Latest: এক বাউলের একই অঙ্গে এত রূপ দেখি নি তো আগে

Latest: এক বাউলের একই অঙ্গে এত রূপ দেখি নি তো আগে

“একই অঙ্গে এত রূপ দেখি নি তো আগে ” প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী মান্না দে-র গাওয়া বিখ্যাত এই গানটি শুনলে বহুমুখী প্রতিভাবান ও রাজ্যের নিঃস্বার্থ বিনাপারিশ্রমিকে সমাজ সচেতনের লোক শিল্পী বাউল স্বপন দত্ত -র কথা বলতেই হবে। যিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের খাজা আনোয়ার বেড়, পূর্ব বর্ধমান জেলার মানুষ।

তিনি খুবই গরিব ঘরের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এমন দিন গেছে তার দুবেলা দুমুঠো ভাত ঠিকমত জোটে নি সংসারে। স্বপন বাবুর বাবা মা খুব কষ্টের সংসারেও তাকে মানুষ করেছেন । গরিব অসহায় বলে ছোটো থেকেই শিল্প কলা প্রতিভা নিয়ে জন্ম গ্রহন করে নানা রকম শিল্পকলা চর্চা করা সত্বেও অবহেলায় অনাদরে অবজ্ঞায় সবজান্তা নাম নিয়ে দিন কেটেছে।স্বপন বাবু বলেন তার বাবা ঈশ্বর কুমুদ রঞ্জন দত্ত ও মাতা মিনতি রানী দত্ত র কাছে তিনি ছোটো বেলায় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তিনি নিজেকে এমন একজন তৈরি করবেন যে লোকে তার বাবা মাকে সম্মান দেবে।

তিনি বড় হয়ে তার কথা রেখেছেন , বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি একজন আদর্শ শিল্পী। আমরা সকলেই জানি স্বপন দত্ত একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাউল লোক শিল্পী। স্বপন বাউলের কাছে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানা যায় তিনি বাউল লোক শিল্পী হলেও বহুমুখী শিল্পকলা চর্চায় পারদর্শী। তার বহুমুখী প্রতিভায় রাঙানো শিল্পকলা চর্চায় তার শিল্পী জীবনে তিনি একজন বহুমুখী প্ররিভাবন শিল্পী নামে বহুল সম্মানীত ও জনসমাজে পরিচিত। তাই বলতেই হবে একজন বাউল তার একই অঙ্গে এত রূপ যিনি বহুমুখী শিল্পকলা চর্চা করেন এটা কিন্তূ আগে কখনো দেখি নি। স্বপন বাউলের নানা রকম শিল্পকলা চর্চা এবং প্রতিভা ছোট থেকেই যেন তার মাথা ফুঁড়ে ফুঁড়ে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

আরও পড়ুন : বেশি খেলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, খাওয়া নিয়ে অদ্ভূত নির্দেশনা

তিনি বলেন বেশির ভাগই প্রতভা তার জন্মগত এবং কিছু কিছু শিক্ষাগত প্রতিভা। দেবী সরস্বতী মায়ের অসীম কৃপায় তার বহুমুখী প্রতিভার গুণের জন্য স্বনামধন্য গুরুজী দের কাছে নানারকম শিল্পকলা শিখে প্রিয়পাত্র হয়ে বিনাপারিশ্রমিকে শিক্ষা লাভ করেছেন এবং তিনি দেবী সরস্বতী র বরপ্রাপ্ত পুত্র সম্মানীত হয়েছেন। স্বপন দত্ত বাউলের বহুমুখী প্রতিভা তার নানা গুন চোখে না দেখলে অবাক হতে হয় যেমন -ছবি আঁকা, হস্তশিল্প, গীত রচনা , সুর সৃষ্টি, কন্ঠ শিল্পী, তবলা বাদক ,নিজে তবলা সঙ্গত করে সঙ্গীত পরিবেশন, কবিতা লেখা, আবৃত্তি করা, শ্রুতিনাটক, বাঁ হাতে ধরে নাকে সানাই বাজান নিজে তবলা ডান হাতে সঙ্গত করেন, মূকাভিনয়, রঙ্গরস, জাদুকর, বাউল, লোকনৃত্য,অভিনয়, তারাপীঠে মাতৃ সাধনা, সাংবাদিকতা, শিশুসাহিত্যিক, নানা বিষয়ে পুস্তক রচনা, তবলা বাজিয়ে ড্রামা পরিবেশন ও সমাজসেবা।

