আনন্দ খবর ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
পালাবার সব পথ কি তবে বন্ধ হয়ে গেল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার? দিল্লির নিরাপদ আশ্রয়ে বসেও কেন এখন আতঙ্কে কাঁপছেন তিনি? জাতিসংঘের একটি গোপন রিপোর্ট কীভাবে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিল আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সব স্বপ্ন? আজ আপনাদের জানাবো আন্তর্জাতিক মঞ্চে খুনি হাসিনার চূড়ান্ত একঘরে হওয়ার সেই নেপথ্য কাহিনি, যা শুনলে আপনিও চমকে উঠবেন!
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা চালিয়েছিল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার। নিরীহ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ। পৈশাচিক দমনপীড়ন চালিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এই একনায়ক। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়ের মুখে অবশেষে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন তিনি। তবে পালিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল হোতা শেখ হাসিনা।
বিগত দীর্ঘ একুশ মাসের মধ্যে শেখ হাসিনার একমাত্র তথাকথিত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় মিলেছে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন সংশোধনের জন্য গোপনে চিঠি পাঠানোয়। জাতিসংঘ এই চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। তবে এক ব্রিফিংয়ে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই প্রতিবেদনের বস্তুনিষ্ঠতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে শেখ হাসিনার অপরাধের সত্যতা আরও জোরালোভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
শেখ হাসিনার অন্ধ অনুগামী এবং উগ্র সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতিসংঘের এই মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত রিপোর্টকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু হাসিনার চতুর, শিক্ষিত এবং বিদেশি আইনজীবীরা খুব ভালো করেই জানেন যে, এই অকাট্য প্রতিবেদনটি বিশ্বমঞ্চে তাদের মক্কেলকে কতটা মারাত্মকভাবে একঘরে এবং বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। তাই তারা দেরিতে হলেও এই প্রতিবেদন সংশোধনের ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জাতিসংঘের সেই ঐতিহাসিক তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, চব্বিশের পয়লা জুলাই থেকে পনেরোই আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে নিহতের সংখ্যা অন্তত চৌদ্দশত। অত্যন্ত মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই নিহতদের মধ্যে একশত বত্রিশ জনই নিষ্পাপ শিশু। ক্ষমতা লোভের অন্ধ মোহে মত্ত হয়ে খুনি হাসিনা সরকার শিশুদের বুকেও গুলি চালাতে দ্বিধা করেনি, যা বিশ্ব বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
অভ্যুত্থানকারীদের নির্মমভাবে দমনের জন্য শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মারাত্মক বলপ্রয়োগ করেছিল। তারা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মিলিটারি গ্রেডের মারণাস্ত্র ব্যবহার করে জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে। এই পরিকল্পিত এবং নৃশংস রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগী হিসেবে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল খুনি সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা।
সরকারি হিসেবে জুলাইয়ে শহীদের সংখ্যা আটশত চৌত্রিশ এবং নিহত পুলিশ সদস্য চুয়াল্লিশ জন। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আগুন ও সহিংসতায় আরও প্রায় তিনশত লোক নিহত হন, যার বড় অংশই ছিল সাধারণ লুটপাটের ঘটনা। অথচ চরম মিথ্যাবাদী আওয়ামী লীগের নিজস্ব হিসেবেই তাদের নিহত কর্মীর সংখ্যা মাত্র চৌত্রিশ। ফলে সাকুল্যে মোট প্রাণহানি নিশ্চিতভাবেই বারোশত এর অনেক কম বলে দাবি করছেন হাসিনার আইনজীবীরা।
জাতিসংঘের সুনির্দিষ্ট হিসেব চৌদ্দশত থেকে নিহতের সংখ্যা কিছুটা কম প্রমাণ করতে পারলেই যেন সব অপরাধ মাফ—এমনটাই ভাবছেন হাসিনার আইনজীবীরা। কিন্তু অনলাইনে সক্রিয় থাকা এবং শেখ হাসিনার পুনরায় ফিরে আসার অলীক স্বপ্নে বিভোর সমর্থকেরা কি বুঝতে পারছেন না, কেন আজ এতদিন ভুয়া বলে দাবি করা আন্তর্জাতিক রিপোর্টকে কাউন্টার করতে হচ্ছে? আসলে সত্যের মুখোমুখি হয়ে তারা আজ পুরোপুরি দিশেহারা।
