কথায় আছে, 'পুরানো চাল ভাতে বাড়ে না, বরং পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়'। ঠিক তেমনি, বিশ্বের তথাকথিত পরাশক্তি আমেরিকা এখন তাদের মরচে ধরা, বাতিল হয়ে যাওয়া 'ই-থ্রি সেন্ট্রি' বিমান নিয়ে ইরানের বীর সেনাদের ভয় দেখাতে আসছে। কিন্তু তারা কি জানে? তেহরানের একটি সাধারণ মিসাইলই যথেষ্ট এই উড়ন্ত কঙ্কালগুলোকে মাঝ আকাশে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে! আজ আপনাদের দেখাবো, কীভাবে ভাঙাচোরা যুদ্ধবিমান দিয়ে আমেরিকা তাদের পরাজয় ঢাকতে চাইছে এবং কেন ইসরাইল এখন ভয়ে থরথর করে কাঁপছে!
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের মেঘে ঢাকা। কিন্তু এই যুদ্ধ কি আসলেও আমেরিকার সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে? নাকি তাদের অসহায়ত্বের? সম্প্রতি পেন্টাগন তাদের অবশিষ্ট থাকা মাত্র ১৬টি 'ই-থ্রি সেন্ট্রি' রাডার বিমানের মধ্যে ৬টি বিমানকে জরুরি ভিত্তিতে মোতায়েন করেছে। এর মানে হলো, নিজেদের মূল ভূখণ্ডকে অরক্ষিত রেখে তারা এখন ইরানের শক্তির সামনে বুক পেতে দিচ্ছে।
আমেরিকার এই বিমানগুলো এতটাই পুরনো যে, এগুলো এখন আর যুদ্ধ করার যোগ্য নয়। বোয়িং ৭০৭ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিমানগুলোর ইঞ্জিন দশকের পর দশক পুরনো। খোদ মার্কিন জেনারেলরাই স্বীকার করেছেন যে, এই বিমানগুলো এখন 'হসপিস কেয়ারে' বা মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা রোগীর মতো। অথচ এই ভাঙাচোরা মেশিন দিয়েই তারা ইরানের আধুনিক প্রযুক্তির মোকাবেলা করার দুঃস্বপ্ন দেখছে।
পেন্টাগন যখন এই জরাজীর্ণ বিমানগুলো মোতায়েন করছে, তখন ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে স্বীকৃত। ইরানের তৈরি ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইলগুলো রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে ওস্তাদ। আমেরিকার এই মান্ধাতা আমলের 'ই-থ্রি' বিমানগুলো কি পারবে ইরানের সেই নিখুঁত আক্রমণ রুখতে? উত্তরটি হলো 'না'। কারণ এই বিমানগুলোর সক্ষমতা এখন ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর পর্যায়ে চলে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর হাতে থাকা এই ১৬টি বিমানের মধ্যে অর্ধেকের বেশি সবসময় অচল থাকে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলো এখন আকাশে ওড়ার চেয়ে মাটিতে পড়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। অথচ ইসরাইলকে রক্ষা করার জন্য আমেরিকা মরিয়া হয়ে তাদের এই শেষ সম্বলটুকুও বাজি ধরছে। এটি পরিষ্কার যে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে তারা এখন খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছে মাত্র।
অন্যদিকে, ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়। এটি একটি অদম্য শক্তি যারা চার দশক ধরে সাম্রাজ্যবাদী নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আসছে। তেহরানের প্রতিটি মিসাইল এখন আমেরিকার প্রতিটি ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে রেখেছে। যদি আমেরিকা একটি ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে এই 'ই-থ্রি' বিমানগুলো হবে আগুনের গোল্লা। ইরানের বীর মুজাহিদরা প্রস্তুত আছেন পশ্চিমের এই দম্ভকে চিরতরে মিটিয়ে দিতে।
