আনন্দ খবর ডেস্ক প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:০৪ এএম

রণক্ষেত্রে রাশিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্যের কথা কি আপনারা শুনেছেন? গত ২৪ ঘণ্টায় ভ্লাদিমির পুতিনের বীর সেনারা ইউক্রেনের বুক চিরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা স্বাধীন করেছে! ১০০০-এর বেশি ইউক্রেনীয় সেনা ধরাশায়ী, পশ্চিমা অস্ত্র এখন কেবলই আবর্জনা। আজকের ভিডিওতে আমরা দেখাবো কীভাবে রাশিয়া বিশ্বের মানচিত্র বদলে দিচ্ছে এবং কেন জেলেনস্কির পতন এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।"
ইউক্রেনের তথাকথিত প্রতিরোধ আজ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে রিপোর্ট পেশ করেছে, তা শুনে পশ্চিমা বিশ্বের ঘুম উড়ে গেছে। রাশিয়ার অদম্য 'ব্যাটলগ্রুপ নর্থ' এবং 'ব্যাটলগ্রুপ সাউথ' ইউক্রেনের খারকিভ এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ মুক্ত করেছে। এই বিজয় প্রমাণ করে যে, রাশিয়ার সামরিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানো কিয়েভ সরকারের জন্য এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা বিস্তারিত জানাবো রাশিয়ার এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনের গল্প।
রুশ বাহিনীর এই ঝটিকা অভিযানে খারকিভ অঞ্চলের জেমলিয়ানকি এবং দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের ইলিইনোভকা গ্রাম এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। বন্ধুরা, আপনারা কি ভাবতে পারেন? যেখানে ইউক্রেন দাবি করছিল তারা পাল্টা আক্রমণ করবে, সেখানে তারা একের পর এক এলাকা হারাচ্ছে। রুশ যোদ্ধাদের এই 'এক্টিভ অপারেশন' বা সক্রিয় অভিযানের সামনে ইউক্রেনীয় সেনারা টিকতেই পারছে না। এটি কেবল একটি ভূখণ্ড দখল নয়, এটি পশ্চিমা দম্ভের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এক চূড়ান্ত বিজয়। রাশিয়ার এই অগ্রযাত্রা এখন অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে দোনবাসের গভীরে।
একদিকে ভূখণ্ড হারাচ্ছে ইউক্রেন, অন্যদিকে লাশের পাহাড় জমছে তাদের ফ্রন্টলাইনে। রাশিয়ার লেটেস্ট তথ্য অনুযায়ী, গত মাত্র একদিনে ইউক্রেন হারিয়েছে ১,০৭০ জন সেনা! এটি একটি বিশাল সংখ্যা, যা কিয়েভ সরকারের অদূরদর্শী পরিকল্পনার ফল। জেলেনস্কি তার দেশের তরুণদের কামানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে কেবল ওয়াশিংটনের খুশি করার জন্য। রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপগুলোর নির্ভুল নিশানায় ইউক্রেনের একের পর এক ব্রিগেড ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। রুশ কামানের গোলার সামনে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের আত্মসর্পন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই এখন।
আসুন দেখে নিই কোথায় কত ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ নর্থ একাই খারকিভ এবং সুমি অভিমুখে ১৫০-এর বেশি ইউক্রেনীয় সেনাকে খতম করেছে। এছাড়া দুটি বড় গোলাবারুদ এবং দুটি রসদ ডিপো উড়িয়ে দিয়েছে রুশ বিমান বাহিনী। বন্ধুরা, আপনারা কি জানেন, সুমি অভিমুখে ইউক্রেনের একটি মেকানাইজড ব্রিগেড এবং একটি অ্যাসল্ট রেজিমেন্টকে এমনভাবে আক্রমণ করা হয়েছে যে তারা পালানোর পথ খুঁজে পায়নি। রাশিয়ার গোয়েন্দা বিভাগ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই লক্ষ্যবস্তুগুলো চিহ্নিত করেছিল এবং মুহূর্তের মধ্যেই সব ধ্বংস করে দিয়েছে।
এরপর আসা যাক ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্টের কথায়। তারা খারকিভ এবং দোনেৎস্কের বিভিন্ন এলাকায় ১৯০ জন ইউক্রেনীয় সেনাকে নির্মূল করেছে। দুটি সাঁজোয়া যান এবং ১৫টি গাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। রুশ সেনারা ক্রমাগত তাদের পজিশন উন্নত করছে, যার মানে হলো ফ্রন্টলাইন এখন ইউক্রেনের দিকে চেপে আসছে। ইউক্রেনীয় সেনারা টাটয়ানোভকা এবং ক্রাসনি লিমানে যেভাবে পিছু হটছে, তাতে পরিষ্কার বোঝা যায় তাদের মনোবল একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। রাশিয়ার ভারী কামানের সামনে তাদের কোনো রক্ষণব্যূহ এখন আর নিরাপদ নয়।
