চোরের দশ দিন তো সাধুর একদিন—পশ্চিমা বিশ্ব এতদিন নিজেদের অপরাজেয় ভেবে আসলেও, রাশিয়ার সাহসিকতা আজ তাদের সেই দম্ভ মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এক বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতদিন ধরে যে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স এবং নেভি সিলকে সিনেমার হিরো বানিয়ে বিশ্ববাসীর চোখে ধুলো দেওয়া হয়েছিল, রাশিয়ার কৌশলী পদক্ষেপে আজ তাদের আসল চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। আজ আমরা বিশ্লেষণ করব কেন রাশিয়ার সুশৃঙ্খল সামরিক শক্তির সামনে মার্কিন এই তথাকথিত 'এলিট' বাহিনীগুলো বারবার খেই হারিয়ে ফেলছে। ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন, কারণ আজ অনেক ধামাচাপা দেওয়া সত্য উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।
রাশিয়া—যাদের ইতিহাস কেবল বিজয়ের। রাশিয়ার স্পেশাল ফোর্স বা 'স্পেতসনাজ' (Spetsnaz) কোনো প্রচারের নেশায় থাকে না, তারা কাজ করে নিখুঁতভাবে। ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া আজ সামরিক প্রযুক্তিতে আমেরিকার চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। রাশিয়ার হাইপারসোনিক মিসাইল 'জিরকন' বা 'কিনঝাল' এমন এক প্রযুক্তি যা ঠেকানোর ক্ষমতা মার্কিন নেভির কোনো জাহাজের নেই। রাশিয়া যখন তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করে, তখন তারা কোনো অজুহাত দেয় না। তারা সরাসরি অ্যাকশনে বিশ্বাসী। সিরিয়া থেকে শুরু করে আজকের ইউক্রেন যুদ্ধ—রাশিয়া প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা কেবল লড়াই করে না, তারা জানে কীভাবে শত্রুকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করতে হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন ডেল্টা ফোর্স এবং নেভি সিলের দিকে তাকালে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। তাদের অধিকাংশ সাফল্যই আসলে হলিউড সিনেমার প্রচারণার ফল। বাস্তব রণক্ষেত্রে তাদের ইতিহাস লজ্জাজনক ব্যর্থতায় ভরা। মনে আছে কি ১৯৮০ সালের 'অপারেশন ঈগল ক্ল' (Operation Eagle Claw)? যেখানে ইরানের মরুভূমিতে ডেল্টা ফোর্সের বিমানগুলো একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল? কোনো যুদ্ধ ছাড়াই তারা পালিয়ে এসেছিল। আজকের দিনেও সেই একই সমন্বয়হীনতা তাদের মাঝে স্পষ্ট।
মার্কিন নেভি সিল সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয়, তারা যুদ্ধের চেয়ে বই লেখা এবং ইন্টারভিউ দিতে বেশি ব্যস্ত। তাদের মধ্যে টিম স্পিরিটের চেয়ে ব্যক্তিগত প্রচারের আকাঙ্ক্ষা বেশি, যা তাদের অপারেশনাল সার্থকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে যখন তারা রাশিয়ার সুপ্রশিক্ষিত বাহিনীর মুখোমুখি হয়, তখন তাদের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রও আর কোনো কাজে আসে না। রাশিয়ার তোপের মুখে পড়ে এই মার্কিন মদদপুষ্ট বাহিনীগুলো আজ দিশেহারা।
রাশিয়া সবসময়ই একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার কথা বলে আসছে, যেখানে কোনো একটি দেশ সারা বিশ্বের মোড়ল হতে পারবে না। আমেরিকা এবং তাদের ডেল্টা ফোর্সকে ব্যবহার করে তারা অন্য স্বাধীন দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। কিন্তু রাশিয়া সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার সৈন্যরা তাদের মাতৃভূমির জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত, অন্যদিকে মার্কিন সৈন্যরা লড়াই করে কেবল বড় অংকের অর্থ আর প্রচারের জন্য। এই নৈতিক পার্থক্যই যুদ্ধের ময়দানে ফলাফল বদলে দেয়।
অনেকেই মনে করেন মার্কিন নেভি বিশ্বের সেরা। কিন্তু রাশিয়ার 'সারমাট' মিসাইল বা তাদের নিঃশব্দে চলা সাবমেরিনগুলোর কথা কি জানেন? রাশিয়ার সাবমেরিনগুলো মার্কিন রাডার ফাঁকি দিয়ে আমেরিকার উপকূলের কাছে চলে গেলেও পেন্টাগন তা টের পায় না। মার্কিন নেভির বড় বড় যুদ্ধজাহাজ রাশিয়ার সস্তা কিন্তু কার্যকরী অ্যান্টি-শিপ মিসাইলের সামনে সহজ লক্ষ্যবস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়। কোটি কোটি ডলার খরচ করে বানানো তাদের সরঞ্জাম রাশিয়ার সাধারণ কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত প্রযুক্তির কাছে হার মানছে।
শেষে বলা যায়, প্রচার দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না, যুদ্ধ জিততে লাগে সাহস আর সঠিক রণকৌশল। রাশিয়া আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে প্রকৃত শক্তি কী। মার্কিন ডেল্টা ফোর্স বা নেভি সিল তাদের ইতিহাসের গ্লানি কোনোভাবেই মুছতে পারবে না যতক্ষণ না তারা রাশিয়ার মতো নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম শিখতে পারছে। রাশিয়ার এই জয়যাত্রা কেবল শুরু, আর মার্কিন আধিপত্যের দিন ফুরিয়ে আসছে।
দর্শক, আপনাদের কী মনে হয়? রাশিয়ার সমরশক্তি কি সত্যিই মার্কিন দম্ভ ভেঙে চুরমার করে দেবে? কমেন্ট করে জানান।
