ইউরোপের দেশগুলো যে ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে অন্ধের মতো সাহায্য করছিল, সেই ইউক্রেনের ড্রোনই এখন তাদের নিজেদের ঘরে এসে আঘাত করছে! ভাবা যায়? নিজেদের ছোঁড়া ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউক্রেন এখন তুর্কি জেলেদের হত্যা করছে, আজারবাইজানের নাবিকদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, আর ফিনল্যান্ড-রোমানিয়ার মতো মিত্রদের আকাশসীমা বিপন্ন করে তুলছে। অথচ মস্কোর আকাশ ছুঁতে গিয়ে একদিনে তাদের ৯১১টি ড্রোন মাটির সাথে মিশে গেছে! খারকভে রাশিয়ার প্রচণ্ড আক্রমণে ইউক্রেনের ১,২৭৫ জন সেনা খতম হয়েছে এবং কৌশলগত অঞ্চল শেভচেঙ্কো এখন সম্পূর্ণ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। বিস্তারিত জানতে সঙ্গেই থাকুন।

ইউক্রেনের আসল চেহারা এখন পুরোপুরি উন্মোচিত হয়ে গেছে। গত তিন মাসে ইউক্রেনের অনিয়ন্ত্রিত ড্রোনগুলো একের পর এক আছড়ে পড়েছে ফিনল্যান্ড, বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহ, গ্রিস এবং রোমানিয়ার মাটিতে। তারা শুধু রাশিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের ওপরই হামলা চালাচ্ছে না, বরং নিজেদের পশ্চিমা দাতাদের আকাশসীমাকেও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে যা এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে বেসামরিক এলাকা এবং তেল টার্মিনাল লক্ষ্য করে শত শত দূরপাল্লার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কিছু সদস্য দেশ শুরুতে এই সন্ত্রাসী হামলাগুলোকে উসকানি দিলেও, এখন পরিস্থিতি তাদের নিজেদের দিকেই ঘুরে গেছে। ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো এখন রাশিয়ার সীমান্ত ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আঘাত হানছে, যার ফলে কিয়েভ একের পর এক ক্ষমা চাইতে বাধ্য হচ্ছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ সরকার ইউক্রেনের এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানাতে সাহস পাচ্ছে না। তারা সত্য গোপন করে এই সমস্ত ঘটনার জন্য রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা জ্যামিং সিস্টেমকে দায়ী করছে। ইউক্রেন যে ইচ্ছাকৃতভাবে বা চরম অদক্ষতার কারণে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে, তা পশ্চিমা শাসকরা পুরোপুরি চেপে যাওয়ার অপচেষ্টা করছে।

সম্প্রতি মে মাসের শেষের দিকে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন ন্যাটো সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ইউক্রেনকে তাদের আক্রমণ সঠিক দিকে পরিচালনা করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে পোল্যান্ড ইউক্রেনকে আরও নিখুঁত হওয়ার তাগিদ দিয়েছে। এই সমস্ত বক্তব্য স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, রাশিয়া যা বারবার বলে আসছে—ন্যাটো আসলে এই সংঘাতে সরাসরি অংশ নিচ্ছে।

রোমানিয়ার কনস্টান্টায় একটি ইউক্রেনীয় নৌ ড্রোন তেল টার্মিনালের কাছে বিস্ফোরিত হয় এবং আরও তিনটি ড্রোন সাগরে বিস্ফোরিত হয়। কিয়েভ স্বীকার করেছে যে ড্রোনগুলো তাদের নৌবাহিনীর ছিল এবং তারা এগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। এই ঘটনার পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইউক্রেনকে জবাবদিহি না করে উল্টো পুরো ঘটনাকে রাশিয়ার ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন।

অথচ মে মাসের শুরুতে যখন রোমানিয়ার গালাতিতে একটি ড্রোন অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে আঘাত হানে, তখন বুখারেস্ট কোনো প্রমাণ ছাড়াই রাশিয়াকে দায়ী করেছিল। সেই ঘটনার জেরে রোমানিয়া সরকার কনস্টান্টায় রুশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয় এবং কনসাল জেনারেলকে বহিষ্কার করে। পশ্চিমা দেশগুলোর এই দ্বিমুখী নীতি এখন বিশ্বের মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

