পাহাড় স্থির থাকে কিন্তু মেঘ সরে যায়—পশ্চিমাদের দিন শেষ, এখন সিংহের গর্জন হবে পারস্য উপসাগরে! আমেরিকা যখন হরমোজের দিকে হাত বাড়াচ্ছে, তখন রাশিয়া আর চীনকে সাথে নিয়ে ইরান এমন এক ফাঁদ পেতেছে, যেখানে পা দিলেই ভস্ম হয়ে যাবে বাইডেন-নেতানিয়াহুর অহংকার। হরমোজ প্রণালীর জল কি এখন মার্কিন রণতরীর কবরস্থানে পরিণত হতে যাচ্ছে? আজ জানাবো সেই মহা-বিপ্লবের গল্প।

কথায় আছে, "বিপদ যখন আসে তখন বন্ধু চেনা যায়।" আজ ইরানের চরম সংকটের মুহূর্তে চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিরা যেভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা সারা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। হরমোজ প্রণালীতে শুরু হওয়া ‘মেরিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট ২০২৬’ কেবল একটি মহড়া নয়, এটি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের কফিনে শেষ পেরেক। আমেরিকা ও ইসরায়েল যখন ইরানকে আক্রমণের ছক কষছে, তখন এই ঐক্যবদ্ধ শক্তি তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

আমেরিকা তার বিশাল নৌবহর এবং জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে মরক্কোর উপকূলে মোতায়েন করেছে ইরানকে ভয় দেখাতে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে যে, আজকের ইরান আর আগের ইরান নেই। তেহরান এখন একা নয়, বরং মস্কো আর বেইজিংয়ের মতো শক্তিশালী কাঁধ তাদের সাথে রয়েছে। হরমোজ প্রণালীর এই কৌশলগত অবস্থানে রাশিয়া ও চীনের যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।

২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই যৌথ মহড়া এবার বন্দর আব্বাস বন্দরে এক ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইরানের নৌ কমান্ডারের মতে, এই মহড়া প্রমাণ করে যে বহিঃশক্তির কোনো স্থান এই অঞ্চলে নেই। রাশিয়া এবং চীন তাদের অত্যাধুনিক রণতরী নিয়ে এখানে এসেছে ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে। এটি কেবল একটি মহড়া নয়, এটি মার্কিন দাদাগিরির বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিরোধ ব্যবস্থা যা বিশ্ববাসী অবাক হয়ে দেখছে।

আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এই মহড়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে সাহস পায়নি। কারণ তারা জানে, ইরান এখন এমন এক শক্তিতে পরিণত হয়েছে যা মোকাবেলা করা তাদের সাধ্যের বাইরে। যখন আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার গ্রুপ এগিয়ে আসছে, তখন ইরানের মিসাইলগুলো লক্ষ্যভেদে প্রস্তুত হয়ে আছে। শাহরাম ইরানি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কোনো বহিঃশক্তি শক্তির দম্ভ দেখায়, তবে ইরান তাদের চরম শিক্ষা দেবে।

পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিকোলাই পাত্রুশেভ এই মহড়াকে ব্রিকস জোটের একটি কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকা ও ন্যাটোর দিন এখন ফুরিয়ে এসেছে। পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার তেলের ট্যাঙ্কার দখল করতে চায়, কিন্তু ইরান আর রাশিয়ার এই জোট তা হতে দেবে না। ব্রিকস এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং একটি সামরিক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে যা বিশ্বের ভারসাম্য রক্ষা করবে।

রুশ নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যালেক্সি সেভিয়েভ জানিয়েছেন যে, তারা ইরানের সাথে যেকোনো অঞ্চলে যৌথ অভিযান চালাতে প্রস্তুত। এটি কেবল সমুদ্রসীমা রক্ষা নয়, বরং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের নামে পশ্চিমা ষড়যন্ত্র রোখার প্রস্তুতি। রাশিয়ার অত্যাধুনিক করভেট 'স্তোয়কি' এখন ইরানের বন্দরে নোঙর করে আছে। এই দৃশ্য দেখে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা দপ্তরে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ তারা জানে ইরান এখন অজেয় এক শক্তি।

বন্দর আব্বাস হলো ইরানের সামরিক শক্তির হৃদপিণ্ড এবং হরমোজ প্রণালী হলো বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ধমনী। এই ধমনীতে যখন রাশিয়া আর চীনের রক্ত বইছে, তখন আমেরিকা সেখানে অস্ত্রোপচার করার সাহস পাবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আমেরিকা ইরান আক্রমণ করতে চায়, তবে তাদের আগে রাশিয়া আর চীনের জাহাজের মুখোমুখি হতে হবে। আর পুতিনের সাথে যুদ্ধে জড়ানো মানেই আমেরিকার ধ্বংস নিশ্চিত হওয়া।

মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করেছিল তারা ইরানকে একঘরে করে ফেলবে, কিন্তু ফলাফল হয়েছে উল্টো। ইরান এখন চীন ও রাশিয়ার সাথে এমন এক সামরিক বলয় তৈরি করেছে যা ভেদ করা অসম্ভব। টম শুগার্টের মতো প্রাক্তন মার্কিন নৌ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, এই মহড়া মার্কিন আক্রমণকে মারাত্মকভাবে জটিল করে তুলবে। ইরানের রাডার ও সেন্সরগুলো এখন রাশিয়া ও চীনের প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও বেশি শক্তিশালী।

আমেরিকা কি ১৯৮৭ সালের কথা ভুলে গেছে যখন ইউএসএস স্টার্ক ইরাকি মিসাইলে ধ্বংস হয়েছিল? সেই সময় ইরান একা ছিল, কিন্তু আজ ইরানের পাশে রাশিয়ার প্রযুক্তি আর চীনের অর্থনীতি আছে। হরমোজের শান্ত জল এখন পশ্চিমাদের জন্য তপ্ত অগ্নিতে পরিণত হয়েছে। যদি আমেরিকা কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের নৌবাহিনীর অবশিষ্টাংশ খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর হবে। ইরান এখন কেবল রক্ষণাত্মক নয়, বরং আক্রমণাত্মক।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে ইরানকে বারবার হুমকি দিয়েছেন, কিন্তু ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি দমে যায়নি। তারা হরমোজ প্রণালীতে ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ মহড়া শুরু করেছে এবং লাইভ ফায়ার এক্সারসাইজ চালাচ্ছে। এটি পশ্চিমাদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা যে, ইরানের জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ। ইরানের ড্রোন এবং সাবমেরিনগুলো এখন শিকারি বাঘের মতো ওত পেতে আছে।

আইআরজিসি তাদের নতুন প্রজন্মের ড্রোন ব্যবহার করছে যা আকাশ এবং সমুদ্রের যেকোনো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। যদিও এগুলোর বিস্তারিত তথ্য এখনও গোপন রাখা হয়েছে, তবে পশ্চিমা শক্তিরা জানে এগুলো তাদের জন্য যমদূত। ইরানের এই আত্মনির্ভরশীল সামরিক শক্তি আজ তাদের মুসলিম বিশ্বের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চীন ও রাশিয়াও স্বীকার করে নিয়েছে যে, ইরানের মিসাইল প্রযুক্তি এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা।

এই মহড়া প্রমাণ করে যে বিশ্ব এখন আর একক মেরুর নেই, আমেরিকা আর বিশ্বের পুলিশ নয়। রাশিয়া, চীন এবং ইরান মিলে যে নতুন অক্ষশক্তি গঠন করেছে, তা নিপীড়িত মানুষের আশা জাগিয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যখন যুদ্ধের হুমকি দেন, তখন ইরানের ড্রোনগুলো তার প্রাসাদের ওপর ছায়া ফেলে। হরমোজ প্রণালীর এই জলরাশি আজ সত্যের পক্ষে এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাক্ষী হয়ে আছে।

শেষ কথা হলো, অন্যায়কারী যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সত্যের শক্তির কাছে তাকে হার মানতেই হবে। ইরান আজ সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি শোষণের বিরুদ্ধে। এই মহড়া কেবল শুরু, সামনে আরও বড় চমক অপেক্ষা করছে যা মানচিত্র বদলে দেবে। পশ্চিমা মিডিয়া যাই বলুক না কেন, হরমোজের রাজা এখন ইরান এবং তাদের পাশে থাকা বিশ্বস্ত বন্ধুরা।

আমরা আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে আছি যেখানে সাম্রাজ্যবাদের সূর্য অস্ত যাচ্ছে। ইরান তার বীরত্বের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে ঈমানি শক্তি আর দেশপ্রেম থাকলে যেকোনো পরাশক্তিকে থামানো সম্ভব। আমেরিকা আর ইসরায়েল যত পরিকল্পনাই করুক, আল্লাহর পরিকল্পনাই চূড়ান্ত। হরমোজের ঢেউ আজ স্বাধীনতার গান গাইছে, আর সেই গানে সুর মেলাচ্ছে রাশিয়া আর চীনের বিশাল নৌবহর। বিজয় ইরানেরই সুনিশ্চিত।

দর্শক, আপনি কি মনে করেন ইরান, চীন ও রাশিয়ার এই জোট কি পারবে আমেরিকার দম্ভ চূর্ণ করতে? হরমোজ প্রণালীতে কি সত্যিই যুদ্ধের দামামা বেজে উঠবে নাকি আমেরিকা পিছু হটতে বাধ্য হবে? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্ট বক্সে লিখে জানান।

news