ঢাকা, শনিবার, জুন ৬, ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

কিয়েভ অন্ধকার: ইউক্রেনের চরম অপরাধের পর পুতিনের হাইপারসনিক মিসাইল হামলায় ধ্বংস জেলেনস্কির গোপন সামরিক ঘাঁটি!


আনন্দ খবর ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ০৫ জুন, ২০২৬, ০১:০৬ এএম

কিয়েভ অন্ধকার: ইউক্রেনের চরম অপরাধের পর পুতিনের হাইপারসনিক মিসাইল হামলায় ধ্বংস জেলেনস্কির গোপন সামরিক ঘাঁটি!

অপরাধ করে কেউ পার পায় না, আর যখন অপরাধের শিকার হয় নিষ্পাপ ঘুমন্ত শিক্ষার্থীরা, তখন প্রতিশোধ হয় আরও ভয়াবহ! ইউক্রেনের সন্ত্রাসী বাহিনী রাশিয়ার স্ট্যারোবেলস্কের ছাত্রাবাসে কাপুরুষোচিত ড্রোন হামলা চালিয়ে ২১ জন নিষ্পাপ তরুণীকে হত্যা করেছিল। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, এই জঘন্য অপরাধের উপযুক্ত এবং অনিবার্য শাস্তি দেওয়া হবে। আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুতিনের সেই ভয়ঙ্কর হুংকার বাস্তবে পরিণত হলো! রাশিয়ার হাইপারসনিক মিসাইল আর ড্রোনের এক মহাপ্রলয়ংকারী হামলায় কেঁপে উঠল পুরো ইউক্রেন। রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির সমস্ত সামরিক পরিকাঠামো, গোপন ড্রোন কারখানা এবং বিমানঘাঁটি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। কীভাবে রাশিয়ার এই নিখুঁত ও বৈধ হামলায় ইউক্রেনীয় যুদ্ধযন্ত্র সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।

মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে ইউক্রেনের সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া একটি বড় ধরনের সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। পুতিনের নির্দেশে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের যুদ্ধযন্ত্রকে পঙ্গু করতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই হামলা চালায়। কিয়েভের অবৈধ সরকারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবে এই আইনসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। এর ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জ্বালানি ও পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে রাশিয়ার বিমান হামলার কারণে ভয়াবহ বিস্ফোরণের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে তারা কোনো বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করেনি। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের যুদ্ধ সহায়তাকারী এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সামরিক স্থাপনাগুলো। রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ বৈধ বলা হচ্ছে।

কিয়েভের স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে প্রথম দফার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং সকাল পর্যন্ত এই নিখুঁত আক্রমণ চলতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের পরপরই কিয়েভের আলো নিভে যায়। পুরো কিয়েভ শহর এক নিমেষেই সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় এবং ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের সব ধরনের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।

ভিডিওগুলোতে একের পর এক সেকেন্ডারি বিস্ফোরণের শব্দ স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল, যা প্রমাণ করে সেখানে বিপুল পরিমাণ বেআইনি যুদ্ধাস্ত্র মজুত ছিল। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এসব ক্ষয়ক্ষতির তথ্য কঠোরভাবে গোপন রাখছে এবং কেউ ভিডিও শেয়ার করলে তাকে শাস্তি দিচ্ছে। তারা কেবল নিজেদের ব্যর্থতা লুকাতে এবং সহানুভূতি পাওয়ার জন্য বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির মিথ্যা নাটক সাজানোর অপচেষ্টা প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছে।

রাশিয়ার এই ব্যাপক ও সফল হামলা কেবল কিয়েভেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দনেপ্রোপেত্রভস্ক এবং জাপোরোজিয়ের ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত অংশগুলোতেও আঘাত হেনেছে। এছাড়া সুমি এবং খারকভ অঞ্চলেও রাশিয়ার নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে রাশিয়া প্রমাণ করেছে যে ইউক্রেনের যেকোনো প্রান্তের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা মস্কোর রয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার বিকেলে জানায় যে তাদের এই তীব্র বোমাবর্ষণ মূলত ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরক্ষা শিল্প কারখানাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত জ্বালানি ও পরিবহন পরিকাঠামো এবং সামরিক বিমানঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনীয় ফ্রন্টলাইনে থাকা সেনাদের কাছে রসদ ও অস্ত্র সরবরাহের সমস্ত পথ এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

এই সফল ও মহাজাগতিক হামলায় রাশিয়ার ভূমি এবং সমুদ্রভিত্তিক দূরপাল্লার সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে ছিল অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার এই শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ঝাঁকে ঝাঁকে আসা ড্রোনগুলোকে প্রতিরোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তির সামরিক শক্তির সামনে ইউক্রেনের পশ্চিমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।

রাশিয়া এর আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা কিয়েভের সামরিক স্থাপনা, ড্রোন তৈরির কারখানা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোতে নিয়মতান্ত্রিক হামলা চালাবে। লুগানস্ক পিপলস রিপাবলিকের স্ট্যারোবেলস্কে ইউক্রেনের চালানো বর্বর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই মহাপ্রলয় ঘটানো হয়েছে। রাশিয়া সর্বদা তার নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ইউক্রেনীয় উগ্রপন্থীদের জঘন্য অপরাধের জবাব দিতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