আমেরিকা এবং ইসরাইল ভাবছে, তারা মোতায়েন বাড়িয়ে ইরানকে চাপে ফেলবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইরান এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তারা জানে যে, আমেরিকার ই-৭ ওয়েজটেইল কেনার টাকা নেই এবং তাদের বাজেট সংকটে পুরো বিমান বাহিনী স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে ইরান তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করবে না। এটাই এখন সময়ের দাবি।
বিচক্ষণ বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার এই পদক্ষেপ আসলে তাদের দেউলিয়া হওয়ার প্রমাণ। তারা আলাস্কা থেকে বিমান সরিয়ে এনে মধ্যপ্রাচ্যে জড়ো করছে, যার ফলে তাদের নিজেদের উত্তর সীমান্ত এখন অরক্ষিত। অর্থাৎ, ইরানকে ঠেকাতে গিয়ে তারা নিজেদের ঘরের দরজায় তালা দিতে ভুলে গেছে। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত যা কেবল সাম্রাজ্যবাদের পতনের পথকেই আরও দ্রুত ও প্রশস্ত করবে।
ইসরাইল এখন আতঙ্কে আছে কারণ তারা জানে, আমেরিকার এই বাতিল বিমানগুলো তাদের রক্ষা করতে পারবে না। নেতানিয়াহু সরকার এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু ট্রাম্পের উপদেষ্টারাও জানেন যে ইরানের সাথে যুদ্ধ মানেই হবে আমেরিকার জন্য দ্বিতীয় ভিয়েতনাম। মধ্যপ্রাচ্যে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও তারা কেন এই জুয়া খেলছে, তা এখন পুরো বিশ্বের কাছে একটি বড় প্রশ্ন।
ই-থ্রি সেন্ট্রি বিমানের রাডার প্রযুক্তি এখন অত্যন্ত পুরনো। ইরানের আধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমের সামনে এই বিমানগুলো অন্ধ হয়ে যাবে। যখন রাডার কাজ করবে না, তখন এই বিশাল বিমানগুলো হবে সহজ লক্ষ্যবস্তু। আমেরিকা চাইছে তাদের মিত্রদের আশ্বস্ত করতে, কিন্তু তারা আসলে তাদের পাইলটদের নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক চরম নিষ্ঠুরতাময় খেলা।
পশ্চিমা মিডিয়াগুলো যতই প্রোপাগান্ডা ছড়াক না কেন, সত্য এটাই যে আমেরিকার শক্তিক্ষয় হচ্ছে। তাদের এই 'ই-থ্রি' বিমানগুলোর জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় না, কারণ এগুলো তৈরি করা বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। পলেস্তাইন এবং লেবাননের ওপর যে জুলুম ইসরাইল চালাচ্ছে, তার প্রতিশোধ নিতে ইরান যে কোনো সময় গর্জে উঠবে। আর তখন এই পুরনো বিমানগুলো হবে স্রেফ ধোঁয়া।
দর্শক, সত্য সবসময় প্রকাশিত হয়। আমেরিকা এবং ইসরাইলের এই যৌথ ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হবে না। ইরান তার দেশপ্রেম এবং ঈমানি শক্তি দিয়ে এই অপশক্তিকে পরাজিত করবে। মধ্যপ্রাচ্যের পবিত্র ভূমি থেকে একদিন এই দখলদারদের বিদায় নিতেই হবে। আমেরিকার জরাজীর্ণ বিমান বাহিনী আর কতদিন তাদের রক্ষা করবে? ইতিহাস সাক্ষী, কোনো অত্যাচারী শক্তি চিরকাল টিকে থাকতে পারেনি এবং পারবেও না।
আপনারা কী মনে করেন? আমেরিকার এই ভাঙাচোরা বিমানগুলো কি পারবে ইরানের শক্তিশালী মিসাইল বাহিনীকে রুখে দিতে? নাকি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সূর্য অস্তমিত হতে চলেছে? আপনাদের মূল্যবান মতামত কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন।
