রাশিয়ার ৯০০ কিলোমিটার ভেতরে ইউক্রেনের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—পুতিনের সাম্রাজ্য কি সত্যিই টলছে? মস্কোর বুকে গাড়ি বোমায় উড়ছেন শীর্ষ রুশ কর্নেল, অন্যদিকে নিখোঁজ রুশ সেন্ট্রাল ব্যাংকের শক্তিশালী প্রধান এলভিরা নাবিউলিনা! ইউক্রেন দাবি করছে ৩৩০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়া, অথচ ধ্বংসস্তূপে পুড়ছে আবাসিক ভবন। পোল্যান্ডের সাথে সম্পর্ক চরম সংকটে, ইউরোপের ‘শান্তি প্রস্তাব’ উড়িয়ে দিল রাশিয়া। পর্দার আড়ালে বিশ্বযুদ্ধের কোন ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হচ্ছে? তা জানতে সঙ্গেই থাকুন।

ইউক্রেন যুদ্ধ এখন এক সম্পূর্ণ নতুন এবং ভয়ঙ্কর মোড় নিয়েছে। এতদিন যে যুদ্ধ শুধু ইউক্রেনের সীমানার ভেতরে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন সরাসরি রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন রাশিয়ার এমন সব সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় সফলভাবে হামলা চালাচ্ছে, যা পুতিন সরকারের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি এবং চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজেই ঘোষণা করেছেন যে, তাদের তৈরি বিশেষ এফপি-৫ ফ্ল্যামিঙ্গো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ভেতরে এক বড় বিপর্যয় ঘটিয়েছে। এই মিসাইলটি ফ্রন্টলাইন থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরের অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কারখানায় নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। এই অভাবনীয় দূরপাল্লার হামলা পুরো ক্রেমলিনকে এক ধাক্কায় নাড়িয়ে দিয়েছে।

আক্রান্ত এই কারখানাটি রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও স্পর্শকাতর অ্যান্টেনা তৈরি করত। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা ও ড্রোন বাহিনীর এই নিখুঁত অপারেশন রাশিয়ার সামরিক উৎপাদন ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে। ৯০০ কিলোমিটার ভেতরের এই সফল হামলা প্রমাণ করে যে, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন কতটা দুর্বল এবং অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

শুধু সামরিক কারখানা নয়, ইউক্রেনের মূল লক্ষ্য এখন রাশিয়ার অর্থনীতি সচল রাখা তেল শোধনাগারগুলো। রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের একটি বড় তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। এর ফলে সেখানে এক বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা পুরো এলাকার আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে দেয় এবং এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন রাশিয়ান আহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে, ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রোজনেফটের কুইবিশেভ শোধনাগারের সমস্ত তেল প্রক্রিয়াকরণ কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এর আগে গত মে মাসেও রাশিয়ার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগার ইউক্রেনীয় হামলায় অচল হয়ে পড়েছিল, যা রাশিয়ার জ্বালানি খাতে বড় বিপর্যয় ডেকে আনছে।

এদিকে রাশিয়ার সীমান্ত ছাড়িয়ে খোদ রাজধানী মস্কোর বুকেই ঘটে চলেছে একের পর এক ভয়ঙ্কর ও রহস্যময় হত্যাকাণ্ড। মস্কোর কাছে বালাশিকা এলাকায় এক অতর্কিত গাড়ি বোমা হামলায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কর্নেল দামির দাভিদভ নিহত হয়েছেন। তিনি রাশিয়ার গোলন্দাজ ও ক্ষেপণাস্ত্রের গোলাবারুদ সরবরাহ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কর্নেল দাভিদভ যখন তার বিলাসবহুল গাড়িটি নিয়ে রওনা হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সিটের নিচে পেতে রাখা একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরিত হয়। এই ঘটনার পর রাশিয়ান গোয়েন্দারা তল্লাশি চালিয়ে আরও একটি সক্রিয় বোমা উদ্ধার করেছে এবং এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই কিশোর-কিশোরীকে গ্রেফতার করেছে, যারা ইউক্রেনীয়দের হয়ে কাজ করছিল।

