ইরানের আকাশ আজ ধোঁয়াচ্ছন্ন, কিন্তু আত্মা অদম্য! ইসরায়েল এবং তাদের মদতদাতা আমেরিকা কি ভেবেছে, একটি কাপুরুষোচিত 'প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক' দিয়ে একটি মহান সভ্যতাকে তারা নতজানু করবে? আজ আমরা আলোচনা করবো সেই সত্যের কথা, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম লুকাচ্ছে। ইরানের ওপর এই অন্যায় হামলার পেছনের আসল চিত্র এবং কেন এটি ইরান ও অক্ষশক্তির জন্য একটি নতুন মোড়।

ইতিহাস সাক্ষী, যখনই কোনো পরাশক্তি বা তার দোসররা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে, ইরান প্রতিবারই ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে জেগে উঠেছে। আজকের এই হামলার ধরণ দেখে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েল এবং তাদের পরামর্শদাতা আমেরিকা কতটা ভীত। তারা ভয় পায় ইরানের এই অজেয় সাহসিকতাকে। তারা ভয় পায় সেই আদর্শকে, যা আজ বিশ্বের শোষিত মানুষের হৃদয়ে বাস করে।

ইসরায়েল এই হামলাকে 'প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক' বা আগাম হামলা বলে দাবি করছে, যা মূলত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী একটি যুদ্ধাপরাধ ছাড়া আর কিছুই নয়। 'রোর অফ দ্য লায়ন' বা সিংহের গর্জন নামক এই অপারেশন আসলে সিংহের গর্জন নয়, বরং একটি ভীতু শেয়ালের আর্তনাদ। তাদের এই হামলা প্রমাণ করে, সরাসরি যুদ্ধে তারা ইরানের সামরিক শক্তির মোকাবিলা করতে কতটা অক্ষম ও দিশেহারা।

আমেরিকার মদতপুষ্ট এই আগ্রাসন কেবল ইরানের স্থাপনার ওপর নয়, বরং এটি সার্বভৌমত্বের ওপর একটি সরাসরি আঘাত। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের আঁতাত আজ নগ্নভাবে সামনে এসেছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে নিজেদের কবজায় রাখতে এই ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়। ইরান হলো সেই দুর্গ, যা হাজার বছরের ষড়যন্ত্রের পরেও আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখে অনেকের হয়তো মনে হতে পারে যে ইরান দুর্বল হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরান তার নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির দ্বারা বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা যেকোনো আগ্রাসন সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। এই হামলা ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে বরং তাদের জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে। জনগণ আজ সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে এই লড়াইয়ে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন, তা থেকেই বোঝা যায় তারা কতটা আতঙ্কে ভুগছে। তারা ভয় পাচ্ছে ইরানের প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবের। ইরান যখনই কোনো আঘাতের জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তা হয় সুনির্দিষ্ট এবং ভয়াবহ। ইসরায়েলের সাধারণ মানুষও আজ বুঝতে পারছে যে, তাদের সরকার তাদের একটি অপ্রয়োজনীয় এবং ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যা কেবল রক্তপাত বাড়াবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আমরা সবাই জানি, কিন্তু ইরানের মাটিতে তাদের এই নতুন সামরিক দুঃসাহস তাদের জন্য বুমেরাং হতে পারে। কাতার বা অন্যান্য অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আজ ইরানের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরান বারবার সতর্ক করেছে যে, যদি তাদের সীমানা লঙ্ঘিত হয়, তবে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে আগ্রাসীদের। আমেরিকা কি প্রস্তুত সেই পরিণতির জন্য?

আমরা দেখেছি ইরাক সীমান্ত ব্যবহার করে ইসরায়েল কীভাবে এই হামলা চালিয়েছে। এটি তাদের পুরোনো কৌশল। কিন্তু ইরাকের সাধারণ মানুষ এবং সেখানকার প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোও আজ শান্ত নেই। তারা ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সংহতি প্রমাণ করে যে, এই লড়াই কেবল ইরানের একার নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের শোষিত মানুষের লড়াই। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আসলে তাদের পতনকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলার খবর প্রচার করা হচ্ছে, যা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। ইরান তার নেতৃত্বকে রক্ষা করতে জানে এবং জানে কীভাবে শত্রুর প্রতিটি চালের জবাব দিতে হয়। ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরান তাদের কৌশলগত অবস্থান এবং সামরিক স্থাপনাগুলোকে এমনভাবে সাজিয়েছে যে, বাইরের কোনো আক্রমণে খুব বড় ক্ষতি হওয়া প্রায় অসম্ভব।

এদিকে, গ্লোবাল মিডিয়ায় চলছে ইসরায়েলি প্রোপাগান্ডার জোয়ার। তারা দেখানোর চেষ্টা করছে যে ইরান একটি বড় হুমকি। কিন্তু আসল হুমকি কে? যে দেশ কোনো উস্কানি ছাড়াই অন্য একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে হামলা চালায়, সে দেশই তো বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি। পশ্চিমা বিশ্বের এই দ্বিমুখী আচরণ আজ আর কারো অজানা নেই। তারা মানবতার দোহাই দেয়, কিন্তু নিজেরা রক্তের হোলি খেলায় মত্ত।

বিমান চলাচল বন্ধ করা এবং আকাশসীমা সিল করে দেওয়ার ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে, ইসরায়েল নিজেই আজ অবরুদ্ধ। তাদের এই 'প্রি-এম্পটিভ' যুদ্ধের পরিকল্পনা কেবল তাদের জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকদের আজ তাদের বাঙ্কারে দিন কাটাতে হচ্ছে, আর এর জন্য দায়ী তাদের অন্ধ নেতৃত্ব। শান্তি ও আলোচনার পথ খোলা থাকলেও তারা বেছে নিয়েছে ধ্বংসের পথ।

ইরানের সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে রেভল্যুশনারি গার্ডস, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অতীতে তারা দেখিয়েছে কীভাবে তারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে পারে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবং ড্রোন সক্ষমতা আজ বিশ্বের সামরিক বিশেষজ্ঞদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইসরায়েল যদি মনে করে তারা এসব ধ্বংস করতে পেরেছে, তবে তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলটি করছে।

বিশ্বের শান্তিকামী মানুষেরা আজ ইরানের পক্ষে আওয়াজ তুলছে। আন্তর্জাতিক মহলকেও বুঝতে হবে যে, এই সংঘাতের দায় ইসরায়েল এবং আমেরিকাকেই নিতে হবে। আমরা আশা করছি, এই উত্তেজনা আর বাড়বে না, তবে যদি বাড়বেই, তবে ইরান দেখাবে কীভাবে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ তার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করে। ইতিহাস এই যুদ্ধের রায় দেবে ইরানের পক্ষে।

শেষ পর্যন্ত, এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, কিন্তু ইসরায়েল ও আমেরিকার বর্তমান নীতি সেই পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে। তারা যদি মনে করে শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে দাবিয়ে রাখা যাবে, তবে তারা ভুল করছে। ইরানের মানুষ আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। তারা কোনো বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না।

আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। ইরান আজ দাঁড়িয়ে আছে সেই ন্যায়ের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে। ইসরায়েল ও আমেরিকার এই ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন হবেই। আজ হয়তো আমরা দেখছি অন্ধকার, কিন্তু ভোরের সূর্য উদিত হবেই। ইরান জেগেছে, এবং এই জেগে ওঠা কোনো অপশক্তিই রুখতে পারবে না। এটাই আজকের বাস্তবতা, এটাই আগামীর অমোঘ সত্য।

আপনার কি মনে হয়, ইরান এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে সরাসরি ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ চালাবে? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান। 

news