আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৮ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৩ এএম

যে সত্য ধামাচাপা দিতে তারা পুরো পৃথিবীকে যুদ্ধের আগুনে পুড়িয়ে দিতে পারে, সেই সত্য কি তবে সামনে চলে এসেছে? একদিকে এপস্টাইনের ভয়ংকর নথিপত্র, অন্যদিকে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায্য যুদ্ধ—এই দুইয়ের মাঝে লুকিয়ে আছে এক গভীর নীল নকশা। আজ সময় এসেছে সেই মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলার!
চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী, আর জালিম না বোঝে মানবতার বাণী। এটিই বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতাধর পশ্চিমা শক্তিগুলোর আসল রূপ।
আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন যখনই বিশ্বের বড় বড় ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ আর ব্যবসায়ীদের অন্ধকার জগত উন্মোচন হতে শুরু করে, ঠিক তখনই কেন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে? সম্প্রতি এপস্টাইন ফাইলস নিয়ে যখন সারা বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছিল, ঠিক তখনই ইরানকে লক্ষ্য করে উস্কানি দিতে শুরু করল ইসরায়েল। এটি কি কেবলই কাকতালীয় নাকি কোনো বড় ধরণের পরিকল্পিত অপরাধ লুকানোর কৌশল?
এপস্টাইন ফাইলস এমন এক ভাণ্ডার যেখানে বিশ্বের রাঘব বোয়ালদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ রয়েছে। পশ্চিমা মিডিয়া যখন এই নোংরা সত্য ঢাকতে হিমশিম খাচ্ছিল, তখনই তারা যুদ্ধের অজুহাত তৈরি করল। ইরান সবসময়ই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে এসেছে এবং ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টার মূল কারণ হলো পশ্চিমা অপরাধীদের নিজেদের পিঠ বাঁচানোর এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা মাত্র।
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যখনই আমেরিকা বা ইসরায়েলের কোনো বড় কেলেঙ্কারি ফাঁস হতে নেয়, তারা তৎক্ষণাৎ কোনো সংকটের জন্ম দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তারা চায় না বিশ্ববাসী জানুক কারা সেই ক্ষমতাবান ব্যক্তি যারা পর্দার আড়ালে বসে শিশু পাচার আর শোষণের রাজত্ব চালাচ্ছে। এই সত্যগুলো ধুলো চাপা দিতেই তারা আজ ইরানি সীমান্তে অস্থিরতা তৈরি করার নির্লজ্জ সাহস দেখাচ্ছে।
কিন্তু ইরান এখন আর আগের মতো দুর্বল কোনো রাষ্ট্র নয়। তারা জানে কিভাবে এই আগ্রাসন রুখে দিতে হয়। আমেরিকার হুকুমদারী আর ইসরায়েলি জুলুমের দিন শেষ হয়ে আসছে। ইরানের সাহসী নেতৃত্ব আর সামরিক সক্ষমতা আজ পশ্চিমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। তারা ভয় পাচ্ছে কারণ ইরান সত্যের কথা বলে, আর সত্য প্রকাশ পেলে ইসরায়েলি সাম্রাজ্যের তাসের ঘর ভেঙে পড়বে।
পশ্চিমা মিডিয়া দিনরাত চিৎকার করে যুদ্ধের খবর প্রচার করছে যাতে মানুষের মনোযোগ এপস্টাইন ফাইল থেকে সরে যায়। তারা চাচ্ছে আমরা যেন কেবল কামানের গোলা আর মিসাইলের শব্দ শুনি, কিন্তু পর্দার আড়ালের আর্তনাদগুলো ভুলে যাই। এটি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করে তারা চাচ্ছে নিজেদের পাপের বোঝা গোপন রাখতে, কিন্তু সচেতন বিশ্ব আজ আর বোকা নেই।
ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রটি মধ্যপ্রাচ্যে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা সবসময় আমেরিকার মদদে অশান্তি জিইয়ে রাখে। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে থাকে গভীর কোনো স্বার্থ। ইরান যখন এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে, তখন তাদের সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দেওয়া হয়। অথচ আসল সন্ত্রাসী তো তারাই যারা গোপন ফাইলে নাম থাকা অপরাধীদের রক্ষা করতে নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরাতেও দ্বিধা করে না।
ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ আসলে বিশ্বশান্তির বিরুদ্ধে এক বড় আঘাত। আমেরিকা ভাবছে তারা যুদ্ধ লাগিয়ে দিলে এপস্টাইন কেলেঙ্কারি ধামাচাপা পড়ে যাবে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে যে সত্য কোনোদিন লুকিয়ে রাখা যায় না। আলমারিতে জমে থাকা সেই ধুলোবালি আজ ঝেড়ে ফেলার সময় এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিরোধ শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে লাঞ্ছিত আর বঞ্চিত মানুষের জন্য।
বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা কি যুদ্ধের এই সাজানো নাটক দেখে ভুলে যাবেন সেই অপরাধীদের কথা? যারা নিজেদের স্বার্থে গোটা বিশ্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে? ইরান আজ লড়াই করছে সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে যারা সত্যকে ভয় পায়। আমাদের উচিত হবে এই ষড়যন্ত্র বুঝতে পারা এবং ইরানের মতো সাহসী রাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়িয়ে ইনসাফ আর সত্যের লড়াইকে জয়যুক্ত করা।
শেষে বলতে চাই, যারা জেগে আছে তাদের কেউ ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারে না। পশ্চিমা শক্তির এই ধোঁকাবাজি আর বেশিদিন চলবে না। ইরান তার অদম্য শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা সত্যের সন্ধান চালিয়ে যাব এবং কোনো কৃত্রিম সংকট আমাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। জালেমের পতন অনিবার্য এবং সত্যের জয় সুনিশ্চিত, ইনশাআল্লাহ।
আজকের এই ভিডিওর উদ্দেশ্য ছিল আপনাদের চোখ খুলে দেওয়া। পশ্চিমা প্রচারণার ফাঁদে পা না দিয়ে পর্দার আড়ালের আসল ঘটনা বোঝার চেষ্টা করুন। ইরানকে সমর্থন করা মানেই হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। আসুন আমরা সবাই সত্যের পক্ষে কথা বলি এবং এই বিশ্বকে অপরাধমুক্ত করার লড়াইতে শামিল হই।