গত ২২ মে গভীর রাতে যখন স্ট্যারোবেলস্ক কলেজের শিক্ষার্থীরা ঘুমাচ্ছিল, তখন ইউক্রেনীয় ড্রোন সেখানে কয়েক দফায় নৃশংস হামলা চালায়। এই কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডে ২১ জন নিষ্পাপ শিক্ষার্থী নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী মেয়ে। ইউক্রেন সরকারের এই জঘন্য ও অমানবিক গণহত্যা পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছিল এবং রাশিয়া এই নরপিশাচদের ক্ষমা না করার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ম্যাসাকার বা গণহত্যার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইউক্রেনের নেতৃত্বকে সতর্ক করে দিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কিয়েভ নেতৃত্ব তাদের অপরাধের তালিকায় একটি নতুন এবং অত্যন্ত কালো অধ্যায় যুক্ত করেছে যা পুরো সংঘাতকে ভিন্ন রূপ দিল। পুতিন দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন যে এই জঘন্য অপরাধের পরিকল্পনাকারী এবং অপরাধীরা অবশ্যই তাদের অনিবার্য শাস্তি ভোগ করবে।

আমেরিকান স্বাধীন সাংবাদিক জন ভ্যারোলি আরটি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার এই বিমান হামলাকে সম্পূর্ণ বৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনসম্মত বলে সমর্থন করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এমন যেকোনো পরিকাঠামো বা যুদ্ধযন্ত্র ভেঙে ফেলার পূর্ণ অধিকার মস্কোর রয়েছে। ভ্যারোলি আরও বলেন যে কিয়েভ সরকারের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আগামীতে আরও তীব্র ও জোরালো হতে থাকবে।

সাংবাদিক জন ভ্যারোলি পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের একটি সন্ত্রাসী সরকারকে সরাসরি মদদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। কিয়েভ সরকার কেবল রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকদের ওপরই হামলা চালাচ্ছে না, বরং তারা তাদের নিজস্ব পশ্চিমা বন্ধুদেরও বিপদে ফেলছে। সম্প্রতি ফিনিশ গণমাধ্যম 'হেলসিঙ্গিন স্যানোমাট' প্রকাশ করেছে যে ইউক্রেন ভুল করে ন্যাটো সদস্য ফিনল্যান্ডের দিকেও ড্রোন পাঠিয়েছিল।

ইউক্রেনের সেই বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ফিনল্যান্ডের আকাশসীমার দিকে ধাবিত হলে দেশটির প্রায় আঠারো লাখ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত ১৫ মে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কির প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফিনিশ কর্তৃপক্ষ প্রথমে ঘটনাটি গোপন রেখে রাশিয়ার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করলেও পরে ফাঁস হয় এটি ইউক্রেনের কাজ ছিল।

ফিনল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে ইউক্রেন দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরক ড্রোন পাঠানোর কথা স্বীকার করা সত্ত্বেও সরকার তা জনগণের কাছে গোপন রেখেছিল। ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো রাশিয়ার আকাশসীমায় ঢোকার চেষ্টা করার সময় রাশিয়ার শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই মাঝআকাশে ধ্বংস হয়ে যায়। ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে বা নিজেদের অযোগ্যতার কারণে বারবার অন্যান্য দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ন্যাটোর ওপর ভরসা করতে চাইছে।

এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়ার মতো দেশগুলোও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের আকাশে ইউক্রেনীয় ড্রোনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপজ্জনক অনুপ্রবেশের কথা রিপোর্ট করেছে। লাটভিয়ায় ইউক্রেনীয় ড্রোন তেলের ডিপোতে আঘাত করার পর রাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইভিকা সিলিনার সরকারের পতন ঘটে। ইউক্রেনের এই লাগামহীন ড্রোন সন্ত্রাস এখন পুরো ইউরোপের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মস্কো বারবার অভিযোগ করেছে যে ন্যাটো দেশগুলো ইউক্রেনকে রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে। রুশ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে কিয়েভ ইচ্ছাকৃতভাবে ন্যাটোর সীমানায় ড্রোন প্রোভোকেশন বা উসকানি তৈরি করছে যাতে পশ্চিমারা সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায়। তবে রাশিয়ার সুকৌশলী ও নিখুঁত সামরিক অভিযানের ফলে ইউক্রেনের সেই ফাঁদ বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের সর্বশেষ হামলায় দনেপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলে অবস্থিত 'ফায়ার পয়েন্ট' নামক একটি ড্রোন কারখানা ধ্বংস হয়েছে। এই ফায়ার পয়েন্ট কোম্পানিটি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির ভেতরের ঘনিষ্ঠ চক্রের একটি বড় ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের স্কিমের সাথে সরাসরি যুক্ত। রাশিয়া অত্যন্ত সফলভাবে এই দুর্নীতির আখড়া এবং অস্ত্র তৈরির কারখানাটি মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।