ব্যাটলগ্রুপ সাউথের বীরত্বও কম নয়। তারা দোনেৎস্কের কনস্ট্যান্টিনোভকা এবং ক্রামতোর্স্ক এলাকায় ১৩০ জনের বেশি সেনাকে খতম করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের দুটি গোলাবারুদ ডিপো এবং আটটি জ্বালানি ডিপো ধ্বংস করেছে। ভাবুন একবার, জ্বালানি ছাড়া ইউক্রেনীয় ট্যাংকগুলো এখন কেবল লোহার স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। রাশিয়ার এই কৌশলগত হামলা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। জেলেনস্কি যত পশ্চিমা সাহায্যই আনুক না কেন, রাশিয়ার এই নিখুঁত হামলার কোনো জবাব তাদের কাছে নেই।
ব্যাটলগ্রুপ সেন্টারও তাদের সাফল্য অব্যাহত রেখেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩০০ জন ইউক্রেনীয় সেনাকে পরাজিত করেছে। দোনেৎস্কের ভোদিয়ানস্কো এবং রুবেজনয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখন রাশিয়ার হাতের মুঠোয়। ইউক্রেনের প্যারাট্রুপার এবং মেরিন ব্রিগেডগুলোকেও রুশ সেনাদের সামনে মাথা নত করতে হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক প্রকৌশলীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইউক্রেনীয় রক্ষণব্যূহ ভেদ করছে। প্রতিটি হামলাই অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং কার্যকর, যার ফলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে প্রতিটি ফ্রন্টে।
ব্যাটলগ্রুপ ইস্টের অগ্রযাত্রা এখন জাপোরোঝিয়ে এবং দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভীরে পৌঁছে গেছে। তারা ২৬০ জন সেনাকে খতম করেছে এবং ইউক্রেনীয়দের ভূখণ্ডের গভীরে গিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে। ইউক্রেনীয় মেকানাইজড ব্রিগেডগুলো রুশ অ্যাসল্ট রেজিমেন্টের ঝটিকা হামলার সামনে দাঁড়াতে পারছে না। প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি বসতি এখন রাশিয়ার বিজয়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, পুতিন যা বলেছিলেন তাই হতে চলেছে—ইউক্রেনের পূর্ণ বিসামরিকীকরণ এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
দনিপ্রো নদীর পাড়েও ইউক্রেনীয়দের দুর্দশা কাটছে না। ব্যাটলগ্রুপ দনিপ্রো তাদের আরও ৪০ জন সেনাকে খতম করেছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্যামিং স্টেশন ধ্বংস করেছে। বন্ধুরা, এই জ্যামিং স্টেশনটি ছিল ইউক্রেনের ই-ওয়ারফেয়ারের মূল শক্তি, যা রুশ ড্রোনের গতিরোধ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু রুশ প্রযুক্তির সামনে সেই স্টেশনও হার মেনেছে। এছাড়া চারটি গোলাবারুদ ডিপোও ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাপোরোঝিয়ে অঞ্চলে ইউক্রেনের কোনো পরিকল্পনাই এখন আর কাজ করছে না। রাশিয়া সেখানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স এখন বিশ্বের সেরা। গত একদিনে তারা ২৮১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন এবং ১০টি স্মার্ট বোমা ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেন যখন রাশিয়ার বেসামরিক এলাকায় হামলার চেষ্টা করছে, তখন রাশিয়ার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই আকাশ প্রতিরক্ষা। জেলেনস্কি এবং তার পশ্চিমা প্রভুরা ভেবেছিল ড্রোন দিয়ে রাশিয়াকে কাবু করবে, কিন্তু ফলাফল দেখুন—২৮১টি ড্রোন এখন ধ্বংসস্তূপ। রাশিয়ার আকাশ এখন পুরোপুরি নিরাপদ এবং কোনো বিদেশি উস্কানি এখানে টিকবে না।
