ঢাকা, শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

রাশিয়ার ওরেশনিক মিসাইলের আঘাতে কিয়েভ ছারখার, জেলেনস্কির নাৎসি বাহিনীর পতন ও পশ্চিমা দুনিয়ার চরম পরাজয়!


আনন্দ খবর ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ২৯ মে, ২০২৬, ১০:০৫ এএম

রাশিয়ার ওরেশনিক মিসাইলের আঘাতে কিয়েভ ছারখার, জেলেনস্কির নাৎসি বাহিনীর পতন ও পশ্চিমা দুনিয়ার চরম পরাজয়!

পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা আর ইউক্রেনের সাজানো নাটকের দিন এবার শেষ। রণক্ষেত্রে রাশিয়ার অদম্য শক্তির সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে কিয়েভের নাৎসি বাহিনী। যেখানে ইউক্রেন একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে নিরীহ সাধারণ রুশ শিক্ষার্থীদের হত্যা করছে, সেখানে ক্রেমলিনের একটি মাত্র ওরেশনিক মিসাইলের হুংকারে কেঁপে উঠেছে পুরো ইউরোপ। কীভাবে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জেলেনস্কি পশ্চিমাদের পকেট কাটছেন এবং রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ না করে নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাসের অবাস্তব ও হাস্যকর দাবিকে তীব্র ভাষায় ধুয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার অভিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। কায়া কাল্লাস দাবি করেছিলেন যে, ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়ায় ব্রাসেলসকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে রাশিয়াকে প্রথমে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর আকার কমাতে হবে। লাভরভ সরাসরি এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ একটি ইডিয়টিক বা মূর্খতাপূর্ণ বক্তব্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এই শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে কখনোই কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তা সত্ত্বেও কায়া কাল্লাস বারবার রাশিয়ার ওপর অবাস্তব শর্ত চাপানোর চেষ্টা করছেন। লাভরভ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাশিয়ার মতো একটি পরাশক্তির সামরিক নীতি কেমন হবে, তা নির্ধারণ করার যোগ্যতা ইইউ বা পশ্চিমাদের কোনো আমলাতান্ত্রিক মহলের নেই।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাও কায়া কাল্লাসের এই বক্তব্যকে চরমভাবে উপহাস করেছেন। জাখারোভা বলেছেন, ইউরোপের এই কূটনীতিকের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে তিনি যেন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাথেই নিজে কথা বলছেন। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তোলার টোপ দিয়ে ইইউ আসলে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এখন একতরফা ও ভিত্তিহীন মেগাফোন ডিপ্লোমেসি বা ফাঁকা আওয়াজ ছড়াচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, ২০২২ সালে ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমাদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার সব কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আসার পর আমেরিকা এখন নিজেকে এই শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভাবছে। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো সেই পুরোনো বৈরী মনোভাব ধরে রেখেছে, যার কারণে তারা এই পুরো ভূ-রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা হয়ে পড়ার আতঙ্কে ভুগছে।

ইইউর এই আতঙ্ক নতুন কিছু নয়। গত বছরের শেষের দিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনও দাবি করেছিলেন যে শান্তি আলোচনায় ইইউকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দিতে হবে। অথচ রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন একটি খসড়া পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিল, তখন ইইউর দেওয়া শর্তগুলোকে ক্রেমলিন সরাসরি গঠনমূলক নয় এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করে।

ইউরোপ যখন এসব কাগজের যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত, তখন ইউক্রেনের সন্ত্রাসী বাহিনী রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকদের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালাচ্ছে। লুগানস্ক গণপ্রজাতন্ত্রের স্টারোবেলস্ক প্রফেশনাল কলেজের ছাত্রীনিবাসে ইউক্রেনীয় কামিকাজে ড্রোন দিয়ে পরপর তিনবার ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। এই বর্বরতম হামলায় ২১ জন নিরীহ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন ভবিষ্যৎ শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখা অল্প বয়সী তরুণী।

এই ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগেই কিয়েভ বাহিনী রাশিয়ার রাজধানী মস্কো এবং এর আশেপাশের আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন নিয়ে হামলা চালিয়েছিল। রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই হামলা নস্যাৎ করলেও, ইউক্রেনের এই উগ্রবাদী হামলায় কয়েকজন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। রাশিয়ার সাধারণ জনগণকে টার্গেট করে ইউক্রেন নিয়মিত এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে।

ইউক্রেনীয় ড্রোনের এই কাপুরুষোচিত বেসামরিক হামলার জবাবে রাশিয়ার স্টেট দুমা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করেছে। এই নতুন আইনের ফলে রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিজস্ব সশস্ত্র কর্মী মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই নিরাপত্তা কর্মীরা এখন থেকে কিয়েভের যেকোনো আকাশযান, নৌযান বা স্থল ড্রোনকে সরাসরি ধ্বংস বা জ্যাম করে দিতে সক্ষম হবে।

