কথার চেয়ে কাজ বড়, আর সাপের চেয়েও বিষাক্ত যখন বাণ ধেয়ে আসে। শত্রু যখন দম্ভ করে, তখন কালনাগিনীর ছোবলই তার শেষ পরিণতি। কল্পনা করুন এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্রের কথা, যা ছোড়ার পর পৃথিবীর কোনো রাডার তাকে ধরতে পারবে না। যা বাতাসের গতিপথ পাল্টে এমনভাবে ধেয়ে আসবে যে শত্রুপক্ষ চোখের পলক ফেলারও সময় পাবে না। এটি আর কল্পনা নয়, এটি ইরানের নতুন ‘ফাত্তাহ-২’। যে হাইপারসনিক মিসাইলটি এখন আমেরিকা ও ইসরায়েলের সব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থহীন প্রমাণ করে দিয়েছে। কেন এই মিসাইলটি দেখে পেন্টাগনের জেনারেলদের কপালে ঘাম ঝরছে? আজ আমরা জানবো ইরানের সেই অজেয় অস্ত্রের রহস্য যা বিশ্ব মানচিত্র বদলে দিতে পারে।

ইরানের সামরিক প্রযুক্তি আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো ‘ফাত্তাহ-২’। এটি কেবল একটি ক্ষেপণাস্ত্র নয়, এটি একটি গ্লাইড ভেহিকল সমৃদ্ধ হাইপারসনিক অস্ত্র। যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার মিত্ররা ইরানকে নিষেধাজ্ঞার জালে আটকে রাখতে চেয়েছিল, ঠিক তখনই তেহরান এই মারণাস্ত্রটি উন্মোচন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। ফাত্তাহ-২ এর গতি এবং নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষমতা একে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত করেছে।

ফাত্তাহ-২ এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অবিশ্বাস্য গতি। এটি শব্দের চেয়ে প্রায় ১৫ গুণ বেশি দ্রুত গতিতে চলতে সক্ষম। এই অকল্পনীয় গতির কারণে কোনো বিদ্যমান অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম একে মাঝ আকাশে ধ্বংস করতে পারে না। ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ বা আমেরিকার ‘প্যাট্রিয়ট’—সবই এই হাইপারসনিক দানবের সামনে নিছক খেলনা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি ইরানের সেই উদ্ভাবনী শক্তির ফসল যা পশ্চিমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এই মিসাইলটির প্রযুক্তিগত দিকটি আরও চমকপ্রদ। ফাত্তাহ-২ কেবল দ্রুতগামীই নয়, এটি তার লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার সময় নিজের পথ পরিবর্তন করতে পারে। একে বলা হয় ‘হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল’ (HGV)। সাধারণ মিসাইল একটি নির্দিষ্ট বৃত্তাকার পথে চলে, কিন্তু ফাত্তাহ-২ আঁকাবাঁকা পথে চলতে পারে। যার ফলে শত্রুর কম্পিউটার সিস্টেম এটি কোথায় আঘাত হানবে তা অনুমান করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় যা পেন্টাগনকে চরম আতঙ্কে রেখেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যখন এই মিসাইলটি বিশ্বের সামনে আনলেন, তখন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছে যে, ইরান এখন এমন এক প্রযুক্তির মালিক যা বিশ্বের মাত্র তিন-চারটি দেশের কাছে রয়েছে। ইরান প্রমাণ করেছে যে, তারা কেবল তেলের দেশ নয়, তারা বিজ্ঞানের দেশ, তারা প্রতিরোধের দেশ। ফাত্তাহ-২ হলো সেই প্রতিরোধের সবচেয়ে ধারালো তলোয়ার।

ফাত্তাহ-২ এর পাল্লা বা রেঞ্জ ১,৫০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটারের বেশি। এর মানে হলো, ইরান থেকে মাত্র কয়েক মিনিটে এটি মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে গিয়ে আছড়ে পড়তে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার দেন, তখন তাকে এই ৪ মিনিটের হিসাবটি মাথায় রাখতে হচ্ছে। কারণ আমেরিকান এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা রণতরীগুলো এই হাইপারসনিক মিসাইলের হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় এখনো খুঁজে পায়নি।

ইসরায়েল সব সময় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়াই করে। কিন্তু ফাত্তাহ-২ আসার পর তাদের সেই দম্ভ ধুলোয় মিশে গেছে। মোসাদ এবং সিআইএ-র গোয়েন্দা রিপোর্টে স্বীকার করা হয়েছে যে, ফাত্তাহ-২ রুখতে তাদের বর্তমান প্রযুক্তিতে অন্তত আরও ২০ বছর সময় লাগবে। অথচ ইরান আজই সেই প্রযুক্তির মালিক। এটিই হলো শক্তির আসল ভারসাম্য, যা ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং শত্রুদের পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

