ঢাকা, রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬ | ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ট্রাম্পকে যৌন অপরাধী এপস্টেইনের গ্যাং বলে তুলোধুনো করলেন ইরানের স্পিকার, এপস্টেইনের গ্যাংরা নয়, ইরানিরা নিজ জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে


আনন্দ খবর ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৮ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৩ এএম

ট্রাম্পকে যৌন অপরাধী এপস্টেইনের গ্যাং বলে তুলোধুনো করলেন ইরানের স্পিকার, এপস্টেইনের গ্যাংরা নয়, ইরানিরা নিজ জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে

চাচা আপন প্রাণ বাঁচা—এই প্রবাদটি কি ট্রাম্পের জন্য প্রযোজ্য? যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অন্য একটি দেশের ভাগ্য লিখে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, ঠিক তখনই ইরানের পার্লামেন্ট থেকে এমন এক তোপ দাগা হলো যা পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পকে সরাসরি 'যৌন অপরাধী এপস্টেইনের গ্যাং' বলে ডাকলেন ইরানের স্পিকার! আজ জানাবো সেই উত্তপ্ত লড়াইয়ের ভেতরের সব খবর।

কথায় আছে, "পরের মন্দ করতে গেলে নিজের মন্দ আগে হয়।" বর্তমান বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই কথাটি যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একদম যুতসই হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং পরবর্তী শাসক নির্বাচন নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তার এই মন্তব্যের পর ইরান সরকার চুপ করে বসে থাকেনি বরং পাল্টা আক্রমণ করেছে বেশ কড়া ভাষায়।

ইরানের পার্লামেন্টের বর্তমান স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের ঘালিবাফ সরাসরি ট্রাম্পের অতীত ইতিহাস টেনে এনে তাকে অপমান করেছেন। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, আমেরিকার বিতর্কিত এবং সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরে এপস্টেইনের সাথে ট্রাম্পের যে সখ্যতা ছিল, সেই গ্যাংয়ের সদস্যরা ইরানের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারবে না। এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যটি এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বিতর্ক।

ঘালিবাফ পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, ইরানের জনগণ এবং তাদের নেতৃত্ব অনেক বেশি সচেতন। বাইরের কোনো শক্তি, বিশেষ করে যারা নিজেরাই নৈতিকভাবে স্খলিত, তারা ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার অধিকার রাখে না। ট্রাম্পের মতো একজন নেতার কাছ থেকে গণতন্ত্র বা শাসনব্যবস্থার পাঠ নিতে ইরান মোটেও প্রস্তুত নয়। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনে আমেরিকার সরাসরি ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, ইরানের পরবর্তী শাসক কে হবে তা নির্ধারণে তারা নিজেদের যুক্ত করবেন। ট্রাম্পের এমন আধিপত্যবাদী মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই সার্বভৌম দেশ হিসেবে ইরান মেনে নিতে পারেনি। এর ফলে তেহরানের রাজনৈতিক মহলে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয় যা এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

ইরানের স্পিকারের মতে, ট্রাম্প এখনো বুঝতে পারছেন না যে তিনি অতীতে কী ধরনের ভুল করেছেন। ঘালিবাফ মনে করিয়ে দেন যে, ইরানের আধ্যাত্মিক নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা ছিল চরম হঠকারিতা। খামেনির ওপর আক্রমণ বা তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মার্কিন সেনাদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ট্রাম্পের এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

তিনি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চরিত্রের দিকে আঙুল তুলে বলেন, একজন মানুষ যার বিরুদ্ধে গুরুতর নৈতিক অভিযোগ রয়েছে, তিনি কীভাবে একটি জাতির ভাগ্য নির্ধারণের কথা বলেন? এপস্টেইনের মতো কুখ্যাত অপরাধীর সাথে যার নাম জড়িয়ে আছে, তার মুখে নীতিবাক্য মানায় না। ঘালিবাফ আরও বলেন, ট্রাম্প নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সামলাতে ব্যর্থ হয়ে এখন ইরানের দিকে নজর দিচ্ছেন যা মোটেও কাম্য নয়।

স্পিকার ঘালিবাফ অত্যন্ত আবেগের সাথে বলেন, "প্রিয় ইরানের ভাগ্য, যা আমাদের কাছে জীবনের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানিরাই ঠিক করবে তাদের দেশে কে শাসন করবে এবং দেশ কোন পথে চলবে। কোনো ভিনদেশি শক্তি বা এপস্টেইনের গ্যাংয়ের মতো অপরাধী চক্রের কোনো সদস্যের হস্তক্ষেপ এখানে বরদাশত করা হবে না। এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এক অনড় অবস্থান।

ইরানের এই সাহসী অবস্থান দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের জাতীয়তাবাদী চেতনার জন্ম দিয়েছে। স্পিকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতিটি পদক্ষেপ আমেরিকার নিজের জন্যই বিপদ ডেকে আনছে। মার্কিন সেনারা মধ্যপ্রাচ্যে যে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে, ট্রাম্পের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য সেই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তেহরান এখন যেকোনো ধরনের বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে মনোযোগ দিচ্ছে।

ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ সংবেদনশীল হলেও তারা আমেরিকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে নারাজ। ঘালিবাফ বিশ্বাস করেন, ইরানের জনগণের শক্তিই সব অপশক্তির বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র। তিনি বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কোনো পুতুল রাষ্ট্র নয় যে অন্য কেউ এসে তাদের নেতা ঠিক করে দেবে। এই লড়াই এখন শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং এটি আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে সারা বিশ্বে।

শেষে বলা যায়, ট্রাম্প এবং ইরানের এই বাকযুদ্ধ কেবল কথার লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়বে বিশ্ব তেল বাজার থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে। ইরানের স্পিকারের এই কঠোর ভাষা প্রমাণ করে যে, তারা আমেরিকার সাথে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়। এপস্টেইন গ্যাংয়ের তকমা লাগিয়ে ট্রাম্পকে বিশ্বদরবারে ছোট করার এই কৌশলটি বেশ কূটনৈতিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

এখন দেখার বিষয় ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চরম অপমানের পর কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখান। হোয়াইট হাউস কি এই বিষয়ে চুপ থাকবে নাকি ইরানের ওপর আরও নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে? মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা যদি প্রশমিত না হয়, তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ইরান তার অবস্থানে অনড় থেকে বিশ্বকে এক শক্তিশালী বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে এই মুহূর্তে।

আজকের এই পুরো বিষয়টি নিয়ে আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপ সঠিক ছিল নাকি ইরানের স্পিকারের যোগ্য জবাব দিয়েছেন? আমাদের কমেন্ট বক্সে আপনার মূল্যবান মতামত অবশ্যই লিখে জানান।