আজভ সাগরে রাশিয়ার তাগানরোগ উপসাগরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুটি মালবাহী জাহাজের পাঁচজন আজারবাইজানি ক্রু সদস্য নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। এমভি নাত্রা এবং এমভি জিরকন নামের এই জাহাজ দুটি তুরস্ক থেকে রাশিয়ার রস্টভ-অন-ডন বন্দরে শস্য নিতে যাচ্ছিল। ইউক্রেনের ড্রোন কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি এই বর্বরোচিত হামলার কথা গর্বের সাথে স্বীকার করেছেন।

এই ঘটনার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া ভাষায় জানিয়েছে যে, এই হামলা কিয়েভ সরকারের সন্ত্রাসী চরিত্রকে আবারও প্রমাণ করে। তারা ক্রমাগত বেসামরিক নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই অন্ধ ও হিংস্র আক্রমণ এখন সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম বিপন্ন করে তুলছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

দক্ষিণ এস্তোনিয়ার আকাশে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার সীমান্ত পার হয়ে প্রবেশ করলে ন্যাটো ফাইটার জেট সেটি ভূপাতিত করে। ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ কাবলাকুলা গ্রামের কাছে একটি জলাভূমিতে পড়ে। এই ঘটনার পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাল্টিক দেশগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছে, তবে চিরাচরিতভাবে তারা এই বিচ্যুতির জন্য রাশিয়ার জ্যামিং সিস্টেমকে দায়ী করেছে।

ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি-ভান্টা বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছিল যখন একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে। এর ফলে ফিনল্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, কিয়েভ নিজেই ফিনল্যান্ডকে সতর্ক করেছিল যে তারা দুর্ঘটনাক্রমে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ফিনল্যান্ডের দিকে পাঠিয়ে দিয়েছে, যা ফিনিশ সরকারকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে।

লাটভিয়ার রেজেকনে শহরে দুটি ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার সীমান্ত থেকে এসে একটি খালি জ্বালানি ডিপোতে আঘাত হানে। তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রিস স্প্রুডস এই ঘটনাকে দুঃখজনক কিন্তু গ্রহণযোগ্য বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু লাটভিয়ার সাধারণ মানুষ এবং প্রধানমন্ত্রী ইভিকা সিলিনা এই ব্যর্থতা মেনে নেননি এবং তীব্র জনক্ষোভের মুখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের পর লাটভিয়ার জোট সরকারে চরম ফাটল ধরে এবং প্রধানমন্ত্রী ইভিকা সিলিনা নিজেও পদত্যাগ করেন, যার ফলে পুরো সরকারের পতন ঘটে। ইউক্রেনের একটি অনিয়ন্ত্রিত ড্রোন কীভাবে একটি দেশের নির্বাচিত সরকারকে পতনের মুখে ঠেলে দিতে পারে, লাটভিয়ার এই রাজনৈতিক সংকট তারই জীবন্ত উদাহরণ এবং এটি পশ্চিমা মিত্রদের জন্য একটি বড় শিক্ষা।

গ্রিসের লেফকাডা দ্বীপের কাছে স্থানীয় জেলেরা একটি ইউক্রেনীয় সামুদ্রিক ড্রোন আবিষ্কার করে। গ্রীক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে ড্রোনটি ইউক্রেনের ছিল এবং তারা কিয়েভের বিরুদ্ধে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানায়। এথেন্স স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই ড্রোনটি সামুদ্রিক যান চলাচলের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছিল এবং নিষ্পাপ নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটাতে পারত।

ফিনল্যান্ডের কুভোলা শহরের কাছে দুটি ইউক্রেনীয় ড্রোন বিধ্বস্ত হয়, যার একটির মধ্যে অবিস্ফোরিত ওয়ারহেড বা বোমা পাওয়া যায়। এর দুই দিন পর রাশিয়ার সীমান্তের কাছে আরেকটি ড্রোন বরফের ওপর পাওয়া যায়। ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্তি হাক্কানেন বলেছেন যে তারা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন, কারণ ইউক্রেনীয় ড্রোন ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করছে।

ইউক্রেনের ড্রোনগুলো এভাবে একের পর এক পশ্চিমা মিত্রদের ওপর আঘাত হানার পরও কিয়েভ তাদের এই বিপজ্জনক অভিযান বন্ধ করার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ইউক্রেনীয় নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের মধ্যে ফোনে কথা হলেও, ফিনিশ সীমান্তের কাছে ইউক্রেনীয় হামলা কমানোর বিষয়ে কোনো কার্যকর আলোচনা বা প্রতিশ্রুতি মেলেনি।

