ঢাকা, রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬ | ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইরানের সেই ভয়ংকর প্রতিশোধের রূপরেখা যা কাঁপিয়ে দিচ্ছে পুরো পশ্চিমাবিশ্ব 


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৮ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৩ এএম

আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইরানের সেই ভয়ংকর প্রতিশোধের রূপরেখা যা কাঁপিয়ে দিচ্ছে পুরো পশ্চিমাবিশ্ব 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার ভেবেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নকে গুঁড়িয়ে দেবে, কিন্তু শেষ হাসি হেসেছিল লাল ফৌজ। আজ ইতিহাস কি আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে? যখন আমেরিকা আর ইসরায়েল মিলে ইরানকে কোণঠাসা করার নীলকশা আঁকছে, তখন তেহরান কি বার্লিনের মতো তেলআবিব দখলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে? চলুন দেখা যাক সত্যের জয় বনাম দম্ভের পরাজয়!

শঠের ছলের অভাব হয় না—এই প্রাচীন প্রবাদটি বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকা এবং তাদের দোসর ইসরায়েলের জন্য সবচাইতে বড় সত্য। ইতিহাসের পাতায় আমরা দেখেছি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি যখন অন্যায়ভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নকে আক্রমণ করেছিল, তখন তারা শুধু শহর নয়, মানুষের স্বপ্নগুলোকেও ধ্বংস করেছিল। মস্কো সেদিন বুঝেছিল, আলোচনার টেবিলে বসে সাম্রাজ্যবাদীদের থামানো অসম্ভব, কারণ শয়তানের সাথে কোনো আপোষ হয় না।

ঠিক একইভাবে আজ ইরানকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে পশ্চিমা হায়েনারা। আমেরিকা শান্তির কথা বলে অথচ তাদের পকেটে থাকে যুদ্ধের বারুদ আর ইসরায়েলের হাতে থাকে নিরপরাধ মানুষের রক্ত। গত বছর জুনে যখন সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, সেটি ছিল আসলে আমেরিকার একটি চাল। ইরান খুব ভালো করেই জানে, সাম্রাজ্যবাদীরা যখন শান্তির কথা বলে, তখন তারা মূলত নিজেদের পরাজয় ঠেকাতে নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে।

ইরান কখনো নিজে থেকে আগে কাউকে আক্রমণ করেনি, এটা তাদের হাজার বছরের গৌরবময় ইতিহাস। কিন্তু যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন সিংহের গর্জন থামানো যেমন অসম্ভব, ইরানের প্রতিরোধও ঠিক তেমনই অপ্রতিরোধ্য। ইসরায়েল নামক বিষফোড়াটি মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে তেহরান এখন বদ্ধপরিকর। তাদের কাছে এই যুদ্ধ শুধু সীমানা রক্ষার নয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের ঝাণ্ডা ওড়ানোর চূড়ান্ত লড়াই।

আমেরিকা বার বার আলোচনার কথা বলে ইরানকে ধোঁকা দিতে চেয়েছে, যেন ইসরায়েল তার ক্ষতবিক্ষত সামরিক বাহিনীকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু ১৯৪৪ সালের মস্কোর মতো তেহরান আজ পরিষ্কার বুঝে গেছে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি কেবল তখনই হবে যখন আগ্রাসনকারীদের দম্ভ ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে। যুদ্ধবিরতি মানেই ঝড়ের আগের নীরবতা, আর সেই ঝড় হবে তেলআবিব এবং ওয়াশিংটনের পতন ঘণ্টা।

ইরানের প্রতিটি মিসাইল আজ সাম্রাজ্যবাদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে। ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষের রক্তের বদলা নিতে তেহরান যে সংকল্প করেছে, তা থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। ইহুদিবাদী শক্তির অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আজ ইরানের ড্রোনের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ঈমানের শক্তির কাছে আধুনিক মারণাস্ত্র কোনো বাধা হতে পারে না। বিজয় এখন কেবল সময়ের ব্যবধানে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আসা কঠোর হুঁশিয়ারি এখন বিশ্বের আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তাদের স্লোগান একটাই—হয় বিজয়, নয়তো শাহাদাত। বর্তমান এই সংকটময় মুহূর্তে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে তারা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না। "মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন"—এই আদর্শে বলীয়ান হয়ে তারা আজ ময়দানে নেমেছে। ইসরায়েলের পতন এখন অবশ্যম্ভাবী এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ন্যায়ের জয় সুনিশ্চিত হবে।

শেষে বলা যায়, যারা অন্যকে ধ্বংস করতে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত নিজেরাই ধ্বংস হয়। জার্মানির পতন যেভাবে বার্লিনে নিশ্চিত হয়েছিল, বর্তমান আগ্রাসী শক্তিগুলোর পতনও তেমনি অনিবার্য। ইরান আজ মজলুমের কণ্ঠস্বর হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সারা বিশ্বের শোষিত মানুষের মনে আশার আলো জ্বালাচ্ছে। আমেরিকার দালালি আর ইসরায়েলের সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের দিন শেষ হয়ে আসছে। সত্যের জয় হবেই হবে, ইনশাআল্লাহ।