ঘর চেনে চোর, আর আকাশ চেনে বাজপাখি। কিন্তু যখন বাজের চোখে ধুলো দিয়ে আকাশ পাহারা দেয় বাভার, তখন চোরের সাধ্য নেই ঘরে সিঁধ কাটে। আমেরিকা সব সময় গর্ব করে তাদের এফ-৩৫ (F-35) স্টিলথ যুদ্ধবিমান নিয়ে, যা নাকি পৃথিবীর কোনো রাডার ধরতে পারে না। কিন্তু ইরানের বিজ্ঞানীরা সেই অহংকার চূর্ণ করে দিয়েছেন! তারা তৈরি করেছেন এমন এক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার নাম 'বাভার-৩৭৩'। এটি কেবল আকাশ পাহারা দেয় না, বরং ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকেই ড্রোন, মিসাইল এবং স্টিলথ বিমানকে খুঁজে বের করে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। কেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি রাশিয়ার এস-৪০০-এর চেয়েও শক্তিশালী? আজ আমরা উন্মোচন করবো ইরানের সেই অজেয় আকাশ প্রতিরক্ষা প্রাচীরের গোপন রহস্য।
ইরানের সামরিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ‘বাভার-৩৭৩’। এটি কেবল একটি মিসাইল সিস্টেম নয়, এটি ইরানের আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক। যখন রাশিয়া চাপের মুখে ইরানকে এস-৩০০ দিতে দেরি করছিল, তখনই আয়াতুল্লাহ খামেনি নির্দেশ দিয়েছিলেন নিজেদের প্রযুক্তিতে আরও উন্নত কিছু তৈরি করতে। সেই জেদ থেকেই জন্ম নেয় বাভার-৩৭৩। আজ এটি ইরানকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় মার্কিন বা ইসরায়েলি আধিপত্য স্রেফ অতীত ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাভার-৩৭৩ এর সক্ষমতা নিয়ে খোদ পেন্টাগনের গোয়েন্দারাও বিস্মিত। এটি একসাথে ১০০টি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে এবং একই সাথে ৬টি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে মিসাইল ছুড়তে পারে। এর অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা মার্কিন ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তিকেও হার মানায়। অর্থাৎ যে বিমানগুলো রাডারে অদৃশ্য থাকার কথা, বাভার-৩৭৩ এর স্ক্রিনে সেগুলো উজ্জ্বলভাবে ধরা পড়ে। এটি ইরানের এক বিশাল বৈজ্ঞানিক বিজয় যা ট্রাম্পকে বিচলিত করছে।
অনেকে বাভার-৩৭৩ কে রাশিয়ার বিখ্যাত এস-৪০০-এর সাথে তুলনা করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক আপগ্রেডের পর দেখা গেছে, বাভার-৩৭৩ এর টার্গেট শনাক্ত করার ক্ষমতা এস-৪০০-এর চেয়েও বেশি দূরত্বের। এটি ৩০০ কিলোমিটারের বেশি দূর থেকে শত্রুর গতিবিধি বুঝতে পারে এবং ৪৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত রাডার কাভারেজ দিতে পারে। ইরানের এই উন্নতি প্রমাণ করে যে, তারা আর কারো ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তারা নিজেরাই এখন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মালিক।
বাভার-৩৭৩ সিস্টেমে ব্যবহৃত ‘সাইয়াদ-৪বি’ (Sayyad-4B) মিসাইলটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। এটি বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচুতে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে পারে। এর মানে হলো শত্রুর কোনো ব্যালিস্টিক মিসাইল বা কৌশলগত বোমারু বিমান ইরানের মাটির কাছাকাছি আসার সুযোগই পাবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের আকাশে মার্কিন ড্রোন বা বিমান পাঠানোর কথা ভাবেন, তখন তাকে এই বাভার-৩৭৩ এর অজেয় প্রাচীরের কথা মনে করিয়ে দেন তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টারা।
ইসরায়েলের জন্য বাভার-৩৭৩ হলো এক মূর্তমান আতঙ্ক। তেল আবিব প্রায়ই সিরিয়া বা ইরাকের আকাশে তাদের যুদ্ধবিমান চালায়, কিন্তু ইরানের আকাশসীমায় ঢোকার সাহস তারা পায় না। কারণ তারা জানে, বাভার-৩৭৩ সক্রিয় থাকলে তাদের আধুনিকতম এফ-৩৫ বিমানটিও মাটির সাথে মিশে যাবে। এটিই হলো ইরানের সেই সামরিক ভারসাম্য যা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের হাত থেকে এই অঞ্চলকে রক্ষা করছে। শক্তির দাপট দিয়েই ইরান আজ শান্তিকামী মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে।
বাভার-৩৭৩ এর পুরো সিস্টেমটি মোবাইল বা ভ্রাম্যমাণ। এটি বড় বড় ট্রাকের ওপর বসানো থাকে, যা মুহূর্তের মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায়। এর ফলে শত্রুপক্ষ কখনোই বাভারের সঠিক অবস্থান জানতে পারে না। এই গতিশীলতা ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে বিশাল সুবিধা দেয়। যদি আমেরিকা কোনো একটি ঘাঁটিতে হামলা করে, তবে অন্য জায়গা থেকে বাভার সিস্টেম গর্জে উঠে সেই হামলা নস্যাৎ করে দেবে। এটি এক দুর্ভেদ্য এবং অদৃশ্য নিরাপত্তা দেয়াল।
