নিজের বলদ দিয়ে চাষ করা ভালো, অন্যের ঘোড়া দিয়ে নয়। হ্যাঁ দর্শক, প্রবাদটি আজ ইউক্রেনের জন্য অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের ধার করা অস্ত্র আর বুদ্ধিতে চলতে গিয়ে ইউক্রেন আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। 

আজ আমরা কথা বলবো যুদ্ধের ময়দান থেকে আসা এমন এক চাঞ্চল্যকর খবর নিয়ে, যা শুনলে আপনি শিউরে উঠবেন। দোনবাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর পোকরভস্ক (Pokrovsk)। যেখানে রাশিয়ার দুর্ধর্ষ বাহিনী যখন ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন ঠিক কী ঘটেছিল? কেন ইউক্রেন দাবি করছে তারা জয়ী হয়েছে, অথচ বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা? আজ আমরা পর্দার আড়ালের সেই সত্যগুলো বিশ্লেষণ করবো যা মূলধারার পশ্চিমা মিডিয়া আপনাদের দেখাতে চায় না।

গত ১লা ফেব্রুয়ারি, ইউক্রেনের গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে প্রচার করছিল যে তারা নাকি রাশিয়ার দুটি বড় আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছে। কিন্তু একটু গভীরে তাকালে দেখা যায়, এটি ছিল রাশিয়ার একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত 'ট্র্যাপ' বা ফাঁদ। রাশিয়ান বাহিনী যখন পোকরভস্ক এবং পার্শ্ববর্তী রাশা (Rasha) গ্রামে প্রবেশ করে, তখন আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত প্রতিকূল—ঘন কুয়াশা।

ইউক্রেনীয় পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের স্পার্টান ন্যাশনাল গার্ড ব্রিগেড নাকি প্রায় ১০০ রাশিয়ান সেনাকে প্রতিহত করেছে। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, যে দেশ কয়েক বছর ধরে রাশিয়ার আক্রমণের মুখে নিজেদের ভূমি রক্ষা করতে পারছে না, তারা হঠাৎ করে এক রাতে এত বড় সাফল্য কীভাবে পেল? আসলে কি এটি ইউক্রেনের জয়, নাকি রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের একটি অংশ?

পোকরভস্ক শুধু একটি শহর নয়, এটি ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় দোনবাসের প্রধান লজিস্টিক হাব বা রসদ সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র। রাশিয়ার লক্ষ্য অত্যন্ত পরিষ্কার—২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে পুরো দোনবাস অঞ্চলকে মুক্ত করা। আর এই লক্ষ্য অর্জনে পোকরভস্ক দখল করা মানে হলো ইউক্রেনের সাপ্লাই চেইন বা রসদ সরবরাহের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া।

রাশিয়া এখানে তাদের সাঁজোয়া যানের পাশাপাশি সাধারণ বেসামরিক গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং এটিভি (ATV) ব্যবহার করছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন অপারেটররা এগুলোকে সহজ লক্ষ্যবস্তু মনে করলেও, রাশিয়ার আসল উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের দামী ড্রোন এবং গোলাবারুদ শেষ করা। সস্তা মোটরসাইকেল ধ্বংস করতে গিয়ে ইউক্রেন তাদের মূল্যবান অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল খরচ করছে—এর চেয়ে বড় বোকামি আর কী হতে পারে?

ইউক্রেনের সপ্তম র‍্যাপিড রিঅ্যাকশন ফোর্সের জেনারেল ইয়েভেন লাসিচুক সম্প্রতি বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, রাশিয়ার আক্রমণের তীব্রতা কমানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তিনি আশা করছেন বসন্তের মধ্যে রাশিয়ার শক্তি কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাশিয়া তাদের রিজার্ভ ফোর্স বা মেরিন কোরকে এখনো পুরোপুরি ময়দানে নামায়নি।

