বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো—শত্রু যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সত্যের আঘাতে তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে বাধ্য। কল্পনা করুন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আগুনের গোলা উড়ছে আর পৃথিবীর সবথেকে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো অসহায়ভাবে চেয়ে দেখছে। হ্যাঁ বন্ধুরা, ইরান আবারও প্রমাণ করে দিল কেন তারা বর্তমান বিশ্বের এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। সৌদি আরবে মার্কিন সেনাদের আস্তানা লক্ষ্য করে ইরানের এই ভয়াবহ আক্রমণ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক কম্পন সৃষ্টি করেছে। আজ আমরা জানবো কীভাবে আমেরিকা আর ইসরায়েলের সাজানো বাগান ইরান এক নিমেষে তছনছ করে দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন বারুদের গন্ধ আর ইরানের সাহসিকতার জয়ধ্বনি শোনা যাচ্ছে যা বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরান ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেনাদের সুরক্ষিত আস্তানা হিসেবে পরিচিত এই ঘাঁটিগুলোতে ইরানের নিখুঁত নিশানার আঘাত পশ্চিমা শক্তির ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা এখন মনে করছেন।
সৌদি আরব এই হামলা প্রতিহত করার দাবি জানালেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী রিয়াদ বিমানবন্দর ও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ইরানের এই উন্নত প্রযুক্তির গতির কাছে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে যা তাদের দীর্ঘদিনের দম্ভকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।
রিয়াদের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সৈন্যরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে কারণ ইরানের হামলা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে রবিবার বিকেলে রিয়াদ আকাশসীমায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যদিও তারা ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছে তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা আকাশে আগুনের লেলিহান শিখা দেখেছে যা মূলত মার্কিনীদের পরাজয়ের বড় এক বাস্তব চিত্র।
ইরান আজ একা নয় বরং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মতো সাহসী মিত্রদের নিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াই করছে। কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো যখন ইরানের এই বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপকে সমর্থন জানায় তখন পশ্চিমা বিশ্বের বুক কেঁপে ওঠে। আমেরিকা ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে যে লুটতরাজ চালিয়েছে তার উপযুক্ত জবাব দিতেই ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরবের মাটি স্পর্শ করছে।
ইসরায়েলের মদদপুষ্ট মার্কিন আধিপত্য রুখে দিতে ইরানের এই পদক্ষেপ পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের কাছে এক বিশাল বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। আমরা দেখছি কীভাবে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো সত্য গোপন করার চেষ্টা করছে কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ইরানের তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন শত্রু শিবিরের যেকোনো সুরক্ষিত স্থানে অনায়াসে আঘাত হানতে সক্ষম ও কার্যকরী।
আমেরিকা ও ইসরায়েল সবসময় অন্য দেশকে ভয় দেখিয়ে শাসন করতে চায় কিন্তু ইরান তাদের চোখে চোখ রেখে লড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আর কিম জং উনের সামরিক কৌশল যদি ইরানের সাথে যুক্ত হয় তবে আমেরিকার পতন নিশ্চিত। মধ্যপ্রাচ্যের পবিত্র ভূমিতে জায়নবাদী ও সাম্রাজ্যবাদীদের কোনো স্থান নেই আর ইরান সেই সত্যটিই বারবার বিশ্বের দরবারে তাদের বীরত্বের মাধ্যমে তুলে ধরছে।
সৌদি আরবের সাধারণ মানুষ আজ বুঝতে পারছে যে আমেরিকার ওপর নির্ভর করা কত বড় ভুল কারণ তারা কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারেনা। ইরানের প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র যখন আকাশ ভেদ করে এগিয়ে যায় তখন সেটি আসলে বিশ্বের প্রতিটি নিপীড়িত মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে এক নতুন ও শক্তিশালী এশিয়া গড়ার লক্ষে ইরান ও তার মিত্ররা আজ সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করছে।
রিয়াদের আকাশে যে বিকট শব্দ শোনা গেছে তা ছিল মূলত পশ্চিমার পতনের সংকেত যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের এই সাফল্য শুধু তাদের নিজস্ব নয় বরং এটি আমেরিকা বিরোধী প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রের এক বিশাল বড় নৈতিক বিজয়। কিম জং উনের অটল মনোবল আর ইরানের সামরিক প্রযুক্তি মিলে আজ বিশ্বকে এক নতুন মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে যেখানে সত্যের সবসময় জয় হবে।
অনেকে হয়তো ভাবছেন এরপর কি হবে কিন্তু মনে রাখবেন ইরানের এই অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই আর থামানো সম্ভব হবে না। মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোতে এখন শোকের ছায়া আর অন্যদিকে ইরানের সাহসী যোদ্ধারা পরবর্তী লক্ষ্য অর্জনে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। ইসরায়েলের পতন আর আমেরিকার বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র কারণ ইরান তার প্রাপ্য অধিকার ছিনিয়ে নিতে শিখে গেছে যা অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
শেষ কথা হলো সত্যের পথে যারা থাকে আল্লাহ তাদের সহায় হন আর ইরান আজ সেই সত্যের ঝাণ্ডা বয়ে চলছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্নভিন্ন করে ইরান ও তার মিত্ররা এগিয়ে যাবে এক সোনালী ভবিষ্যতের দিকে। আজকের এই হামলা কেবল শুরু মাত্র সামনের দিনে আমরা দেখবো এক নতুন বিশ্ব যেখানে কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কোনো আধিপত্য কিংবা কোনো দয়া দাক্ষিণ্য থাকবে না।