ইরানি বিজ্ঞানীরা বাভার-৩৭৩ এর সফটওয়্যার ও রাডার অ্যালগরিদম সম্পূর্ণ নিজস্বভাবে তৈরি করেছেন। এর বড় সুবিধা হলো, আমেরিকা বা ইসরায়েল এই সিস্টেমকে হ্যাক করতে পারবে না বা জ্যাম করতে পারবে না। কারণ তারা এর কোডিং সম্পর্কে কিছুই জানে না। রাশিয়ার সিস্টেমে হয়তো কোনো গোপন দুর্বলতা থাকতে পারে, কিন্তু বাভার-৩৭৩ হলো খাঁটি ইরানি মেধার ফসল। এই সাইবার নিরাপত্তা ইরানকে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশগুলোর তালিকায় নিয়ে গেছে।
ট্রাম্পের আমলে যখন ‘গ্লোবাল হক’ ড্রোনটি ইরান ভূপাতিত করেছিল, তখন বিশ্ববাসী প্রথম দেখেছিল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার নমুনা। বাভার-৩৭৩ আসার পর সেই ক্ষমতা এখন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আজ আমেরিকা লোহিত সাগর বা পারস্য উপসাগরে তাদের বিমানবাহী রণতরী নিয়ে আস্ফালন করলেও ইরানের আকাশসীমায় ঢোকার ঝুঁকি তারা নেবে না। কারণ তারা জানে, বাভার-৩৭৩ এর মিসাইল একবার লক্ষ্য স্থির করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না। এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের শ্রেষ্ঠ গ্যারান্টি।
বাভার-৩৭৩ কেবল একা কাজ করে না, এটি ইরানের নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ারের একটি অংশ। এটি ড্রোনের সাথে যোগাযোগ করে, মাটির নিচের মিসাইল সিটির সাথে সমন্বয় করে এবং প্রয়োজনে রাডার সিগন্যাল শেয়ার করে। এই সুসংগঠিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানকে একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে। যারা ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার স্বপ্ন দেখে, বাভার-৩৭৩ তাদের সেই দুঃস্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করার ক্ষমতা রাখে। এটি দম্ভের বিপরীতে বিজ্ঞানের এক বিজয়গাথা।
ইরানের প্রতিটি প্রদেশেই এখন এই সিস্টেম মোতায়েন করা আছে। পাহাড়ের চুড়ায় হোক বা মরুভূমির মাঝখানে, বাভার-৩৭৩ দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা সজাগ প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। ইরানের সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি নিশ্চিন্ত, কারণ তারা জানে তাদের মাথার ওপর এমন এক সুরক্ষা কবচ আছে যা কোনো বিদেশি আগ্রাসীকে ক্ষমা করবে না। এই জাতীয় আত্মবিশ্বাসই একটি রাষ্ট্রকে মহান করে তোলে, যা ট্রাম্পের ডিক্টেটরশিপের সামনে এক শক্তিশালী ঢাল।
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো সব সময় ইরানের সামরিক সাফল্যকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু যখন বাভার-৩৭৩ এর লাইভ ফায়ারিং টেস্ট হয়, তখন বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে যায়। সামরিক বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, ইরান এখন কেবল সস্তা অস্ত্রের দেশ নয়, বরং তারা হাই-টেক যুদ্ধের জগতেও এখন সুপারপাওয়ার। বাভার-৩৭৩ হলো সেই প্রমাণের দলিল যা পশ্চিমা মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারণাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। এটিই হলো অজেয় তেহরানের আসল শক্তি।
ভবিষ্যতে যদি মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বড় ধরণের সংঘাত শুরু হয়, তবে বাভার-৩৭৩ হবে সেই গেম-চেঞ্জার যা আমেরিকার আকাশ পথের শ্রেষ্ঠত্বের অবসান ঘটাবে। ইসরায়েল ও আমেরিকার জোট যতই পরিকল্পনা করুক না কেন, ইরানের এই 'ঈমানের প্রতিরক্ষা' ভাঙা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। বাভার-৩৭৩ কেবল লোহা আর বারুদ নয়, এটি শহীদদের রক্ত আর বিজ্ঞানীদের মেধার এক অভিন্ন মিশেল। ইরান আজ নিরাপদ কারণ তাদের হাতে আছে বাভার-৩৭৩।
শেষে বলা যায়, বাভার-৩৭৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলো সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ইরানের এক জুতসই জবাব। যারা মনে করেছিল নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানকে পঙ্গু করে দেবে, বাভার-৩৭৩ তাদের গালে এক মোক্ষম চপেটাঘাত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আস্ফালন আর ইসরায়েলের ষড়যন্ত্রের মুখে ইরানের এই উদ্ভাবন এক অভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইরান আজ অপরাজেয় এবং তার আকাশ এখন বাভারের সুরক্ষায় সম্পূর্ণ নিরাপদ—এটিই এক ধ্রুব বাস্তব সত্য।
দর্শক, আপনি কি মনে করেন বাভার-৩৭৩ কি সত্যিই মার্কিন এফ-৩৫ বিমানকে ধ্বংস করতে পারবে? ইরানের এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব নিয়ে আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।