জেলেনস্কি সরকার এখন তাদের জনগণের কাছে মিথ্যে জয়ের গল্প শোনাচ্ছে যাতে পশ্চিমা সাহায্য বন্ধ না হয়। কিন্তু মাঠের খবর হলো, ইউক্রেনীয় সেনারা এখন ক্লান্ত এবং তাদের মনোবল ভেঙে পড়েছে। তাদের ড্রোন প্রযুক্তি রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের সামনে এখন প্রায় অচল। কুয়াশার দিনে যখন ড্রোন কাজ করে না, তখন ইউক্রেনীয় বাহিনী কার্যত অন্ধ হয়ে যায়।

ইতিহাস সাক্ষী, রাশিয়ার শীত আর প্রকৃতি সবসময় রাশিয়ার পক্ষেই থাকে। নেপোলিয়ন থেকে হিটলার—সবাই এই রাশিয়ার মাটির কাছে পরাজিত হয়েছে। বর্তমান ইউক্রেন যুদ্ধও তার ব্যতিক্রম নয়। ইউক্রেন দাবি করছে যে কুয়াশা তাদের সুবিধা দিচ্ছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই কুয়াশাকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার ইনফিল্ট্রেশন বা অনুপ্রবেশকারী দলগুলো শহরের ভেতরে ঢুকে পড়ছে।

ইউক্রেন বলছে তারা রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করেছে, কিন্তু রাশিয়ার সৈন্যরা এরই মধ্যে পোকরভস্কের উত্তর অংশে এবং রেললাইনের কাছাকাছি নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নিয়েছে। এটি একটি 'স্লেজ হ্যামার' বা হাতুড়ির মারের মতো—একবার আঘাত করলে সব চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।

ইউক্রেনকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে আমেরিকা এবং ন্যাটোর দেশগুলো। তারা চায় যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হোক যাতে রাশিয়ার ক্ষতি হয়, কিন্তু এতে ইউক্রেন নামক দেশটি যে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে, সেদিকে কারো খেয়াল নেই। পশ্চিমা মিডিয়া বারবার রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতির অতিরঞ্জিত খবর দিচ্ছে, কিন্তু তারা বলছে না যে ইউক্রেনের কয়েক প্রজন্ম এই যুদ্ধে শেষ হয়ে গেছে।

রাশিয়া এখানে ধৈর্য ধরছে। তারা চায় না অহেতুক রক্তক্ষয় হোক, তাই তারা ধীরগতিতে কিন্তু নিশ্চিত পদক্ষেপে অগ্রসর হচ্ছে। পোকরভস্কের যুদ্ধে রাশিয়ার এটিভি এবং হালকা যানের ব্যবহার এটাই প্রমাণ করে যে তারা যুদ্ধের খরচ কমিয়ে ইউক্রেনকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

ভেবে দেখুন সেই ইউক্রেনীয় সেনাদের কথা, যাদেরকে জোর করে ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হচ্ছে। তাদের কাছে না আছে পর্যাপ্ত শীতের পোশাক, না আছে জেতার মতো রসদ। অন্যদিকে রাশিয়ার সৈন্যরা লড়াই করছে তাদের মাতৃভূমির অখণ্ডতা রক্ষার জন্য এবং নাৎসি ভাবধারার বিরুদ্ধে। এটি কেবল জমি দখলের যুদ্ধ নয়, এটি একটি আদর্শিক লড়াই।

পোকরভস্কের পতন মানে দোনবাসের পতন। আর দোনবাসের পতন মানে ইউক্রেনের চূড়ান্ত পরাজয়। কুয়াশা কেটে যাবে, সূর্য উঠবে, আর সেদিন বিশ্ব দেখবে রাশিয়ার বিজয় পতাকা। ইউক্রেন সরকার যতই জয়ের দাবি করুক না কেন, সত্যকে বেশিক্ষণ চাপা দিয়ে রাখা যায় না।

আপনারা কী মনে করেন? পোকরভস্কের এই মরণফাঁদে ইউক্রেন কি আসলেই জয়ী হতে পারবে, নাকি এটি তাদের ধ্বংসের শুরু? রাশিয়ার এই অবিশ্বাস্য রণকৌশল নিয়ে আপনাদের মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানান।

news