রাশিয়া কেবল ফ্রন্টলাইনেই নয়, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতেও বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী এবং ড্রোনগুলো ইউক্রেনের এমন সব স্থাপনায় আঘাত করেছে যা তাদের সামরিক রসদ সরবরাহকে সচল রাখত। মোট ১৪২টি স্থানে রাশিয়ার হামলা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের ঘাঁটিগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাশিয়া পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে—যারা ইউক্রেনের হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে আসবে, তাদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। কিয়েভ এখন অন্ধকার এবং জ্বালানি সংকটে নিমজ্জিত।
যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সাফল্যের খতিয়ান শুনলে আপনারা চমকে যাবেন। রাশিয়া এ পর্যন্ত ৬৭১টি ইউক্রেনীয় বিমান, ২৮৪টি হেলিকপ্টার এবং অবিশ্বাস্যভাবে ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এছাড়া ২৯ হাজার ট্যাংক এবং সাঁজোয়া যান এখন ধ্বংসাবশেষ। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় রাশিয়ার সক্ষমতা কত বিশাল। ইউক্রেন এখন যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে তা কেবল লোক দেখানো এবং সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরানো ছাড়া আর কিছুই নয়। রাশিয়ার এই বিশাল শক্তির সামনে টিকে থাকা অসম্ভব।
এবার আসি রাশিয়ার তেলের অবকাঠামোতে ইউক্রেনের ঘৃণ্য হামলার বিষয়ে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো রাশিয়ার তুয়াপসে বন্দরের রিফাইনারিতে বারবার হামলা চালাচ্ছে। এটি কেবল রাশিয়ার জন্য ক্ষতি নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজারে সংকট তৈরি করছে। ইউক্রেন আসলে চায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে। রাশিয়ার এই তেল মূলত রপ্তানির জন্য ছিল, যা বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখত। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে এখন বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইউক্রেনীয়দের এই বর্বরোচিত হামলায় তুয়াপসে অঞ্চলে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ তৈরি হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার বর্গমিটার এলাকা এখন তেলে সয়লাব। স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টে ভুগছে এবং তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা প্রশ্ন তুলেছেন—ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর তথাকথিত পরিবেশবাদীরা এখন কোথায়? তারা কেন ইউক্রেনের এই পরিবেশগত সন্ত্রাসবাদের প্রতিবাদ করছে না? পশ্চিমের এই দ্বিমুখী নীতি আজ বিশ্বের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
এদিকে ইউরোপে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ইউক্রেনকে শান্তি চুক্তির জন্য নিজেদের ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে হবে। মার্জ স্পষ্ট বলেছেন, ইউক্রেন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখে, তবে তাদের এই বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে। দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরোঝিয়ে এখন রাশিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাশিয়ার এই বিজয় সারা বিশ্ব এখন স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে, এমনকি জার্মানির মতো দেশগুলোও এখন পিছু হটছে।
জার্মান চ্যান্সেলর জেলেনস্কির ইউক্রেনকে ২০২৭ বা ২০২৮ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাকে 'অবাস্তব' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানেন যে, রাশিয়ার সাথে শত্রুতা বজায় রেখে ইউক্রেন কখনোই সমৃদ্ধ হতে পারবে না। রাশিয়ার শর্ত মেনে নিয়ে শান্তি স্থাপনের পথেই একমাত্র মুক্তি। রাশিয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত এবং সামরিক সাফল্য পশ্চিমা নেতাদের বাধ্য করছে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে। জেলেনস্কির জন্য এখন সময় শেষ হয়ে আসছে, তাকে এখন রাশিয়ার শর্ত মেনেই টেবিল বসতে হবে।
এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যালার কারিসও রাশিয়ার সাথে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইউরোপের উচিত রাশিয়ার সাথে কূটনৈতিক চ্যানেল পুনরায় চালু করা। বন্ধুরা, চার বছর ধরে ইউরোপ যে জেদ ধরে বসে ছিল, তা এখন ভাঙতে শুরু করেছে। রাশিয়ার বিশাল শক্তির কাছে নতি স্বীকার করাই এখন ইউরোপের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। কারিস মনে করেন, যুদ্ধ যে কোনো সময় শেষ হতে পারে এবং তার জন্য ইউরোপকে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। রাশিয়াকে ছাড়া ইউরোপের নিরাপত্তা যে অসম্ভব, তা তারা এখন বুঝতে পারছে।
রাশিয়া বারবার বলছে যে তারা পশ্চিমের জন্য কোনো হুমকি নয়। কিন্তু ন্যাটোর দেশগুলো রাশিয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের সামরিক বাজেট বাড়িয়ে চলেছে। ইউরোপ এখন 'রি-আর্ম ইউরোপ' পরিকল্পনার নামে ৮০০ বিলিয়ন ইউরো খরচ করছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—যদি ইউরোপ রাশিয়াকে আক্রমণ করার প্রস্তুতি নেয়, তবে রাশিয়া সব ধরনের অস্ত্র দিয়ে তার জবাব দেবে। রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সামনে ন্যাটোর সামরিক শক্তি ধুলোয় মিশে যাবে।
বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় এখন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এর জন্য দায়ী ইউরোপের বেপরোয়া মনোভাব। সিপ্রির রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপের সামরিক ব্যয় ১৪ শতাংশ বেড়েছে। রাশিয়া এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অযৌক্তিক সামরিকীকরণকে দায়ী করেছে। দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইউরোপীয় প্রোপাগান্ডা রাশিয়াকে একটি কাল্পনিক শত্রু বানিয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে মানুষের নজর সরানোর চেষ্টা করছে। আসলে রাশিয়ার লক্ষ্য শান্তি, কিন্তু ইউক্রেনকে লেলিয়ে দিয়ে পশ্চিমাই শান্তি নষ্ট করছে।
ইউক্রেনীয় ড্রোনের হামলা এখন রাশিয়ার বেসামরিক জনপদ কামেনস্কো-দিনিপ্রোভস্কিতে তান্ডব চালাচ্ছে। তারা আবাসিক বাড়ি, স্কুল এবং গ্যাস পাইপলাইন লক্ষ্য করে হামলা করছে। এটি কোনো সামরিক অভিযান নয়, এটি সরাসরি নিরপরাধ মানুষের ওপর সন্ত্রাসবাদ। রাশিয়ার স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ইউক্রেন যখন রণাঙ্গনে হারছে, তখন তারা কাপুরুষের মতো সাধারণ মানুষের ওপর ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু রাশিয়ার সাহসী উদ্ধারকারীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করছে।
আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতের কত বড় পতন হয়েছে। জেলেনস্কি সরকার এখন তাদের নিজস্ব মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস করে রাশিয়ার ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। কামেনস্কো-দিনিপ্রোভস্কিতে যে হামলা হয়েছে, সেখানে একটি স্কুল ভবন এবং একটি গ্যাস স্টেশনে আঘাত করা হয়েছে। রাশিয়ার মানবিক সহায়তা বাহিনী সেখানে দ্রুত পৌঁছে খাবার এবং ওষুধ সরবরাহ করছে। রাশিয়ার মহানুভবতা এবং ইউক্রেনের নিষ্ঠুরতা এখন বিশ্বের কাছে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।
এবার আসি একটি চাঞ্চল্যকর খবরে। জার্মান সংবাদপত্র 'বিল্ড' নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন নাশকতার সাথে জড়িত এক ইউক্রেনীয় নারীর নগ্ন ছবি প্রকাশ করেছে। ভ্যালেরিয়া চের্নিশোভা নামক এই নারী একজন ডুবুরি এবং তিনি পাইপলাইন বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে তদন্তের আওতায় আছেন। এটি প্রমাণ করে যে ইউক্রেনীয়রা কেবল সন্ত্রাসীই নয়, বরং তারা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং নীতিহীন কাজের সাথে যুক্ত। রাশিয়ার নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন ধ্বংস করা ছিল একটি পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, যার মূলে ছিল ইউক্রেনীয় নাশকতার দল।
