Latest: ‘পুলিশ ভাইদের’ পদ্মফুলে ভোট দিতে বললেন ভারতী ঘোষ

Latest: ‘পুলিশ ভাইদের’ পদ্মফুলে ভোট দিতে বললেন ভারতী ঘোষ

ঝাড়গ্রাম: ‘পুলিশ ভাইদের’ পদ্মফুলে ভোট দেওয়ার আবেদন করলেন প্রাক্তন আইপিএস তথা রাজ্য বিজেপির নেত্রী ভারতী ঘোষ। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের নোটা এলাকায় বিজেপির এক যোগদান মেলার মঞ্চে ভারতী পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “পুলিশ ভাইয়েরা। আপনারাও পোস্টাল ব্যালটে পদ্মফুলে ভোট দেবেন যাতে আপনারা পার্মানেন্ট হতে পারেন। সমস্ত পুলিশ কর্মী, এনভিএফ কমী, হোম গার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার আপনাদের নিজেদের সম্মান ও স্বার্থ রক্ষার জন্য বিজেপির শক্ত হাত ধরে নরেন্দ্র মোদীর মতো এক সন্ন্যাসীকে সেবা করার সুযোগ দিন যাতে আপনাদের বঞ্চনার দিন শেষ হয়।”

বিধানসভা ভোটের আগে ভারতীকে জঙ্গলমহলে প্রচারের মুখ করেছে বিজেপি। গত কয়েক মাস ধরে ঝাড়গ্রাম জেলায় এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন তিনি। তৃনমূলের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতোকে মাওবাদী যোগে আক্রমণ করছেন। বস্তুতপক্ষে, তৃণমূল ছত্রধরকে প্রচারের মুখ করায় বিজেপিও ভারতীকে জঙ্গলমহলে নামিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন ভারতী অভিযোগ করেন, পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে নাম লেখানোর চেষ্টা করছে। তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে ‘মাননীয়া’ বলে কটাক্ষ করে ভারতী বলেন, “এই জঙ্গলমহল রক্তাক্ত করেছে যারা, আজকে মাননীয়া তাদের পুলিশ দিয়ে ঘোরাচ্ছেন। ছত্রধর মাহাতো নামে এক ব্যক্তি, যিনি আগে মাওবাদী ছিলেন, যিনি আগে বহু লোক মেরেছেন, তার নামে ৪৩টা কেস আছে।

আরও পড়ুন : সব গান আজ সুরহারা, না ফেরার দেশে হায়দার

যিনি ইউএপিএ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, তাঁকে জেল থেকে বের করে এনে তৃণমূলের নেতা বানিয়ে পুলিশ পাহারা দিয়ে জঙ্গলমহলে ছেড়ে দিয়েছেন যাতে আপনাদের মতো সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে টোকা মেরে ভয় দেখাতে পারে।” ভারতীর নিদান, “যখনই ওই লোকটাকে দেখবেন, দরজা বন্ধ করে দেবেন। জলও দেবেন না। কথাও বলবেন না। মুখও দেখবেন না। আপনাদের নিঃশব্দ প্রতিবাদ হবে সর্বোচ্চ প্রতিবাদ। রক্তাক্ত এই জঙ্গলমহলকে শান্তির জায়গায় আনা মাননীয়ার পছন্দ নয়। আবার রক্তাক্ত করতে চান।” প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান, আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি এ রাজ্যে রূপায়িত না হওয়ার জন্য তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করেন বিজেপির রাজ্য নেত্রী। ভারতী বলেন, “আর নেই দরকার তৃণমূলের সরকার। আমরা যদি নিজেদের মাটিতে জয় শ্রীরাম না বলতে পারি, তাহলে ২১এর ভোটে ওদের টিকিট কেটে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেব।”

তাঁর অভিযোগ, বাংলার সাধারণ মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না। বেকার যুবক-যুবতীরা চাকরি পাচ্ছেন না। ভারতী বলেন, “সিভিক ভলান্টিয়ারদের চাকরি পাকা হয়নি। কলকাতা পুলিশে ৩০ হাজার ভ্যাকেন্সি আছে। কলকাতা কর্পোরেশনে ২২ হাজার ভ্যাকেন্সি আছে। পুলিশে বহু পদ খালি। রাজকোষে টাকা নেই, তাই নিয়োগ হয় না।” তিনি অভিযোগ করেন, “টাকা নেই কেন? ২০১১ সাল থেকে মাননীয়ার সরকার ক্ষমতায়। আপনাদের ঘরের চাল মাঝ রাস্তায় বিক্রি করেও কেন টাকা নেই। কাটমানি খেয়ে সব শেষ করে দিয়েছে। সব ঝেড়ে ফাঁকা করে দিয়েছে। জন্ম থেকে মৃত্যু কাটমানি খেয়ে যাচ্ছে। আর রাজকোষ খালি হয়ে যাচ্ছে। আপনাদের হকের জিনিস আপনারা পাচ্ছেন না। আপনারা ২০২১ সালের জন্য তৈরি হোন। বিজেপি জাতীয়তাবাদী সরকার উপহার দেবে। উন্নয়ন পাবেন। ঘুষ না দিয়ে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাবেন। আপনারা পদ্মফুলে ভোট দিয়ে বিজেপিকে নিয়ে আসবেন।” ভারতী দাবি করেন, জঙ্গলমহলের মানুষের ভয় দূর করতে তিনি এসেছেন।



Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here