তার ভিডিও ডিভিডি ও অনুষ্ঠান ও বেতার দুরদর্শনর ও টিভি চ্যানেলে অনুষ্ঠান এবং সাক্ষাৎকার ভিত্তিক অনুষ্ঠান চোখে না দেখলে বা শুনলে অনেকেরই বিশ্বাস না করার মত। স্বপন দত্ত বাউল তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার প্রতিভার নানা অনুষ্ঠানের ভিডিও এবং সংবাদ মাধ্যমে তাকে নিয়ে লেখালেখি ও টিভির খবরে দেশে বিদেশে মানুষের দরবারে পাঠিয়ে একজন বাউল হয়েও তার বহুমুখী প্রতিভায় জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বহুমুখী প্রতিভার অনুষ্ঠান মানুষের নজর কেড়েছে। এই বহু গুণের অধিকারী শিল্পী স্বপন বাউলকে কলকাতা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রী থাকা কালীন যিনি পরে ভারতের রাষ্ট্রপতি সেই প্রয়াত প্রনব মুখোপাধ্যায় তাকে এক অনুষ্ঠানে তার সমাজ সেবার আলোয় বহুমুখী প্রতিভায় মুকদ্ধ হয়ে তাকে শুধু বাংলার নয় ভারতের এক আশ্চর্য প্রদীপ রূপে সম্মানীত করেছেন।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি থাকা কালীন রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে আশির্বাদ ও তার বাড়িতে সম্মানের সঙ্গে কোলডুগি এবং একতারা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি বলেন পুরস্কার উপহার সম্মান ও গুণীজনের আশির্বাদ অনেক পেয়েছি তার মধ্যে পূর্বে ভেঙ্কাইয়া নাইডুর কাছে যিনি বর্তমানে উপরাষ্ট্রপতি তার কাছে ও সম্মানীত, দিল্লী তে আর্ট অফ লিভিং এর ওয়ার্ল্ড কালচার ফেস্টিভ্যালে ১৪২ টি দেশের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সম্মানীত বিশ্ব খ্যাত আধ্যাত্মিক গুরুজী রবিশঙ্কর জি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে, দিল্লীর মদ দাতা মহাউৎসবে ভারতের কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচক নাসিম জাহেদীর প্রশংসা পেয়ে সম্মানীত । বাংলার রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সম্মানীত। ভারতের বামসেফ এবং রাষ্ট্রীয় মূলনিবাসীর রাষ্ট্রীয় অধিবেশনে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ইউ এস এ, বাংলাদেশ, স্পেন, নেপাল প্রভৃতি দেশের প্রতিনিধিদের এবং রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষ ওয়ামান মেশ্রম এর উপস্থিতিতে তাদের মূল্যবান স্বাক্ষর করে স্বপন দত্ত কে পশ্চিম বাংলার রত্ন সম্মান দেওয়া হয় । বাংলাদেশের আমন্ত্রণে ঢাকা হাই কমিশন ও বাংলাদেশ সরকারের দপ্তরের কাছে সম্মানীত এবং সব চেয়ে বড় কথা ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা শহীদ দিবসে ভারত থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে নিজের লেখা ও সুরে গান গেয়ে শহীদ ভাইদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রসংশিত যার ছবি দেখে ও শুনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন এটা ভারতের কাছে গর্বের বিষয় এছাড়া আকাশবাণী ও দুরদর্শনর তার বহুমুখী প্রতিভা নিয়ে বহু অনুষ্ঠান হয়েছে এবং স্বপন দত্ত একজন আকাশবাণী র অনুমোদিত গীতিকার এছাড়া আমেরিকা থেকে আমেরিকা গ্লোবাল বিজনেস সার্ভিস তার বহুমুখী প্রতিভায় মুকদ্ধ হয়ে সম্মান পাঠিয়েছেন এ রকম বহু সম্মানের তার প্রশংসা পত্র গুলি দেখলে তাক লেগে যাবে।

আরও পড়ুন : একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী তার স্বামী নিজেই পছন্দ করতে পারবেন

