আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ০৮ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৩ এএম

ভাবুন তো, যাকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ হিসেবে চেনে সবাই, তার বিরুদ্ধেই যদি আসে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ? আর সেই তথ্য যদি খোদ এফবিআইয়ের গোপন নথিতে থাকে? জেফরি এপস্টিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প—এই দুই নামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার সত্য এখন সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন, কারণ আজ পর্দা ফাঁস হবে অনেক বড় গোপন রহস্যের।
কথায় আছে, "ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।" আপনি যতই লুকানোর চেষ্টা করুন না কেন, অন্যায় একদিন না একদিন সামনে আসবেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও কি ঠিক তেমনটাই ঘটছে? মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত কিছু অত্যন্ত গোপন নথি প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলোতে উঠে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং এফবিআই দীর্ঘ তদন্তের পর এক অজ্ঞাতনামা নারীর জবানবন্দির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে। সেই নারী অভিযোগ করেছেন যে, কিশোরী থাকাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৯ সালে এফবিআই ওই নারীর মোট চারবার সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। জেফরি এপস্টিনের অন্ধকার জগতের তদন্ত করতে গিয়েই মূলত এই ভয়াবহ তথ্যগুলো কর্মকর্তাদের সামনে চলে আসে, যা এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল।
প্রকাশিত এই নতুন নথিতে দাবি করা হয়েছে যে, আশির দশকে এপস্টিন ওই কিশোরীকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। নিউ ইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে এই পরিচয় পর্বটি ঘটেছিল এবং তখন মেয়েটির বয়স ছিল মাত্র ১৩ থেকে ১৫ বছর। কিশোরী অবস্থায় তাকে ভয় দেখিয়ে এবং প্রলোভন দেখিয়ে ট্রাম্প জোর করে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন বলে সেই নারী তার জবানবন্দিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
এই গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পরপরই মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে ঝর উঠেছে। তবে ট্রাম্পের শিবির এবং হোয়াইট হাউস থেকে এই অভিযোগগুলোকে সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, এই নারীর করা প্রতিটি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই। ট্রাম্পের দাবি, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যই এই পুরনো এবং মিথ্যা অভিযোগগুলো এখন নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ অবশ্য একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে এই নথিপত্রগুলো নিয়ে। তারা বলেছে, এই ফাইলগুলোতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা এবং উসকানিমূলক দাবি থাকতে পারে। রয়টার্স বা অন্যান্য বড় সংবাদ সংস্থাগুলো এখনো এই নারীর অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ২০১৯ সালে এফবিআই কেন হঠাৎ করে এই নারীর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিল, সেটিও এখন এক বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেফরি এপস্টিনের নাম আসা মানেই সেখানে যৌনপল্লী আর ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র ভেসে ওঠা। কিছু নথিতে এমনও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, এপস্টিনের নিউ মেক্সিকোর খামারের কাছে কিশোরীদের মেরে পুঁতে রাখা হতো। এই হাড়হিম করা তথ্যগুলো বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টিনের ঘনিষ্টতা কি তবে কেবল ব্যবসায়িক ছিল নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোনো কুৎসিত এবং গভীর উদ্দেশ্য?
এই পুরো বিষয়টিতে রাজনীতির রং লেগেছে অনেক আগেই। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করে আসছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় থাকাকালীন এই সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিল। তারা মনে করেন, বিচার বিভাগ কংগ্রেসের কাছে দায়বদ্ধ এবং সব সত্য প্রকাশ করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের একটি কমিটি এখন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে তলব করেছে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য।
সবশেষে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যেসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলো আগে ‘প্রতিলিপি’ হিসেবে ভুলবশত চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই ভুলের কারণেই নথিগুলো এতদিন জনসমক্ষে আসেনি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই নতুন নথিগুলো কি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটিয়ে দেবে? নাকি এটি কেবল আরেকটি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই থেকে যাবে? সত্যিটা যাই হোক, বর্তমান সময়ে এটি মার্কিন রাজনীতির সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয়।
জেফরি এপস্টিনের এই অন্ধকার ফাইলগুলো যত খুলছে, ততই বেরিয়ে আসছে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক। আপনারা কী মনে করেন? এই অভিযোগগুলো কি সত্যি নাকি রাজনৈতিক চাল? কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান।