ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬ | ১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে পুতিনের বিশেষ দীর্ঘ ফোনালাপ, জেলেনস্কিকে ছাড়াই ফ্রান্সে জি সেভেন সম্মেলন


আনন্দ খবর ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে পুতিনের বিশেষ দীর্ঘ ফোনালাপ, জেলেনস্কিকে ছাড়াই ফ্রান্সে জি সেভেন সম্মেলন

বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল ভূমিকম্প! একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮০ বছরে পা দিতেই তাকে প্রথম ফোন করে শুভেচ্ছা জানালেন ভ্লাদিমির পুতিন। প্রায় এক ঘণ্টার সেই আলাপে যখন মধ্যপ্রাচ্য আর ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর ছক আঁকা হচ্ছে, ঠিক তখনই ফ্রান্সে বসতে যাওয়া জি-সেভেন সম্মেলনের মূল বৈঠক থেকে বাদ পড়ে গেলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি! ক্ষমতার এই নতুন মেরুকরণে কে জিতছে আর কে হারছে? বিস্তারিত জানতে সঙ্গেই থাকুন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির পুতিন তাকে প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই দুই প্রভাবশালী নেতার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে ফোনালাপ হয়। এতে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যা ইউক্রেনকে বেশ চিন্তায় ফেলেছে।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ট্রাম্প পুতিনের এই আন্তরিক শুভেচ্ছায় বেশ আনন্দিত ও আপ্লুত হয়েছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও রাশিয়া দিবসে পুতিনকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছিলেন। পুতিন সেই বার্তার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ট্রাম্পের সেই বার্তায় রাশিয়ার জনগণের প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ পেয়েছিল। এই ঘটনা দুই দেশের শীতল সম্পর্ককে কিছুটা উষ্ণ করছে।

এই দীর্ঘ ফোনালাপে দুই নেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক এবং চলমান ইউক্রেন সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প পুতিনকে জানিয়েছেন যে তেহরানের সাথে আলোচনার ফলাফল দ্রুতই প্রকাশ করা হবে। একই সাথে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এই উত্তেজনা প্রশমনে রাশিয়ার গঠনমূলক ভূমিকা ও সহায়তার জন্য ট্রাম্প পুতিনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

পুতিন এই আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ইরান ও আমেরিকার এই দ্বন্দ্ব পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বকে এক বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারত। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসায় তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। পুতিন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল করতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। ট্রাম্পও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ার এই ভূমিকাকে সাধুবাদ জানান।

ইউক্রেন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আসন্ন জি-সেভেন সম্মেলনে তিনি ইউক্রেন এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর এই যুদ্ধ থামানোর জন্য বিশেষ প্রভাব খাটাবেন। ট্রাম্প চান না এই যুদ্ধ আর দীর্ঘায়িত হোক। তিনি মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব।

পুতিন এই আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ইরান ও আমেরিকার এই দ্বন্দ্ব পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বকে এক বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারত। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসায় তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। পুতিন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল করতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। ট্রাম্পও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ার এই ভূমিকাকে সাধুবাদ জানান।

জবাবে পুতিন ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী যেভাবে রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোতে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে, তা শান্তি আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রের পরাজয় লুকাতে পারবে না। জেলেনস্কি এবং তার ইউরোপীয় সমর্থকরা কেবল যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার প্রস্তাব দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই কোনো টেকসই সমাধান বয়ে আনবে না।

এদিকে জেলেনস্কির পক্ষ থেকে পুতিনের সাথে সরাসরি বৈঠকের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে পুতিন তার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পুতিন বলেন, ইউক্রেনের নেতার যদি সত্যিই আলোচনার ইচ্ছা থাকে, তবে তিনি সরাসরি মস্কো চলে আসতে পারেন। রাশিয়া আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে ইউক্রেনকে অবশ্যই বাস্তব পরিস্থিতি মেনে ডনবাস অঞ্চল থেকে তাদের সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে।

এই ফোনালাপের আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত হলো, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার খুব শিগগিরই মস্কো সফরে যাচ্ছেন। তারা সেখানে পুতিনের প্রতিনিধিদের সাথে ইরান ও ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আরও গভীর আলোচনা করবেন। এই উচ্চপর্যায়ের সফর প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে এক নতুন ও বড় ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতা তৈরি হচ্ছে।

ঠিক এই সময়েই ফ্রান্সের ইভিয়ান-লে-বাইন্সে শুরু হতে যাওয়া জি-সেভেন সামিটের অফিশিয়াল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ফ্রান্স, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর এবং ভারতের নেতাদের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। তবে জেলেনস্কির সাথে ট্রাম্পের কোনো অফিশিয়াল দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এই তালিকায় রাখা হয়নি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলেনস্কি কেবল জি-সেভেন নেতাদের একটি সাধারণ ওয়ার্কিং সেশনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। যদিও পর্দার আড়ালে বা সাইডলাইনে ট্রাম্পের সাথে তার একটি অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ হতে পারে, তবে তা কোনো সুনির্দিষ্ট ফল আনবে না। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ওভাল অফিসে জেলেনস্কির সাথে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর থেকেই মূলত তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে।

অন্য এক ফ্রন্টে, ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার তেল পরিবহনের একটি জাহাজ বা ট্যাঙ্কার জব্দ করাকে কেন্দ্র করে ব্রিটেন ও রাশিয়ার মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দাবি করেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছেন। তিনি এটিকে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের বিরুদ্ধে এক বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন যা রাশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করবে।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাশিয়ার বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। দিমিত্রিভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, স্টারমার নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ অপরাধ এবং অভিবাসন সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই এই নাটকীয় অভিযান চালিয়েছেন। ব্রিটেনের নিজের দেশের নারীরা যখন অপরাধের শিকার হচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রী অন্য দেশের জাহাজ ধরে বাহবা নিচ্ছেন।

ব্রিটেনে সম্প্রতি অভিবাসীদের দ্বারা বেশ কয়েকটি সহিংস অপরাধের ঘটনা ঘটায় দেশটিতে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ তুঙ্গে রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত যুবকের হাতে ১৭ বছরের এক কিশোরী ছুরিকাহত হওয়ার পর এই ক্ষোভ আরও বাড়ে। দিমিত্রিভ মনে করেন, স্টারমার নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে রাশিয়ার সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কৃত্রিম সংঘাত তৈরি করছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

রাশিয়া বরাবরই পশ্চিমাদের এই ছায়া নৌবহরের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, খোলা সমুদ্রে কোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করা জলদস্যুতার শামিল। লন্ডনে রুশ দূতাবাস এই ঘটনাকে একটি অত্যন্ত বৈরী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা হুশিয়ারি দিয়েছে যে, ব্রিটেনের এই উসকানিমূলক আচরণ ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও বিপজ্জনক মোড়ে এনে দাঁড় করাবে।

এদিকে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকে এক ভয়ঙ্কর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ চার বছর ধরে কোনো ছুটি বা রোটেশন না পেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা ইউক্রেনীয় সৈন্যরা মারাত্মক মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। শারীরিক যন্ত্রণা এবং মানসিক অবসাদ দূর করতে তারা প্রতিনিয়ত অপিওডস ও বিভিন্ন কিলার ড্রাগস ব্যবহার করছে।

মনোচিকিৎসক ইগর আলফেরভ জানিয়েছেন, আধুনিক ইতিহাসে কোনো সেনাবাহিনী এভাবে টানা চার বছর কোনো বিশ্রাম ছাড়া যুদ্ধ করেনি। সৈন্যদের পরিবারগুলো ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলে যাওয়ায় তাদের পারিবারিক জীবনও ধ্বংস হয়ে গেছে। একদিকে প্রতিদিন মৃত্যুর ভয়, অন্যদিকে একাকীত্ব—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অর্ধেকেরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনা এখন ড্রাগস এবং অ্যালকোহলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