বহুশিল্পী আছেন কিন্তূ বহুমুখী প্রতিভার আলোয় এমন সমাজ সেবক শিল্পী মনে হয় একজনই আছেন যিনি স্বপন দত্ত , যিনি চলন্ত ট্রেনে বাউল গান গেয়ে ও ফাংশানে বহুমুখী প্রতিভার অনুষ্ঠান করে প্রাপ্ত অর্থে অসহায় দুস্থ কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা মাতার হাতে তুলে দিয়ে অসহায় কন্যা দের বিবাহ দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান । নিজের লেখা বই , নিজের হাতে আঁকা ছবি ও হস্ত শিল্প দ্বারে দ্বারে ও মেলায় বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থে বছরের বিভিন্ন সময়েই অনুষ্ঠান করে রাস্তার ভবঘুরে , ভিক্ষুক ,অনাথ , প্রতিবন্ধী এবং অন্ধজনে চাদর কাপড় বস্ত্র ও অর্থ দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান এবং দৃষ্টিহীন ভিক্ষুক দের গান তবলা শিখিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠানের সুযোগ করে স্বনির্ভর করে তোলার চেষ্টা করেন। ম্যাজিক জাদুকলা দেখিয়ে প্রাপ্ত অর্থে অনাথ শিশুদের ও ভিক্ষুক মা বোন বৃদ্ধ বৃদ্ধা দের জামা প্যান্ট, বই খাতা, ও বস্ত্র দিয়ে পাশে দাঁড়ান এছাড়া বিনা বেতনে অনাথ দুস্থ ছেলেমেয়েদের ছবি আঁকা, তবলা, গান, হস্ত শিল্প প্রভৃতি শিল্পকলা শিক্ষা দিয়ে স্বনির্ভর করে তোলেন এবং তার এই মহতী কাজের জন্য তিনি মানুষ গড়ার কারিগড় নামে সম্মানীত । স্বপন বাউলের গুরুত্বপূর্ণ মহৎ কাজ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা ভাইরাস ও লক ডাউন সময়ে পথে পথে বাউলগানে ভিক্ষা করে অনাথ শিশুদের ও ভবঘুড়ে ভিক্ষুকদের , বৃদ্ধ বৃদ্ধা দের অন্ন ভাত সেবা করানো এবং কিডনি অসুস্থ মানুষকে বাঁচাতে পথে পথে ভিক্ষা করে অর্থ সংগ্রহ করে তার চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তোলা এ এক নজির বিহীন ঘটনা।

এ ছাড়া স্বপন বাউল বলেন রাজ্যের বতর্মান দুলক্ষ লোক শিল্পী বাউলদের মধ্যে তিনি একমাত্র শিল্পী নিঃস্বার্থ ভাবে বিনাপারিশ্রমিকে সমাজ সচেতনের বাউল লোক শিল্পী হয়ে পথে পথে ঘুড়ে সারা রাজ্যে জেলায় জেলায় ও দেশে বিদেশের যেখানে সুযোগ পান সেখানেই বাউলগানে সমাজের কুসংস্কার কুপ্রথা দূরীকরণে ও সমাজের নানা সমস্যা নিয়ে সচেতনের বার্তা দিয়ে সমস্যার সমাধান করে সফল বাউলশিল্পী।

ভারতবর্ষের মানুষের কাছে ও দেশে বিদেশের কাছে তিনি বহু সম্মান পুরষ্কার ও প্রশংসাপত্র পেয়েছেন যা পশ্চিম বাংলার তার জুড়ি মেলা ভার। বিকম হিসাব শাস্ত্র অনার্স নিয়ে পাস করে ও বহু যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কপালে তার কোনো কর্মযোগ চাকরি জোটে নি। এই দুস্থ শিল্পী কে বাঁচিয়ে রেখেছে শুধুমাত্র তার সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা তারা নানা বহুমুখী শিল্পকলা তার কাছে ছবি আঁকা, তবলা, সংগীত, হস্ত শিল্প, আবৃত্তি, জাদুকলা ম্যাজিক শিখে যে যা পারিশ্রমিক দেয় সেই নিয়েই শিল্পীর জীবন চলে। স্বপন দত্ত এমন কথাও বলেন যে আমাকে যদি কেউ আমার সংসারের সকলের মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দেবার জন্য কোনো কাজ দেয় আমি সারা বর্ধমান জেলায় নজির সৃষ্ঠি করে যাবো কারো কাছে শিক্ষা দিয়ে পয়সা নবো না কারণ বহুমুখী শিল্পকলা আমার সাধনার ধন পেশায় নিতে বড় কষ্ট হয়।

স্বপন দত্ত বাউলের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে একজন বাউলের অঙ্গে বহু গুনে রাঙানো রঙের ছোয়া দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করে জানা যায় তিনি বলেন দেবী সরস্বতী মায়ের দয়া আশির্বাদ না থাকলে আমি এত কাজ করতে পারতাম না। এছাড়া বীরভূমের তারাপীঠ মহাসসানে তারামায়ের সাধনা করে তারা মায়ের আশির্বাদ পেয়েই তিনি তার শিল্পী জীবনে আজ বহুল প্রশংসিত ও সম্মানীত হতে পারছেন এবং তিনি একজন শুধু বাউল লোক শিল্পী হলেও তার বহুমুখী প্রতিভার বিকাশ ঘটেছে দেবী তারা মায়ের আশির্বাদেই।

Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here