শেখ হাসিনা নিজেকে যতই সর্বশক্তিমান ভাবুন না কেন, তিনি আসলে ইসরাইলের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রনেতা নন যে যা ইচ্ছা তাই করবেন আর বিশ্ব তা মুখ বুজে মেনে নেবে। গাজায় ভয়াবহ জেনোসাইড ঘটানোর পর জাতিসংঘের প্রতিবেদনের কারণে ইসরাইলের দীর্ঘকালের পরম মিত্র ইউরোপও আজ তাদের পাশে দাঁড়াতে পারছে না। স্পেন এবং ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দেশগুলো এখন ওপেনলি ইসরাইলের বিরোধিতা করছে।
আমেরিকার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইতালিসহ বিশ্বের ১২টি রাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ কিংবা সীমিত করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরাইলকে অন্ধ সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু জার্মানি। বিশ্ব রাজনীতির এই কঠিন সমীকরণে খুনি হাসিনার মতো একজন পলাতক একনায়কের পাশে দাঁড়ানোর সাহস কারোরই নেই।
মহাপরাক্রমশালী রাষ্ট্র ইসরাইলেরই যখন বিশ্বমঞ্চে এই করুণ ও একাকী অবস্থা, তখন জাতিসংঘ সরাসরি শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল নির্দেশদাতা এবং আওয়ামী লীগকে খুনের সহযোগী আখ্যা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক শক্তির কেউ কি আর তার পাশে দাঁড়াবে? কোনো পরাশক্তির মাথায় তো আর গ্যাস্ট্রিক হয়নি যে একজন কুখ্যাত গণহত্যাকারীকে সমর্থন দিয়ে নিজেদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও রাজনীতি ধ্বংস করবে!
জাতিসংঘের এই অকাট্য তদন্ত প্রতিবেদনটি মূলত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কফিনে শুধু শেষ পেরেক ঠোকেনি, বরং লগি-বৈঠার নির্মম আঘাত হেনেছে। যতদিন এই আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বহাল থাকবে, ততদিন খুনি হাসিনা বর্ণবাদী ইসরাইল ছাড়া দুনিয়ার আর কোথাও কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম পাবেন না। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পরম বন্ধু ভারতও তাকে প্রকাশ্যে রাজকীয় সমর্থন দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হবে।
বিশ্ববরেণ্য নেতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে জাতিসংঘকে দিয়ে এই নিরপেক্ষ তদন্ত করিয়ে মহৎ কাজটি সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো সংস্থা এই প্রতিবেদন দিলে স্বৈরাচারীরা একে প্রতিহিংসামূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করত। জাতিসংঘকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার সফল কূটনীতির কারণেই মূলত ড. ইউনূসের ওপর তীব্র আক্রোশে প্রতিনিয়ত জ্বলছেন পলাতক স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা।
শেখ হাসিনা খুব ভালো করেই জানেন, এই একটিমাত্র রিপোর্টের কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার আর কোনো বৈধ জায়গা অবশিষ্ট নেই। ফ্যাসিবাদের দোসর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক, সাংবিধানিক কিংবা মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলার মতো নূন্যতম নৈতিক অধিকারটুকুও আজ আর অবশিষ্ট নেই। মানবতাবিরোধী অপরাধের কলঙ্কিত ছাপ্পা গায়ে লেগে যাওয়ায় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রশ্নে বিশ্ব সংস্থা বা উন্নয়ন সহযোগীরা কোনো আপত্তি তোলেনি।
সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা সস্তা টকশোতে 'আপা আগস্টে আসবেন' কিংবা 'ডিসেম্বরে আসবেন' বলে যতই কৃত্রিম হাইপ তোলা হোক না কেন, বাস্তব পৃথিবীটা অনেক বেশি কঠিন। আইনত শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই, তিনি চাইলে আগামী চার ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি থেকে ঢাকা চলে আসতে পারেন। কিন্তু খুনি হাসিনা খুব ভালো করেই জানেন, বাংলাদেশে পা রাখামাত্রই আদালতের ফাঁসির রায় কার্যকর হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধের তকমা থাকায় বিশ্বের কোনো বড় শক্তি আজ আর খুনি হাসিনার পক্ষে দাঁড়াবে না। ক্ষমতা হারানোর পর এতদিনে শেখ হাসিনা নিজের এই করুণ পরিণতি বুঝতে পেরেছেন। তবে তার জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে নিজের সমস্ত পৈশাচিক অপরাধ ও গণহত্যার দায় স্বীকার করে, গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানকে মেনে নেওয়া। আশা করি তিনি তা দ্রুতই বুঝবেন।