন পাল্টা আক্রমণ। ইরান একযোগে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে বুঝিয়ে দিয়েছে যে তাদের সামরিক শক্তিকে খাটো করে দেখার উপায় নেই।
ইরানের এই বহুমাত্রিক যুদ্ধকৌশল আজ অনেক পশ্চিমা বিশ্লেষকের গাণিতিক হিসাবকেই প্রচণ্ড জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরানকে কেবল একটি সাধারণ রাষ্ট্র হিসেবে দেখা। বাস্তবে বহু বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে গড়ে তুলেছে অত্যন্ত বিস্তৃত এবং সুশৃঙ্খল একটি কৌশলগত নেটওয়ার্ক। ইরানের ওপর হামলার পরপরই সেই বিশাল নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা সবার সামনে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
ইরানে হামলার প্রতিবাদে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরাইল সীমান্তে একযোগে রকেট হামলা শুরু করেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরান প্রমাণ করেছে তারা শুধু সরাসরি যুদ্ধই করছে না, বরং প্রক্সি যুদ্ধ ও সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা অনেক বেশি তীব্র হচ্ছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত করে সামরিক সংঘাতের দিকে যাওয়াই মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এখন বড় প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প প্রশাসন কি সত্যিই ইরানের প্রকৃত সামরিক শক্তি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল? ইরানের এই প্রতিরোধ যুদ্ধ বলে দিচ্ছে যে এই সংঘাত শুরু করা সহজ হলেও শেষ করা হবে কঠিন।
ইরান আজ কেবল নিজের ভূখণ্ড রক্ষা করছে না, বরং ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। মার্কিন হুমকি আর ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের মুখে তেহরান আজ মুসলিম বিশ্বের এক অজেয় দুর্গ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি তাদের আগ্রাসন বন্ধ না করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বালুচরে মার্কিন আধিপত্যের কবর রচিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। জয় সবসময় সত্যের পথেই থাকে।