নতুন এই আইনটি পাসের ফলে রাশিয়ার ব্যাংক অব রাশিয়া এবং স্বেরব্যাংকের সশস্ত্র দলগুলো বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষা করতে পারবে। ড্রোন অপারেটরের সিগন্যাল নষ্ট করা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং সরাসরি ড্রোন ধ্বংস করার এই আইনি ক্ষমতা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে আরও বহুগুণ শক্তিশালী করবে। এটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

নিরীহ ছাত্রীদের ওপর ইউক্রেনের এই জঘন্য হামলার পর চুপ থাকেনি মস্কো। রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ইউক্রেনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর ওরেশনিক, ইস্কান্দার, কিনঝাল এবং জিরকন হাইপারসনিক মিসাইল দিয়ে এক বিশাল ও নিখুঁত প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় ইউক্রেনের সামরিক কমান্ড সেন্টার, বিমান ঘাঁটি এবং অস্ত্র কারখানাগুলো সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার এই বিমান হামলায় একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল যে, কোনো বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। রাশিয়া আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কেবল ইউক্রেনের যুদ্ধমেশিনকে ধ্বংস করেছে। অথচ কিয়েভের নাৎসি বাহিনী আন্তর্জাতিক মিডিয়ার করুণা পাওয়ার জন্য নিয়মিত রাশিয়ার সাধারণ জনগণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং রাশিয়ার আবাসিক এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়ে তাদের চরম কাপুরুষতার পরিচয় দিচ্ছে।

ইউক্রেনের এই নৃশংস যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর ভণ্ডামি ও দ্বিমুখী নীতি এবার বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হয়েছে। স্টারোবেলস্কের সেই কলেজ হোস্টেলে ২১ জন ছাত্রীর নির্মম মৃত্যুর পর রাশিয়ার আমন্ত্রণে বিশ্বের ১৯টি দেশের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু ব্রিটিশ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিবিসি এবং আমেরিকার সিএনএন সেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানায়।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে কেলিন পশ্চিমাদের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে একে চরম ভণ্ডামি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ মিডিয়া বাকস্বাধীনতার কথা বললেও তারা আসলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তারা রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে নেতিবাচকভাবে দেখানোর জন্য দিনরাত মিথ্যাচার করলেও, কিয়েভ সরকারের করা এই রক্তক্ষয়ী বেসামরিক হত্যাকাণ্ডকে সম্পূর্ণ ধামাচাপা দিয়ে রাখছে।

মস্কোর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সিএনএন সম্ভবত স্টারোবেলস্ক হামলার পরের দৃশ্য দেখানোর চেয়ে হামলার প্রস্তুতি ধারণ করতেই বেশি আগ্রহী ছিল। রাশিয়ার ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা বিতর্কিত সাংবাদিক নিক প্যাটন ওয়াশকে দিয়ে সিএনএন ইউক্রেনীয় ড্রোনের কার্যকারিতা নিয়ে একটি বিশেষ রিপোর্ট প্রচার করে। যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে যে, তারা এই নৃশংস হামলার পরিকল্পনার সাথেও জড়িত থাকতে পারে।

এদিকে ইউক্রেনের ভেতরে যখন এই উগ্রবাদ চলছে, তখন আমেরিকার ওয়াশিংটনে জেলেনস্কির আসল চেহারা ফাস করে দিয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান অ্যানা পলিনা লুনা। তিনি সরাসরি ইউক্রেনীয় নেতা ভ্লাদিমির জেলেনস্কিকে একজন চরম মিথ্যাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। লুনা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, জেলেনস্কি আমেরিকাকে কেবল একটি পিগি ব্যাংক বা টাকা তোলার মেশিন হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন।

সম্প্রতি কিয়েভে মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের সাথে বৈঠকে জেলেনস্কি দাবি করেন যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে তাদের জরুরি ভিত্তিতে পেট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম প্রয়োজন। এর জবাবে লুনার এই কঠোর টুইট প্রমাণ করে যে, আমেরিকার সাধারণ জনগণ বা তাদের জনপ্রতিনিধিরা ইউক্রেনের এই অন্তহীন এবং অর্থহীন যুদ্ধে আর এক ডলারও ঢালতে রাজি নন, কারণ এটি সম্পূর্ণ আমেরিকার ট্যাক্সের পয়সার অপচয়।