এই যুদ্ধের ময়দানে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে ইউক্রেন এখন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আলাদা একটি সামরিক বাহিনী গঠন করেছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ই জুনকে "মানববিহীন শাসন ব্যবস্থা বাহিনী দিবস" হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনীয়দের প্রযুক্তি, সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তা যুদ্ধের চিরন্তন নিয়ম এবং কৌশলকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনের পরিস্থিতি দিন দিন আরও রক্তক্ষয়ী এবং ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় তীব্র সম্মুখ সমরে ইউক্রেনের ১ হাজার ২২০ জনেরও বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। এই বিশাল সংখ্যক প্রাণহানি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জনবলের ওপর এক বড় ধরনের মানসিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করছে।

রুশ বাহিনী আরও দাবি করেছে যে, তাদের উত্তর এবং দক্ষিণ ব্যাটলগ্রুপের বিশেষ অভিযানে খারকভ ও দোনেৎস্ক অঞ্চলের ওখরিমিভকা ও রোসকশনোয়ে নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম তারা সম্পূর্ণ দখল করে নিয়েছে। এই অগ্রযাত্রার মাধ্যমে রাশিয়ান সেনারা ইউক্রেনের মূল প্রতিরক্ষা লাইনের আরও গভীরে ঢুকে পড়েছে এবং তাদের রসদ সরবরাহের পথগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে।

শুধু সেনা সদস্যই নয়, রাশিয়ার ভারী কামানের গোলায় ইউক্রেনের বিপুল পরিমাণ পশ্চিমা সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে আমেরিকার তৈরি সাঁজোয়া যান, কানাডিয়ান ক্রুসেডার গাড়ি এবং ফরাসি যুদ্ধযান রয়েছে। পুতিনের বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক শক্তির মূল ভিত্তিগুলোতে আঘাত হানছে, যার মধ্যে রয়েছে তাদের বিদ্যুৎ গ্রিড, গুরুত্বপূর্ণ রেললাইন এবং ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো।

রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলাও কিন্তু থেমে নেই। রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে গভীর রাতে ইউক্রেন এক বিশাল ড্রোন হামলা চালায়। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রায় ৩৩০টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করলেও, খসে পড়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন লেগে যায় এবং বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।

তবে যুদ্ধের এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেনীয় শিবিরের একটি চাঞ্চল্যকর এবং অদ্ভুত খবর সামনে এসেছে। ইউক্রেনের পুলিশ প্রধান অভিযোগ করেছেন যে, রাশিয়া এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অল্প বয়সী ইউক্রেনীয় মেয়েদের গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ করছে। এই মেয়েরা ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিষ খাইয়ে হত্যা করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে, যে টেলিগ্রামে রুশ এজেন্টের নির্দেশে এক ইউক্রেনীয় সেনাকে কৌশলে বিষাক্ত মেথাডোন খাইয়ে হত্যা করেছে। রাশিয়ার এই ধরণের মনস্তাত্ত্বিক ও গোপন যুদ্ধকৌশল ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর ভেতরে তীব্র আতঙ্ক এবং নিজেদের মধ্যে এক গভীর অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করছে।

ইউক্রেন যখন ভেতর ও বাইরে থেকে জর্জরিত, তখন তার পরম বন্ধু পোল্যান্ডের সাথে সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক সংকটে পড়েছে। পোল্যান্ডের ক্ষমতাসীন দল ইউক্রেনের ভিনিৎসিয়া শহরের একটি সড়কের নাম পরিবর্তন করার জন্য তীব্র চাপ দিচ্ছে। সড়কটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিতর্কিত ইউক্রেনীয় নেতা স্তেপান বান্ডেরার নামে নামকরণ করা হয়েছে, যাকে পোল্যান্ড তাদের শত্রু মনে করে।

পোল্যান্ডের ঐতিহাসিকদের মতে, এই স্তেপান বান্ডেরার উগ্র জাতীয়তাবাদী বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভলহিনিয়া অঞ্চলে ১ লাখেরও বেশি নিরীহ পোলিশ নাগরিককে নির্মমভাবে গণহত্যা করেছিল। পোলিশ কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের সাধারণ মানুষের হত্যাকারীকে ইউক্রেন যদি এভাবে জাতীয় বীর হিসেবে সম্মান প্রদর্শন করতে থাকে, তবে দুই দেশের বন্ধুত্ব চিরতরে শেষ হয়ে যাবে।