এই মিসাইলটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে বিশেষ ধরণের সলিড ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানি। এর ফলে এটি দীর্ঘ সময় প্রস্তুত রাখা যায় এবং যুদ্ধের সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের নোটিশে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। লিকুইড ফুয়েল মিসাইলের মতো একে রিফুয়েলিংয়ের জন্য দীর্ঘ সময় লাগে না। এই ক্ষিপ্রতাই ইরানকে প্রতিপক্ষের চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে রেখেছে। ইরানের এই অগ্রগতি আজ সারা বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, ফাত্তাহ-২ এর গতির কারণে মার্কিন সেন্সরগুলো কেবল এটি বিস্ফোরণের পরেই বুঝতে পারবে যে হামলা হয়েছে। মাঝপথে একে থামানোর কোনো প্রযুক্তি আমেরিকার নেই। এটি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মুখে বড় এক চপেটাঘাত। আমেরিকা এখন বুঝতে পারছে যে, ইরানকে দমানো আর সম্ভব নয়, কারণ তারা এখন প্রযুক্তির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহন করেছে।

ফাত্তাহ-২ এর ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যে এটি রাডার সিগনেচার অত্যন্ত কম দেয়। এর মানে হলো এটি অনেকটা অদৃশ্য হয়ে আকাশের বুক চিরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ইরান এই মিসাইলটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে, যা প্রমাণ করে যে কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা তাদের বিজ্ঞানের যাত্রাকে রোধ করতে পারেনি। উল্টো নিষেধাজ্ঞাই তাদের আরও বেশি উদ্ভাবনী এবং শক্তিশালী হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে যা একটি জাতির বীরত্বের পরিচয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন ইরান দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, সেই ভুলের মাশুল আজ আমেরিকাকে দিতে হচ্ছে। ইরান আজ কেবল ড্রোন নয়, হাইপারসনিক মিসাইলের জগতেও বিশ্বনেতা। ফাত্তাহ-২ হলো সেই অন্যায়ের জবাব। এটি প্রমাণ করে যে, সত্যের পথে থাকলে এবং আল্লাহ’র ওপর ভরসা রাখলে কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিই কোনো জাতিকে দাবিয়ে রাখতে পারে না।

ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাতের ময়দানে ফাত্তাহ-২ হবে তুরুপের তাস। যদি ইসরায়েল ভুল করেও ইরানের পবিত্র ভূমিতে হামলার চেষ্টা করে, তবে পরবর্তী কয়েক মিনিটের মধ্যেই তেল আবিবের আকাশ ফাত্তাহ-২ এর আগুনে আলোকিত হয়ে উঠবে। এই ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবেই আজ হোয়াইট হাউস ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে চাইছে। ইরানের এই সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব আজ পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে যা অজেয় তেহরানের জয়গান।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের এই অস্ত্র কেবল আত্মরক্ষার জন্য। কিন্তু যদি কেউ সীমা লঙ্ঘন করে, তবে ফাত্তাহ-২ তার চূড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করবে। এই জেদ আর আত্মবিশ্বাসই ইরানকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। যারা ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার স্বপ্ন দেখে, ফাত্তাহ-২ তাদের সেই স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট। এটি বীরত্বের এক নতুন সংজ্ঞায়িত রূপ।

শেষে বলা যায়, ফাত্তাহ-২ হাইপারসনিক মিসাইলটি ইরানের কেবল একটি অস্ত্র নয়, এটি তাদের সার্বভৌমত্বের গ্যারান্টি। যারা ইরানকে তুচ্ছজ্ঞান করতে চেয়েছিল, আজ তারা এই মিসাইলের গতিবেগ গণনা করে অস্থির হয়ে পড়ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আস্ফালন আর ইসরায়েলের ষড়যন্ত্রের মুখে ইরানের এই উদ্ভাবন এক শক্তিশালী প্রাচীর। ইরান আজ হাইপারসনিক যুগে এক অপরাজেয় শক্তি—এটিই এখনকার চরম এবং পরম বাস্তব সত্য।

দর্শক, আপনি কি মনে করেন ‘ফাত্তাহ-২’ কি সত্যিই আমেরিকার বিশ্ব আধিপত্যের অবসান ঘটাবে? নাকি পশ্চিমাদের কাছে এর কোনো গোপন সমাধান আছে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানান।

news