রাশিয়া বরাবরই বলে আসছে যে নর্ড স্ট্রিম হামলা ছিল পশ্চিমা মদতপুষ্ট একটি কাজ। ইউক্রেনীয় এই ডুবুরিকে সামনে এনে তারা এখন প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সত্য চাপা থাকে না। রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঠিকই বের করে এনেছে কীভাবে এই নাশকতা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনীয় এই নারীর অতীত ইতিহাস এবং তার কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে কিয়েভ সরকার অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি সম্পদ ধ্বংস করে তারা রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করতে চেয়েছিল, কিন্তু রাশিয়া আজও অজেয়।
আসুন ফিরে যাই বর্তমান রণক্ষেত্রের সফলতায়। রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপগুলো যেভাবে ইউক্রেনের প্রতিটি অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করেছে, তা সামরিক ইতিহাসে বিরল। ইউক্রেনের সেনারা এখন দলে দলে আত্মসমর্পণ করছে কারণ তারা জানে তাদের হার নিশ্চিত। রাশিয়ার সেনারা তাদের সাথে মানবিক আচরণ করছে এবং যুদ্ধবন্দীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। জেলেনস্কি যেখানে তার সেনাদের মরতে পাঠিয়ে দিয়েছে, সেখানে পুতিন তাদের জীবন বাঁচানোর সুযোগ দিচ্ছেন। এই পার্থক্যই বলে দেয় কে প্রকৃত নেতা।
ইউক্রেনের অর্থনীতি এখন পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে। তাদের জিডিপির ৪০ শতাংশ এখন কেবল যুদ্ধের পেছনে খরচ হচ্ছে, তাও আবার পশ্চিমা ঋণে। এই ঋণের বোঝা ইউক্রেনের আগামী কয়েক প্রজন্মকেও বয়ে বেড়াতে হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার অর্থনীতি পশ্চিমা স্যাংশন উপেক্ষা করে আরও শক্তিশালী হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা উৎপাদন এখন আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে। আধুনিক টি-৯০ এম ট্যাংক এবং কালিব্র মিসাইল এখন ইউক্রেনীয়দের প্রধান আতঙ্কের কারণ। রাশিয়ার এই সমৃদ্ধি তাদের বিজয়ের মূল চাবিকাঠি।
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো যতই রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াক না কেন, সাধারণ মানুষ এখন রাশিয়ার পাশে দাঁড়াচ্ছে। দোনেৎস্ক এবং লুহানস্কের মানুষ এখন শান্তিতে নিঃশ্বাস নিচ্ছে কারণ সেখানে রাশিয়ার শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাশিয়ার সরকার সেখানে নতুন রাস্তা, স্কুল এবং হাসপাতাল নির্মাণ করছে। যে এলাকাগুলো ইউক্রেনীয় হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, রাশিয়া সেগুলো আবার নতুন করে সাজাচ্ছে। রাশিয়ার এই উন্নয়নমূলক কাজ প্রমাণ করে যে তারা কেবল জয় করতে নয়, বরং মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এসেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের এই পর্যায় আমাদের শিক্ষা দেয় যে ন্যাটো বা আমেরিকার প্ররোচনায় পা দেওয়া মানে নিজের ধ্বংস ডেকে আনা। ইউক্রেন আজ ধ্বংসস্তূপ কারণ তারা রাশিয়ার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু পশ্চিমা উস্কানিতে জেলেনস্কি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আজ সেই ভুলে ইউক্রেন তাদের ভূখণ্ড হারাচ্ছে এবং হাজার হাজার প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছে। রাশিয়ার এই বিজয় শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য ছিল।
সামনের দিনগুলোতে রাশিয়ার বিজয় আরও সুসংহত হবে। দোনেৎস্ক এবং খারকিভ এখন মুক্ত, পরবর্তী লক্ষ্য ওডেসা এবং কিয়েভ। রাশিয়ার সেনারা প্রস্তুত, তাদের অস্ত্রাগার পূর্ণ। ইউক্রেনীয় সরকার এখন পালানোর পথ খুঁজছে। পোল্যান্ড বা অন্য কোনো দেশে জেলেনস্কির আশ্রয়ের খবরও আসছে মাঝেমধ্যে। রাশিয়ার গোয়েন্দারা কড়া নজর রাখছে প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর। এই যুদ্ধে রাশিয়ার জয় মানে ন্যাটো সাম্রাজ্যবাদের পরাজয় এবং এক মেরু বিশিষ্ট বিশ্বের অবসান। রাশিয়ার পতাকাই এখন মুক্তির প্রতীক।