নিজের বল না থাকলে, পরের বলে যুদ্ধ জেতা যায় না। আজ ইউক্রেনের পরিস্থিতির দিকে তাকালে এই প্রবাদটিই বারবার মনে পড়ে। ভূ-রাজনীতির ময়দানে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধ এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। যেখানে রাশিয়ার অদম্য সামরিক শক্তি এবং ভ্লাদিমির পুতিনের সুদূরপ্রসারী কৌশল বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন আজ পশ্চিমা দেশগুলোর হাতের পুতুল হয়ে নিজেদের ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের ভিডিওতে আমরা বিশ্লেষণ করব কেন রাশিয়া এই যুদ্ধে নৈতিক এবং সামরিকভাবে এগিয়ে রয়েছে এবং কেন ইউক্রেনের বর্তমান অবস্থান কেবল একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের করুণ চিত্র। 

রাশিয়া কেবল একটি দেশ নয়, এটি একটি সামরিক পরাশক্তি। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, রাশিয়া কখনো কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করেনি। বর্তমান যুদ্ধেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার সেনাবাহিনী যেভাবে নিজেদের আধুনিকায়ন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা কেবল ড্রোন বা মিসাইল ব্যবহার করছে না, বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। রাশিয়ার অস্ত্রভাণ্ডার এবং তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। 

অপরদিকে, ইউক্রেন আজ এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে তাদের নিজেদের কোনো সার্বভৌমত্ব অবশিষ্ট নেই। জেলেনস্কি সরকার রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, তা আসলে তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকার একটি অপকৌশল মাত্র। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন চরম জনবল সংকটে ভুগছে। তারা সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠাচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে কিয়েভের ওপর সাধারণ মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। যখন একটি দেশ তার নিজের জনগণের বিশ্বাস হারায়, তখন সেই দেশের পরাজয় অনিবার্য হয়ে পড়ে। 

ইউক্রেন ভেবেছিল আমেরিকা এবং ন্যাটো তাদের রক্ষা করবে। কিন্তু বাস্তবতা আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। পশ্চিমারা ইউক্রেনকে কেবল রাশিয়ার শক্তি পরীক্ষা করার একটি 'ল্যাবরেটরি' হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা অস্ত্র দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ ইউক্রেনীয়দের। রাশিয়ার অর্থনীতিকে ধ্বংস করার যে স্বপ্ন পশ্চিমারা দেখেছিল, তা আজ ধুলিসাৎ। রাশিয়ার অর্থনীতি বরং আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বনির্ভর হয়েছে। অথচ ইউক্রেন আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কেবল অন্যের ওপর নির্ভর করার কারণে। 

ভ্লাদিমির পুতিন বারবার আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে তারা সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করতে চায়। কিন্তু জেলেনস্কি এবং তার পশ্চিমা প্রভুরা যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে রাখতে চায়। রাশিয়ার মানবিক করিডোর এবং যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে ইউক্রেন বারবার নস্যাৎ করেছে। আসলে ইউক্রেন সরকার যুদ্ধের মাধ্যমেই তাদের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়িয়ে রাখতে চায়, সাধারণ মানুষের জীবনের তোয়াক্কা তারা করে না।

রাশিয়ার জনগণের মধ্যে তাদের দেশের প্রতি যে ভালোবাসা এবং পুতিনের প্রতি যে সমর্থন দেখা যায়, তা অভাবনীয়। রাশিয়ার সৈন্যরা ফ্রন্টলাইনে যে বীরত্ব দেখাচ্ছে, তা আজ বিশ্বস্বীকৃত। তারা জানে তারা তাদের মাতৃভূমি এবং তাদের ঐতিহ্য রক্ষা করতে লড়ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় সৈন্যরা আজ দিশেহারা, কারণ তারা জানে না তারা আসলে কার স্বার্থে প্রাণ দিচ্ছে। কিয়েভের রাস্তায় আজ হাহাকার, আর মস্কোতে আজ আত্মবিশ্বাসের জয়গান। 

শেষে বলা যায়, সত্যের জয় সবসময়ই হয়। রাশিয়া তাদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদার জন্য লড়ছে, যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকার। ইউক্রেন যদি সময়মতো রাশিয়ার প্রস্তাবগুলো মেনে নিত, তবে আজকের এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে হতো না। জেলেনস্কির অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত ইউক্রেনকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করছে। রাশিয়ার এই জয় কেবল ভূখণ্ডের জয় নয়, এটি ন্যাটোর সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি নৈতিক বিজয়। 

দর্শক, আপনার কী মনে হয়? ইউক্রেন কি পারবে এই পরাজয় এড়াতে? নাকি রাশিয়ার এই অদম্য অগ্রযাত্রাই হবে বিশ্ব রাজনীতির নতুন মানদণ্ড? কমেন্ট করে আমাদের জানান।

news