আপনি কি কল্পনা করতে পারেন, যার একটি ইশারায় মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে যায়, সেই আয়াতুল্লাহ আল খামেনির চারপাশে এখন ঘুরছে মৃত্যুর ছায়া? কিন্তু এই আঘাত কি বাইরে থেকে আসছে, নাকি ইরানের অতি বিশ্বস্ত কোনো আপনজনই আজ বেইমানির বিষ ছড়াচ্ছে? আজকের ভিডিওতে আমরা উন্মোচন করবো সেই ভয়ংকর সত্য যা ইসরায়েল এবং আমেরিকা ধামাচাপা দিতে চাইছে।
কথায় আছে, ঘরের শত্রু বিভীষণ হলে বাইরের শত্রুর আর কষ্ট করতে হয় না। বর্তমানে ইরানের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনির ক্ষেত্রেও কি একই ঘটনা ঘটছে? ইরানের সুরক্ষিত দুর্গে হানা দেওয়ার ক্ষমতা কি সত্যিই ইসরায়েল বা আমেরিকার আছে? নাকি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অর্থের লালসা দেখিয়ে ইরানের ভেতর থেকেই কাউকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে যা এখন বড় আতঙ্কের কারণ।
আজকের এই সংকট কোনো সাধারণ হামলা নয় বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত তথ্যযুদ্ধ। খামেনির মতো একজন ইস্পাত কঠিন নেতার অবস্থান বা বৈঠকের গোপন তথ্য বের করা মোসাদের পক্ষে অসম্ভব। তাহলে কি খামেনির খুব কাছের কোনো বেইমান এই তথ্যগুলো পাচার করছে? যারা জানে কখন এবং কোথায় ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা একত্রিত হবেন। এই বিশ্বাসঘাতকতার গন্ধ আজ তেহরানের আকাশে বাতাসে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সাম্প্রতিক সময়ের বড় হামলাগুলোর দিকে তাকালে আপনি এক অদ্ভুত এবং রহস্যময় প্যাটার্ন দেখতে পাবেন। প্রতিটি বড় অপারেশনে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব শহীদ হলেও একজন ব্যক্তি বারবার অলৌকিকভাবে বেঁচে যাচ্ছেন। তিনি হলেন কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি। এটা কি স্রেফ ভাগ্য নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর ক্যালকুলেশন? কেন বারবার তিনি রক্ষা পাচ্ছেন আর বাকিরা হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন?
লেবাননের মহান নেতা হাসান নাসরাল্লাহ যখন শহীদ হলেন, তখন ইসমাইল কানি কোথায় ছিলেন? বারো দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে যেখানে ইরানের সামরিক শক্তিতে আঘাত হানা হলো, সেখানে কানিতে কেন স্পর্শ করা হলো না? খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার সময়ও তার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি অক্ষত রয়ে গেলেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, বারবার অক্ষত থাকা কখনোই কাকতালীয় হতে পারে না বরং এটি বড় ইঙ্গিত।
ইরান আজ যে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছে, সেই আমেরিকা এবং ইসরায়েল সরাসরি লড়তে ভয় পায়। তাই তারা ভেতরের মানুষকে কেনা বা ব্ল্যাকমেইল করার নোংরা খেলায় মেতে ওঠে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভেতর ফাটল ধরানোই এখন জায়নিস্টদের প্রধান লক্ষ্য। যদি ইসমাইল কানি বা অন্য কেউ এই জালে পা দিয়ে থাকেন, তবে সেটা হবে মুসলিম বিশ্বের চরম দুর্ভাগ্য।
খামেনির নিরাপত্তা বলয় পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত কিন্তু বেইমানি এমন এক বিষ যা যেকোনো দেয়াল ভেঙে দিতে পারে। ইরানের ভেতরে কি এখন নিঃশব্দে ক্ষমতার কোনো পুনর্বিন্যাস চলছে? আমেরিকা চাচ্ছে ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নষ্ট করে দিতে যেন তারা সহজেই পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানতে পারে। এই অদৃশ্য যুদ্ধের খেলোয়াড়দের চিনে রাখা আজ প্রতিটি স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
জায়নিস্টরা মনে করছে ইরানকে ভেতর থেকে দুর্বল করলেই তারা ফিলিস্তিন ও লেবাননকে গিলে খাবে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ইরান কোনো সাধারণ রাষ্ট্র নয় বরং এটি প্রতিরোধের এক অবিনাশী শক্তি। যদি কোনো নেটওয়ার্ক বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে খামেনিকে বিপদে ফেলতে চায়, তবে তেহরানের মাটি তাদের জন্য কবরস্থান হয়ে যাবে। বেইমানদের ক্ষমা নেই, তা সে যত বড় পদের অধিকারীই হোক না কেন ইতিহাস সাক্ষী।
শেষে বলা যায়, পশ্চিমা মিডিয়া ইসমাইল কানিকে নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করে ইরানের মনোবল ভাঙতে চায়। হতে পারে এটি ইসরায়েলের একটি সাইকোলজিক্যাল গেম যা ইরানের বিশ্বস্ত কমান্ডারদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করার অপকৌশল। খামেনি আজও অজেয় এবং তার নেতৃত্বেই ইনশাআল্লাহ্ ইসরায়েল নামক অবৈধ রাষ্ট্রটি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। আমাদের ঐক্যই হবে সাম্রাজ্যবাদীদের পতনের শেষ পেরেক যা বিশ্ব শীঘ্রই দেখতে পাবে।
