ঢাকা, রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬ | ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ইসরায়েল আমেরিকার দম্ভ গুঁড়িয়ে দিতে চীনের রহস্যময় জাহাজ এখন ইরানের বন্ধু


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৮ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৩ এএম

ইসরায়েল আমেরিকার দম্ভ গুঁড়িয়ে দিতে চীনের রহস্যময় জাহাজ এখন ইরানের বন্ধু

ভাবুন তো, আমেরিকার সেই দামী আর অহংকারী এফ-৩৫ স্টেলথ বিমানগুলো যদি হঠাৎ করেই আকাশে সাধারণ পাখির মতো ধরা পড়ে যায়? হ্যাঁ, কোনো রূপকথা নয়, বরং চীনের 'ড্রাগন আই' খ্যাত লিয়াওওয়াং-১ জাহাজটি এখন ইরানকে এমন এক শক্তি দিচ্ছে যা আমেরিকা আর ইসরায়েলের সব গোপন পরিকল্পনা ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে!"

চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে—এই প্রবাদটি আজ পশ্চিমা বিশ্বের জন্য চরম সত্য হতে চলেছে। দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে যে আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে, তার মূলে ছিল তাদের অত্যাধুনিক আকাশপথের শক্তি। কিন্তু চীন যখন নিরবে লিয়াওওয়াং-১ নামক এক দানবীয় জাহাজ সাগরে ভাসিয়েছে, তখন থেকেই ওয়াশিংটন আর তেল আবিবের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে পুরোপুরি।

এই লিয়াওওয়াং-১ কোনো সাধারণ নৌযান নয়, বরং এটিকে বলা হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাসমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন গবেষণাগার। বিশেষজ্ঞরা এটিকে আদর করে 'ড্রাগনের চোখ' বলে ডাকেন, কারণ এর দৃষ্টি সীমানা থেকে কোনো কিছুই এড়ানো সম্ভব নয়। যেখানে আমেরিকা তাদের এফ-৩৫ এবং এফ-২২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান নিয়ে দম্ভ করে, সেখানে এই জাহাজটি সেসব অদৃশ্য বিমানকেও খুব সহজে শনাক্ত করতে পারে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই জাহাজটি একই সঙ্গে ১২০০-এর বেশি আকাশ লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত এবং সফলভাবে অনুসরণ করতে সক্ষম। মার্কিন সামরিক শক্তির প্রধান স্তম্ভ হলো তাদের আকস্মিক আঘাত করার ক্ষমতা এবং রাডারের চোখে ধুলো দেওয়া। কিন্তু এই ড্রাগন আই যদি আরব সাগর বা ওমান উপসাগরে অবস্থান নেয়, তবে পেন্টাগনের সব ছক মুহূর্তের মধ্যেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে বাধ্য হবে।

চীনের এই বিশাল উদ্যোগ শুধু তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং ইরানের মতো সাহসী বন্ধু রাষ্ট্রের শক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়ক। ইরান এখন আর একা নয়, বরং চীনের এই উন্নত প্রযুক্তির তথ্য সরাসরি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ইরানের এইচকিউ-৯বি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন এতটাই শক্তিশালী যে, কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি ড্রোন বা বিমান ইরানের সীমানায় ঢোকার সাহস পাবে না।

পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা সবসময় চেয়েছে ইরানকে দুর্বল করে রাখতে, কিন্তু চীন ও ইরানের এই কৌশলগত বন্ধুত্ব নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইসরায়েল এখন আর চাইলেই কোনো দেশে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে পারবে না, কারণ লিয়াওওয়াং-১ তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ আগেভাগেই ইরানকে জানিয়ে দেবে। এটি কেবল একটি জাহাজ নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত মহাকাশ নজরদারি নেটওয়ার্কের মূল কেন্দ্র।

আমেরিকার গর্ব করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই যদি তাদের আকাশপথের গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যায়। এই জাহাজের রাডার ব্যবস্থা মহাকাশ এবং আকাশপথের প্রতিটি ছোটখাটো পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের যে দেয়াল তারা তুলেছিল, তাতে ফাটল ধরা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সাম্রাজ্যবাদীদের পতন এবং ন্যায়বিচারের জয় আজ এই সমুদ্র থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে।

ইরান আজ যে আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছে তার পেছনে রয়েছে এই বিশাল প্রযুক্তির সমর্থন। কোনো যুদ্ধ নয়, বরং সমরশক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করছে যে তারা কারো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। আমেরিকা এবং ইসরায়েল যদি মনে করে তারা আগের মতো ছড়ি ঘোরাবে, তবে চীনের এই ড্রাগন আই তাদের সেই ভুল অচিরেই ভেঙে দেবে যুদ্ধের ময়দানে।

শেষ পর্যন্ত এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আধুনিক সমরকৌশলে এখন আর কোনো একক দেশ রাজা নয়। যখন প্রযুক্তি এবং সাহসের মিলন ঘটে, তখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তিকেও মাথা নত করতে হয়। চীন এবং ইরানের এই অক্ষশক্তি আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতিতে যে বড় ধরণের পরিবর্তন আনবে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এই লিয়াওওয়াং-১ জাহাজটি। এটি এখন সত্যকারের এক গেম চেঞ্জার প্রযুক্তি।

ইসরায়েলি আগ্রাসন আর মার্কিনীদের খবরদারি রুখে দিতে এই লিয়াওওয়াং-১ এখন মজলুমের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন আর পশ্চিমের একচ্ছত্র অধিকার নেই। বরং প্রতিটি মার্কিন বিমানের গতিবিধির ওপর এখন কড়া নজর রাখছে এই ড্রাগন আই। ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ এবং শক্তিশালী, কারণ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির সব সেরা উদ্ভাবন নিয়ে এক বিশ্বস্ত বন্ধু।