আব্দুল্লাহ আল মাসুম : রাতের অন্ধকার যত গভীর হয়, ভোরের সূর্য তত উজ্জ্বল হয়ে উদিত হয়! দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াই, ত্যাগ আর নির্বাসন শেষে বাংলার আকাশ-বাতাস আজ আবারও একজনের নামে মুখরিত। তিনি আর কেউ নন—বাংলাদেশের কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক তারেক রহমান। বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন বলছে, কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে আসছেন এই নেতা। কিন্তু কী আছে তার পরিকল্পনায়? কেন বিশ্ববাসী আজ তাকে নিয়ে আশাবাদী?
"মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।" দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত ২৫শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন আধুনিক রাজনীতির রূপকার তারেক রহমান। তার আগমনে দেশের প্রতিটি প্রান্তে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। মাত্র সাত সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি এখন দক্ষিণ এশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তার এই অভাবনীয় উত্থানকে বিশ্ব রাজনীতির এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছে।
সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম অবাধ নির্বাচন। জনরায়ে স্পষ্ট যে, দেশের মানুষ তাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তুলে দিতে চায় এবং আস্থা রাখতে চায়।
জানুয়ারি মাসের শুরুতে টাইম ম্যাগাজিনের মুখোমুখি হয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সামাজিক বিভেদ দূর করার এক যুগান্তকারী পরিকল্পনা পেশ করেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে তার তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, দেশে আইনের শাসন কায়েম করা। দ্বিতীয়ত, ভঙ্গুর আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং তৃতীয়ত, পুরো জাতিকে একটি অটুট ঐক্যের সুতোয় বেঁধে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে গুম, খুন আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তারেক রহমান তা মুছে দিতে বদ্ধপরিকর। তিনি সেনাবাহিনী, আদালত ও সিভিল সার্ভিসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। সতেরো কোটি মানুষের এই দেশে তিনি কোনো প্রতিশোধের রাজনীতি চান না। তিনি মনে করেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারলেই কেবল দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে এবং শান্তি ফিরবে।
আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসের মুখে, মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী এবং বেকারত্ব যুবকদের হতাশায় নিমজ্জিত করেছে। তারেক রহমান এই সংকট উত্তরণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নারী ও বেকারদের আর্থিক নিরাপত্তা দেবে। তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত করতে চান। ব্যাংকিং খাতকে উদার করে আন্তর্জাতিক বাজারের দরজা উন্মুক্ত করার মাধ্যমে তিনি দেশকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে চান।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো বিদেশে কর্মরত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। তারেক রহমান প্রায় দশ লাখ প্রবাসী শ্রমিককে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি মনে করেন, শ্রমিকদের ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি করলে তারা বিদেশে উচ্চ বেতনের কাজ পাবে, যা দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। প্রবাসীদের সম্মান ও অধিকার রক্ষায় তার এই দূরদর্শী চিন্তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে এবং নতুন আশা জাগাচ্ছে।
প্রতিবেশী ভারতের সাথে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন ইস্যু নিয়ে তারেক রহমান অত্যন্ত সাহসিক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক পানি কনভেনশন অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের কথা বলেছেন। শেখ হাসিনার আমলে করা অসম চুক্তিগুলো সংশোধনের মাধ্যমে তিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে চান। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রতিবেশী হিসেবে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে তারেক রহমান এরই মধ্যে সফল কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক ঘাটতি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন তিনি। আমেরিকান তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়টি একটি বড় সাফল্য। তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একযোগে কাজ করে সমৃদ্ধি অর্জন করবে।
তারেক রহমান মনে করেন, দেশের মঙ্গলের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উগ্রবাদ পরিহার করে একটি গণতান্ত্রিক ও সহনশীল সমাজ গড়তে চান। তার নেতৃত্বে বিএনপি এখন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি বারবার বলছেন, ৫ই আগস্টের আগে যে ফ্যাসিবাদের অন্ধকার ছিল, সেখানে দেশ আর ফিরে যাবে না। মানুষ এখন মুক্তভাবে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করবে।
জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ তারেক রহমানের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে। তিনি মনে করেন, যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তারেক রহমান তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছেন। সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আসার সুযোগ করে দিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সুন্দর দেশ রেখে যেতে চান।
তারেক রহমানের এই অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন কেবল একজন রাজনীতিবিদের ক্ষমতায় আসা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মুক্তি। তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে, জনগণের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তার প্রতিটি কথা ও কাজে ফুটে ওঠে দেশপ্রেম এবং গণমানুষের প্রতি অগাধ মমতা। তারেক রহমানের এই দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই বিশ্বের দরবারে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।
শেষে বলা যায়, তারেক রহমান মানেই আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন। ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন তাকে আরও পরিপক্ক এবং জনগণের ঘনিষ্ঠ করে তুলেছে। আজ সারা বিশ্বের নজর এই জননেতার ওপর। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, তারেক রহমানের হাত ধরেই আসবে প্রকৃত স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক মুক্তি। স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত এই দেশে এখন সুশাসনের নতুন সূর্য উদিত হয়েছে, যার সারথি স্বয়ং তারেক রহমান।