গত ২৫শে মার্চ এস্তোনিয়ার আউভেরে গ্রামের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনির ওপর একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আছড়ে পড়ে। একই সকালে আরেকটি ড্রোন লাটভিয়ার ডোব্রোসিনা গ্রামে বিধ্বস্ত হয়। এর দুই দিন আগে লিথুয়ানিয়ার একটি হ্রদে আরেকটি ইউক্রেনীয় ড্রোন পতিত হয়। বাল্টিক কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে ড্রোনগুলো রাশিয়ার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল।

কৃষ্ণসাগরে ক্রিমিয়ার উপকূলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাপুরুষোচিত হামলায় একটি তুর্কি পতাকাবাহী মাছ ধরার নৌকা ডুবে গেছে, যার ফলে একজন ক্রু সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। ডুরু ৬৭ নামের এই ট্রলারটি সেভাস্টোপলের কাছে আক্রান্ত হয়। বুরাক কায়া নামের আরেকটি মাছ ধরার নৌকা আহতদের উদ্ধার করে তুরস্কের ইনেবলু বন্দরের দিকে রওনা দেয়।

তুরস্কের কোস্ট গার্ড একটি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠিয়ে আহতদের উদ্ধার করে কস্তামোনুর একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, ভুক্তভোগীরা মূলত ইউক্রেনীয় বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বাহিনী ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ক্রিমিয়ার আশেপাশে বেসামরিক জাহাজ, বন্দর এবং অন্যান্য অবকাঠামোকে ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

ইউক্রেনীয় বাহিনী ক্রিমিয়ার তেল ডিপো, সরবরাহ রুট এবং বেসামরিক বন্দরগুলোতে নৌ ড্রোন এবং পশ্চিমা দূরপাল্লার মিসাইল দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি সেভাস্টোপল শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং দশজন আহত হয়েছেন। কিয়েভ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চলাচলকারী সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও এখন হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

এদিকে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামের সমাপনী দিনে ইউক্রেন একটি বিশাল ড্রোন হামলা চালায়। তবে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ১৪০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেন্দো নিশ্চিত করেছেন যে এই হামলায় রাশিয়ার কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এই হামলার দুদিন আগে ইউক্রেনীয় নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামে ড্রোন পাঠানোর উসকানি দিয়েছিলেন। একই চিঠিতে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠকের প্রস্তাবও দেন। জেলেনস্কির এই ধরনের সস্তা প্রচারণামূলক চিঠি ও দ্বিমুখী নীতি তার কূটনৈতিক দেউলিয়াত্বকেই প্রকাশ করে।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জেলেনস্কির এই ধৃষ্টতাপূর্ণ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। পুতিন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সাথে কোনো বৈঠকের যৌক্তিকতা নেই। কারণ কিয়েভের কর্মকাণ্ড অর্থপূর্ণ আলোচনার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। রাশিয়া আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে সংকটের মূল কারণগুলোকে সমাধান করার মাধ্যমে।

রণক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবস্থা এখন অত্যন্ত শোচনীয়। সেনা সংকটে ভুগতে থাকা কিয়েভ এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছে যেন সামরিক বয়সের ইউক্রেনীয় পুরুষদের অস্থায়ী সুরক্ষা বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রায় ৪৩ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী ইউরোপে বাস করছেন, যার মধ্যে প্রায় ১০ লাখই যুদ্ধক্ষম পুরুষ যারা জেলেনস্কির জোরপূর্বক খসড়া এড়াতে পালিয়েছেন।

ইউক্রেনের অভ্যন্তরে এখন জোরপূর্বক সেনা নিয়োগ বা 'বাসিফিকেশন' অভিযান চলছে, যেখানে সাধারণ মানুষকে রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্র এবং বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে ইউক্রেনের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর এই প্রক্সি যুদ্ধ এখন শেষ ইউক্রেনীয় নাগরিক বেঁচে থাকা পর্যন্ত লড়াইয়ের এক আত্মঘাতী খেলায় পরিণত হয়েছে।

যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার বীর সেনারা একের পর এক সাফল্য ছিনিয়ে আনছে। নর্থ ব্যাটলগ্রুপের নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপে খারকভ অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শেভচেঙ্কো গ্রামটি এখন সম্পূর্ণ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের ১,২৭৫ জন সেনা হারিয়েছে, সাথে ধ্বংস হয়েছে জার্মানির তৈরি অত্যাধুনিক লেপার্ড ট্যাংক এবং মার্কিন সাজোয়া যান।
 

Ads Space