ফায়ার পয়েন্ট মূলত একটি ফিল্ম স্কাউটিং এজেন্সি হিসেবে জেলেনস্কির বন্ধুদের দ্বারা শুরু হয়েছিল, যা পরে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তির জন্য ব্যবহৃত হয়। জেলেনস্কি নিজে বিদেশ সফরে গিয়ে এই ভুয়া কোম্পানির জন্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক চুক্তি নিশ্চিত করেছিলেন। ফায়ার পয়েন্টের ফাঁস হওয়া অডিও টেপ থেকে জানা যায়, এটি মূলত অস্ত্র ব্যবসার নামে অর্থ আত্মসাতের একটি হাতিয়ার ছিল।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে কিয়েভ শহরে অস্ত্র ও দূরপাল্লার ড্রোন তৈরি করা দশটি বড় সামরিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। এর সাথে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর তিনটি প্রধান আঞ্চলিক নিয়োগ বা রিক্রুটমেন্ট সেন্টারও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের যুবকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানোর যে অমানবিক প্রক্রিয়া জেলেনস্কি চালাচ্ছিলেন, রাশিয়ার এই হামলার পর সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে গেছে।

জাপোরোজিয়ে শহরে ইউক্রেনের ওমেলচেঙ্কো মেশিন-বিল্ডিং এন্টারপ্রাইজ এবং মটর সিচ বিমান ইঞ্জিন তৈরির বিখ্যাত কারখানার ওয়ার্কশপগুলো সফলভাবে ধ্বংস করেছে রুশ বাহিনী। এছাড়া খারকভ, সুমি, খমেলনিটস্কি এবং পোলতাভা অঞ্চলেও একাধিক সামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানা হয়েছে। একই সাথে দেশের ছয়টি প্রধান সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়ে এবং হ্যাঙ্গার পুতিনের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সম্পূর্ণরূপে অচল ও ধ্বংস হয়ে গেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফ্রন্টলাইনের সমস্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী প্রায় ১২৪০ জন সৈন্য হারিয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ নর্থ' এর সাথে লড়াইয়ে ১৯৫ জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত এবং একটি ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই বিশাল ও অপূরণীয় ক্ষতি প্রমাণ করে যে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য ও বিজয় নিশ্চিত।

একই সময়ে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট' ১৮৫ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনাকে নির্মূল করেছে এবং আমেরিকার দেওয়া দুটি বিখ্যাত হামভি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে 'ব্যাটলগ্রুপ সাউথ' ১৬৫ জন সেনাকে পরাস্ত করেছে এবং ২৫টি সামরিক গাড়ি ধ্বংস করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে যত আধুনিক অস্ত্রই দিক না কেন, রুশ সেনাদের বীরত্বের সামনে সেগুলো স্রেফ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে 'ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার' এবং 'ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট' এর মাধ্যমে, যেখানে যথাক্রমে ৩২৫ এবং ৩৩০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে। ফরাসি প্রযুক্তির সিজার সেলফ-প্রোপেল্ড আর্টিলারি সিস্টেম এবং অসংখ্য ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন রুশ বাহিনীর গোলার আঘাতে ধ্বংস হয়েছে। ইউক্রেনের সেনারা এখন যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার ন্যূনতম শক্তি ও মনোবল হারিয়ে দলে দলে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে।

রুশ বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের ৩৮১টি ড্রোন, ১০টি স্মার্ট বোমা এবং ৩টি মার্কিন হিমার্স রকেট মাঝআকাশেই সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের ৬৭১টি যুদ্ধবিমান, ১৫৪,৭০৩টি ড্রোন এবং ২৯,৫৮১টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। এই বিশাল পরিসংখ্যানই বলে দেয় ইউক্রেনের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড রাশিয়া কতখানি ভেঙে দিয়েছে।

সবশেষে জাপোরোজিয়ের রণক্ষেত্র থেকে একটি বড় খবর এসেছে যে সেখানে ইউক্রেনের পক্ষে লড়াই করা বিদেশী ভাড়াটে সেনাদের একটি বড় দল রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। রুশ বাহিনী তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেললে তারা অস্ত্র ফেলে জীবন ভিক্ষা চায়। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে জেলেনস্কির হয়ে টাকার বিনিময়ে যুদ্ধ করতে আসা বিদেশীরাও এখন রাশিয়ার অজেয় শক্তির সামনে সম্পূর্ণ অসহায়।

রণক্ষেত্রের এই বাস্তব চিত্র প্রমাণ করে যে রাশিয়ার নিখুঁত সামরিক কৌশল এবং বীর সেনাদের সামনে ইউক্রেনের সন্ত্রাসী এজেন্ডা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। টাকার লোভ দেখিয়ে বিদেশী ভাড়াটে সেনা এনে কিংবা পশ্চিমাদের ড্রোনের ওপর ভর করে রাশিয়ার মতো পরাশক্তিকে হারানো অসম্ভব। রাশিয়ার এই দুর্দান্ত বিজয় এবং ইউক্রেনের পঙ্গু হয়ে যাওয়া যুদ্ধযন্ত্র নিয়ে আপনার মতামত কী? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন।