Latest: local train: অফিসটাইমে আরও বাড়ছে ট্রেন, তবু সংক্রমণের আশঙ্কা ঊর্ধ্বমুখী – the number of trains is increasing during office hours, but the risk of coronavirus infection is on the rise

Latest: local train: অফিসটাইমে আরও বাড়ছে ট্রেন, তবু সংক্রমণের আশঙ্কা ঊর্ধ্বমুখী – the number of trains is increasing during office hours, but the risk of coronavirus infection is on the rise

এই সময়: করোনাকালে পরিষেবা শুরুর প্রথম দিন লোকাল ট্রেনে যা দেখা গিয়েছিল, দ্বিতীয় দিন, বৃহস্পতিবারও সেই ধারা অব্যাহত। অর্থাৎ, লোকাল ট্রেনের কামরায় ও স্টেশনে শিকেয় উঠল নিরাপদ দূরত্ববিধি। যা কি না কোভিড-নাইনটিন সংক্রমণের ঝুঁকির আশঙ্কা কমানোর অন্যতম প্রধান শর্ত। ভিড় কমিয়ে ওই দূরত্ব যাতে বজায় রাখা যায়, সেই জন্য এ দিন রাজ্য সরকার ও রেলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আজ, শুক্রবার থেকে ব্যস্ত সময়ে বা অফিসটাইমে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। প্রাক্-করোনাকালে ব্যস্ত সময়ে যত ট্রেন চলত, তার ৯৫ শতাংশ ট্রেনই আজ থেকে চলবে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ব্যস্ত সময়ে যেটা ছিল ৮৫ শতাংশ। ভিড় কমাতে বুধবার বিকেলেই রেলের কাছে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে দিলেই কি কোভিডবিধি অনুযায়ী লোকাল ট্রেনের কামরায় যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখতে পারবেন যাত্রীরা? বিভিন্ন মহল থেকে উঠতে শুরু করেছে সেই প্রশ্ন। রাজ্যে এখনও উৎসবের মরশুম চলছে। এখন কালীপুজো ও ভাইফোঁটার আবহ। সেই জন্য লোকাল ট্রেনের নিত্যযাত্রীদের সবাই এখনও সে ভাবে বেরোননি বলে রেলের কর্মীরাই ধরে নিচ্ছেন। কাজেই প্রশ্ন উঠেছে, উৎসবের রেশ কাটিয়ে আগামী মঙ্গলবার থেকে সেই যাত্রীরা ট্রেনে উঠলে সে ক্ষেত্রে দিনভর আগের মতো ট্রেন চালালেও কি যাত্রীরা নিজেদের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারবেন?

বৃহস্পতিবারও অফিসটাইমে অর্থাৎ সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা ও বিকেল সাড়ে ৪টে থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বহু ট্রেনের কামরায় ছিল বাদুড়ঝোলা ভিড়। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেনে ওঠানামার সময়ে যাত্রীদের গা ঘেঁষাঘেঁষিও হয়েছে। এ দিন স্টেশনে যত যাত্রী ঢুকেছেন, তাঁদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক যাত্রীরই থার্মাল স্ক্যানিং করা হয়েছে। যাত্রীরা সবাই মাস্ক ঠিকঠাক পরেছেন কি না, সেটা দেখার জন্য রেল বা রাজ্য কারও হাতেই পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী নেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দলুই বলছেন, ‘আবদ্ধ পরিবেশে পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব বজায় না-রাখলে করোনা-সংক্রমণের আশঙ্কা মারাত্মক ভাবে বেড়ে যাবে। তাই, লোকাল ট্রেনের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করা উচিত।’

সেই উদ্দেশ্যেই এ দিন ভবানী ভবনে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্বরাষ্ট্র সচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের কর্তারা। ওই আলোচনায় ঠিক হয়, আজ, শুক্রবার থেকেই অফিসটাইমে লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রাক্‌-করোনাকালে অফিসটাইমে হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশন মিলিয়ে আপ ও ডাউনে ১৭৭টি লোকাল ট্রেন চলত। করোনাকালে বুধবার পরিষেবা শুরু হয় সেই ব্যস্ত সময়ে ১৪৮টি ট্রেন দিয়ে। এ দিনের বৈঠকে ঠিক হয়, শুক্রবার থেকে অফিসটাইমে ওই দু’টি স্টেশনে প্রাক্‌-করোনাকালের ৯৫ শতাংশ পরিষেবা দেওয়া হবে, অর্থাৎ ১৬৮টি ট্রেন চালানো হবে ব্যস্ত সময়ে।

পূর্ব রেলের হিসেবে, বুধবার হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশন মিলিয়ে চলা ৬১৩টি ট্রেনে প্রায় ১০ লক্ষ যাত্রী হয়েছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় অর্থাৎ কোভিড পরিস্থিতির আগে ওই দু’টি ডিভিশনের ১৩১৫টি ট্রেনে অন্তত ৩০ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করতেন। কাজেই, এই হিসেব থেকে ইঙ্গিত, ট্রেনের সংখ্যা দ্বিগুণ হলে যাত্রীর সংখ্যাও তিন গুণ হয়ে যাবে! কাজেই, পরিষেবার ১০০ শতাংশ ফের চালু করলে শারীরিক দূরত্ববিধি মানা কী ভাবে সম্ভব!

ভাইফোঁটার পর, আগামী মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর থেকে হাওড়া ও শিয়ালদহে আগের মতোই দিনে গড়ে ৩০ লক্ষ যাত্রীর যাতায়াত শুরু হবে বলে মনে করছেন রেলের কর্তারা। স্বভাবতই ট্রেনের কামরা, প্ল্যাটফর্ম ও বুকিং কাউন্টারের ভিড়ও অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। কী ভাবে এই অবস্থার মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, তার সদুত্তর খুঁজে বের করাই এখন রেল ও রাজ্যের কাছে চ্যালেঞ্জ।

Source link

Follow and like us:
0
20

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here