এই বিরোধের জেরে ভিনিৎসিয়া শহরটি পোল্যান্ডের কাছ থেকে ১৫টি পুরনো বাস পাওয়ার একটি অনুরোধ ক্ষোভে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেন যদি তাদের এই মানসিকতা না বদলায়, তবে পোল্যান্ড ভবিষ্যতে ইউক্রেনকে সব ধরণের সামরিক ও রাজনৈতিক সাহায্য বন্ধ করে শুধু নিজের দেশের স্বার্থ নিয়ে ভাববে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই কূটনৈতিক যুদ্ধের মাঝেই মস্কোতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাই ভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির রাষ্ট্রদূতরা আকস্মিকভাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল গালুজিনের সাথে প্রায় ৯০ মিনিট রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। তারা ইউক্রেন সংকটের একটি নতুন যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি প্রস্তাব পুতিন সরকারের কাছে পেশ করেছেন।

তবে রাশিয়া এই ইউরোপীয় দেশগুলোর শান্তি প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ ভণ্ডামি এবং একপেশে বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ইউরোপ একদিকে ইউক্রেনকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখছে, আর অন্যদিকে শান্তির নাটক করছে। রাশিয়া পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, ইউক্রেনের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা এবং নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া কোনো শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়।

ইউরোপের এই শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার শীর্ষ শান্তি আলোচনাকারী এবং ক্রেমলিনের বিশেষ উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিস্কির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেদিস্কি রাশিয়ার নতুন ইতিহাস পাঠ্যবইয়ের লেখক এবং তার তৈরি প্রচারণামূলক কনটেন্ট ইউক্রেন যুদ্ধের পক্ষে রাশিয়ার জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে বলে ইইউ দাবি করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাশিয়ার সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল এবং আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশনের সভাপতি আর্কাদি দভোরকোভিচও রয়েছেন। ইউরোপের নেতারা রাশিয়ার জ্বালানি, ক্রিপ্টো এবং ব্যাংকিং খাতের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন যাতে রাশিয়ার অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং পুতিন যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হন।

কিন্তু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কি আসলেই রাশিয়াকে দমানো সম্ভব? জার্মানির সাবেক নৌবাহিনী প্রধান কে-আচিম শোনবাখ এক সাক্ষাৎকারে ইউরোপকে সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার সাথে কূটনৈতিক আলোচনা বর্জন করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মূলত একটি সরাসরি মহাযুদ্ধের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্মান না জানিয়ে পশ্চিমারা এক ঐতিহাসিক ভুল করছে।

এদিকে মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্যান্ডেস ওয়েন্স এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, পূর্ব ইউক্রেনে যা ঘটছে তা আসলে রাশিয়ান ভাষাভাষী মানুষদের তাড়িয়ে দেওয়ার একটি জাতিগত নিধনযজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমাদের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং খ্রিস্টান সংস্কৃতির অবমাননার বিরুদ্ধে রাশিয়া এখন একাই লড়াই করছে, যা পুরো বিশ্ব ব্যবস্থার ভারসাম্যকে বদলে দিচ্ছে।

সবশেষে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও এক বড় ধরণের রহস্য এবং চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার পার্লামেন্ট পুতিন সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে সামরিক খরচ বাড়ানোর জন্য জনগণের ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স ধার্য করার বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের সময়ে রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রভাবশালী প্রধান এলভিরা নাবিউলিনা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন।

রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক প্রধান এলভিরা নাবিউলিনাকে গত মে মাসের পর থেকে কোনো জনসমক্ষে বা পুতিনের গুরুত্বপূর্ণ সভায় দেখা যায়নি, যা ক্রেমলিনের অন্দরমহলে বড় কোনো ফাটল বা ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন তৈরি করেছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ক্ষমতার ভেতরের নোংরা খেলা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Ads Space