প্রবাদ আছে, 'চোরের দশ দিন আর সাধুর এক দিন'। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে দুর্বল করতে আমেরিকা আর ইসরায়েল যখন কুর্দিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গৃহযুদ্ধের ছক কষছে, তখন তেহরান প্রস্তুত তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে। বারবার বিশ্বাস করে ধোঁকা খাওয়া কুর্দিরা কি এবারও সাম্রাজ্যবাদীদের দাবার ঘুঁটি হবে? দেখুন কীভাবে ইরানের অখণ্ডতা নষ্ট করতে সিআইএ বুনছে এক বিষাক্ত জাল!

অতি লোভে তাঁতি নষ্ট—এই চিরন্তন সত্যটি আজ আমেরিকা এবং তাদের দোসর ইসরায়েলের জন্য চরম বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তি দেখে ভীত হয়ে এখন তারা কুর্দিদের ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে গৃহযুদ্ধ বাধানোর স্বপ্ন দেখছে। সম্প্রতি খবর এসেছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলি মদতে ইরাকভিত্তিক কুর্দিদের সশস্ত্র করার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্দেশ্য একটাই, শান্ত ইরানকে অশান্ত করে তোলা।

পশ্চিমা বিশ্বের এই নোংরা রাজনীতি নতুন কিছু নয়। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, আমেরিকা যখনই কোনো দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, তখনই তারা স্থানীয় কোনো গোষ্ঠীকে উসকে দিয়েছে। এখন কুর্দিদের মাধ্যমে ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার চেষ্টা চলছে। ইরাকের পাহাড়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই সশস্ত্র বাহিনীকে ইরানের ভেতরে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে সিআইএ। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ইরান কোনো সাধারণ রাষ্ট্র নয় বরং এক অপরাজেয় শক্তি।

কুর্দিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের লোভ দেখিয়ে আমেরিকা বারবার ব্যবহার করেছে। ১৯১৬ সালের সাইকস-পিকো চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন এবং ফ্রান্স যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নিজেদের স্বার্থে ভাগ করেছিল, তাতে কুর্দিরা গৃহহীন হয়ে পড়ে। আজ সেই একই পশ্চিমা শক্তিরা মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়। অথচ তারাই ইতিহাসে কুর্দিদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। এখন ইরানকে ঘায়েল করতে তারা কুর্দিদের কাঁধে বন্দুক রেখে গুলি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

১৯৯১ সালের কথা ভাবুন, যখন আমেরিকা কুর্দিদের বিদ্রোহ করতে উসকে দিয়ে মাঝপথে একাই ফেলে চলে গিয়েছিল। ইরাকি বাহিনী যখন কুর্দিদের ওপর আক্রমণ করল, তখন ওয়াশিংটন মুখ লুকিয়ে ছিল। আজ সেই একই আমেরিকা আবার ইরানের বিরুদ্ধে কুর্দিদের বন্ধু সেজেছে। আসলে এটি কুর্দিদের প্রতি ভালোবাসা নয়, বরং ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। ইসরায়েল এই পরিকল্পনার মূল অর্থদাতা।

ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ কুর্দি। তারা ইরানের মূল ধারার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিতে বসবাস করে আসছে। কিন্তু পশ্চিমা মিডিয়া এবং সিআইএ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মাশা আমিনির মতো দুঃখজনক ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিক রং দিচ্ছে। তারা চায় ইরানের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাজপথে নামাতে। গৃহযুদ্ধের এই ছক মূলত ইরানের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার এক অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময়ও আমরা দেখেছি কীভাবে কুর্দিদের ব্যবহার করে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই করানো হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষে আমেরিকা আবার তাদের পরিত্যাগ করে নতুন মিত্র খুঁজে নিয়েছে। এখন ওয়াশিংটন সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে চাইছে, যা প্রমাণ করে তাদের কোনো স্থায়ী বন্ধু নেই। আমেরিকা ও ইসরায়েলের কাছে কুর্দিরা স্রেফ ব্যবহারের বস্তু, যা তারা ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

তেহরান সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিদেশি মদতপুষ্ট যেকোনো বিদ্রোহ দমনে ইরানের আইআরজিসি এবং সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত। ইরাকের মাটিতে অবস্থানরত কুর্দি সন্ত্রাসীদের আস্তানাগুলো ইতিমধ্যে ইরানের নজরে রয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কোনো ষড়যন্ত্রই ইরানের একতা নষ্ট করতে পারবে না। আমেরিকা এবং ইসরায়েল যদি মনে করে তারা ইরানের ভেতরে অশান্তি ছড়িয়ে পার পাবে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।

শেষে বলা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে বিদেশি ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নয়, কিন্তু প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছে। কুর্দিদের উচিত পশ্চিমা প্রতারণা বুঝে নিজেদের মাতৃভূমির বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়া। ইসরায়েল আর আমেরিকার এই বিভাজন তৈরির রাজনীতি শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদেরই ধ্বংসের কারণ হবে। ইরান একটি অটল পর্বত, যা কোনো ঝড়ে নড়ে না। সত্য ও ন্যায়ের পথে ইরানের এই লড়াই যুগে যুগে জয়ী হবেই।"

news