বাস্তবতা এতই ভয়াবহ যে, আহত সৈন্যদের সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই জোর করে পুনরায় ফ্রন্টলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দনবাসের মুক্ত হওয়া অঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় সৈন্যরা ড্রোনের মাধ্যমে ডিলভারি নেওয়া মাদক খেয়ে সার্বক্ষণিক মাতাল থাকে। এই নেশাগ্রস্ত সৈন্যরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে এবং স্থানীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালায়, যা ইউক্রেনীয় বাহিনীর নৈতিক পরাজয়ের বড় প্রমাণ।

যুদ্ধের এই কঠিন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা এসেছে ইউরোপেরই দেশ স্লোভাকিয়া থেকে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশ ইউক্রেনকে দেওয়া সমস্ত অস্ত্রের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করবে। ফিকো অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী স্লোভাক সরকার দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনকে দান করে দেশকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত করে রেখেছিল।

ব্রাসেলসে আসন্ন ইইউ সম্মেলনে রবার্ট ফিকো এই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলবেন। ফিকো বরাবরই রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধী। তিনি মস্কোতে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বলেছিলেন, পশ্চিমাদের ভুল নীতির কারণে ইউরোপের সাধারণ মানুষকে আজ চড়া দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। ইউরোপের উচিত রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ না করে অবিলম্বে শান্তি সংলাপে বসা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সমালোচনা করে ফিকো বলেন, তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের শেষ সৈন্য এবং শেষ ইউরো থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। এই হঠকারী নীতি ইউরোপের নিজস্ব অর্থনীতি ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্লোভাকিয়ার এই অবস্থানকে সমর্থন করে বলেছে, পশ্চিমারা ইউক্রেনকে বলির পাঁঠা বানিয়ে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধার করছে।

তবে এত নেতিবাচক খবরের মধ্যেও ইউক্রেন ও মলদোভার জন্য একটি সুখবর রয়েছে। লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইইউ মন্ত্রীদের বৈঠকে এই দুটি দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রথম ধাপের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। হাঙ্গেরির নতুন সরকার এই আলোচনায় ভেটো না দেওয়ায় দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কেটে গেছে। এটিকে ইউক্রেনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বিজয় মনে করা হচ্ছে।

যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, ইইউ-এর পূর্ণ সদস্যপদ পেতে ইউক্রেনকে হাজার হাজার ইউরোপীয় আইন নিজের দেশে বাস্তবায়ন করতে হবে, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। তা ছাড়া ইউক্রেনের শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতি দমনে ধীরগতি নিয়ে ইইউ কর্মকর্তারা কিছুটা অসন্তুষ্ট। গত মাসে জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রেই ইয়ারমাকের বিরুদ্ধে ওঠা বড় দুর্নীতির অভিযোগ ইউক্রেনের ভাবমূর্তিকে কিছুটা ক্ষুণ্ন করেছে।

এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার সামরিক অগ্রগতি আরও জোরদার হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ইউক্রেনের ৪৮৩টি ড্রোন এবং ১৪টি স্মার্ট বোম ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া ডোনেটস্কে রাশিয়ার তৈরি বিখ্যাত 'গেরান-২' কামিকাজে ড্রোনের নিখুঁত হামলায় ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর একটি বিশাল ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও গুদাম সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার ‘ওয়েস্ট’ ব্যাটলগ্রুপের মুখপাত্র ইভান বিগমা জানিয়েছেন, তারা একদিনে ইউক্রেনের ৫১টি ড্রোন কন্ট্রোল স্টেশন এবং একটি মার্কিন স্টারলিংক স্যাটেলাইট টার্মিনাল ধ্বংস করেছেন। এর পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা বেশ কয়েকটি সাঁজোয়া যান এবং আর্টিলারি গানও ধ্বংস করা হয়েছে। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধ ক্ষমতা দিন দিন ভেঙে পড়ছে।

সবশেষে জানা গেছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে একজন নিহত এবং একটি তেল টার্মিনালে আগুন লেগেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মধ্যস্থতায় জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুনরায় গ্রিডের সাথে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।