কংগ্রেসওম্যান লুনা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেখানে আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধের দ্রুত অবসান চান, সেখানে জেলেনস্কিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই শান্তি চুক্তির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। জেলেনস্কি নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং পশ্চিমা অনুদান লুটে নিতে এই যুদ্ধকে জোর করে টিকিয়ে রাখছেন, যা কোনোভাবেই আর চলতে দেওয়া যায় না।

জেলেনস্কি সরকারের ভেতরের স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষও এখন অতিষ্ঠ। তিনি ইউক্রেনের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন অর্থোডক্স চার্চের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এবং যাজকদের বন্দি করেছেন। একই সাথে ২০২৪ সালে তার প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তিনি দেশে কোনো নির্বাচন করতে দিচ্ছেন না। যার কারণে রাশিয়া জেলেনস্কিকে এখন একজন সম্পূর্ণ অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য শাসক মনে করে।

কিয়েভ সরকারের মিথ্যাচারের এখানেই শেষ নয়। জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন যে আমেরিকা নাকি পোস্ট-কনফ্লিক্ট সিকিউরিটি গ্যারান্টির শর্ত হিসেবে ইউক্রেনকে দনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে চাপ দিচ্ছে। তবে আমেরিকার বর্তমান প্রশাসন ও সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও জেলেনস্কির এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যা কথা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, যা ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যে নামিয়ে এনেছে।

ইউক্রেন সরকারের এই উগ্র জাতীয়তাবাদী ও নাৎসিবাদের চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে যখন জেলেনস্কি স্বয়ং তাদের একটি এলিট কমান্ডো ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কুখ্যাত নাৎসি সহযোগীদের নামে নামকরণ করেছেন। স্পেশাল অপারেশন সেন্টার নর্থ নামের এই ইউনিটটিকে এখন থেকে ‘হিরোস অব দ্য ইউপিএ’ নামে ডাকা হবে, যা পোল্যান্ড ও ইহুদিদের গণহত্যাকারী উগ্রপন্থীদের ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করার শামিল।

ইতিহাস সাক্ষী, এই ইউপিএ এবং ওইউএন নামক সংগঠনগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির সাথে হাত মিলিয়েছিল এবং প্রায় এক লক্ষ নিরীহ পোলিশ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। আধুনিক ইউক্রেনে এই খুনিদের জাতীয় বীর হিসেবে সম্মান দেওয়া হচ্ছে, তাদের জন্মদিনে মশাল মিছিল করা হচ্ছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ একে পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা বলে হুঁশিয়ার করেছেন।

পশ্চিমাদের এই সমস্ত রাজনৈতিক ও আদর্শিক দেউলিয়াত্বের মাঝে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া তাদের বিজয় অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের খারকভ অঞ্চলের ‘নোভোভ্যাসিলেভকা’ নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মুক্ত করেছে। রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ নর্থের তীব্র ও সুপরিকল্পিত আক্রমণের মুখে কিয়েভের সেনারা তাদের অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যুদ্ধক্ষেত্রের সমস্ত ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রায় ১,২৪৫ জন সেনা হারিয়েছে। এর মধ্যে ব্যাটলগ্রুপ নর্থের এলাকায় ১৮৫ জন, ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্টের এলাকায় ১৮০ জন এবং ব্যাটলগ্রুপ সাউথের এলাকায় ৯০ জন সেনা নিহত হয়েছে। এই অভিযানে আমেরিকার তৈরি অত্যাধুনিক M113 সাঁজোয়া যানসহ অসংখ্য পশ্চিমা সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে।

একই সাথে রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার এবং ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও গভীরে প্রবেশ করেছে। এই দুই ফ্রন্টে কিয়েভ বাহিনী যথাক্রমে ৩৭০ জন করে মোট ৭৪০ জনেরও বেশি সেনা হারিয়েছে। ইউক্রেনের যান্ত্রিক ব্রিগেড, এয়ার অ্যাসল্ট রেজিমেন্ট এবং ন্যাশনাল গার্ডের ঘাঁটিগুলো রুশ গোলন্দাজ ও বিমান বাহিনীর নিখুঁত নিশানায় সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে গেছে, যা ইউক্রেনের মনোবল ভেঙে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার অজেয় সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনের ৬৭১টি যুদ্ধবিমান, ১৫২,৯৬৫টি ড্রোন এবং প্রায় সাড়ে ২৯ হাজারেরও বেশি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। রণক্ষেত্রের এই বাস্তব চিত্র প্রমাণ করে যে, পশ্চিমা অর্থ আর নাৎসি আদর্শ দিয়ে রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিজয়কে কোনোভাবেই রোধ করা সম্ভব নয়। সত্য ও ন্যায়ের এই লড়াইয়ে রাশিয়ার জয় নিশ্চিত।