বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো- অর্থাৎ, বাইরে থেকে যতই শক্তিশালী মনে হোক না কেন, অন্যায়ের ভিত সব সময় নড়বড়ে থাকে। ঠিক যেমনটা দেখা যাচ্ছে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি আস্ফালনের ক্ষেত্রে। রাতের অন্ধকারে চোরের মতো ইরানের আকাশসীমায় হানা দিল আমেরিকার বি-টু স্পিরিট বোমারু বিমান। লক্ষ্য? ইরানের অজেয় 'মিসাইল সিটি' বা ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র গুহা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অত্যাধুনিক এই মারণাস্ত্র কি পারবে ইরানের ইমানি শক্তি আর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে স্তব্ধ করে দিতে? নাকি এটি কেবলই পরাজয়ের আগে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের শেষ মরণকামড়? আজ আমরা উন্মোচন করব এই আকাশযুদ্ধের নেপথ্যের সত্য।
আমেরিকার মিসৌরি থেকে উড়ে আসা বি-টু স্পিরিট স্টেলথ বোম্বারগুলো যখন ইরানের শান্ত আকাশে হানাদারি চালাচ্ছিল, তখন পুরো বিশ্ব অবাক হয়ে দেখছিল এক নির্লজ্জ আগ্রাসন। এই বিমানগুলো কয়েক হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে শুধুমাত্র ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় ইরানের মাটির নিচের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। ইরান সবসময়ই তার আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রেখেছে, যা পশ্চিমাদের মাথাব্যথার কারণ।
আপনারা জানেন, ইরান বছরের পর বছর ধরে পাহাড়ি গুহার গভীরে তৈরি করেছে বিশাল এক ক্ষেপণাস্ত্রের শহর। সেখানে থরে থরে সাজানো রয়েছে এমন সব ব্যালেস্টিক মিসাইল, যা নিমিষেই তেল আবিবকে ছাই করে দিতে পারে। আমেরিকা এই স্থাপনাগুলোকে ভয় পায় বলেই রাতের অন্ধকারে স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এই গুহাগুলো ধ্বংস করা কি এতই সহজ? মোটেই না।
মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, একটি বি-টু বিমান ৮০টি জেডিএএম (JDAM) বোমা বহন করতে পারে। তারা প্রচার করছে যে, এই হামলার মাধ্যমে তারা ইরানের মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো সিল করে দিয়েছে। কিন্তু সত্য হলো, ইরান তার প্রযুক্তিকে এমন স্তরে নিয়ে গেছে যেখানে একটি প্রবেশপথ বন্ধ করলে আরও দশটি পথ খুলে যায়। পশ্চিমাদের এই হামলা কেবল তাদের অসহায়ত্বের বহিঃপ্রকাশ।
কেন এই হামলা? কারণ ইরান যখনই ইসরায়েলের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, তখনই আমেরিকা তার রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়। আমেরিকা এখন তার 'সিলভার বুলেট' খ্যাত স্টেলথ বোম্বার ব্যবহার করছে কারণ তারা জানে, সাধারণ যুদ্ধবিমান ইরানের উন্নত রাডার ব্যবস্থায় ধরা পড়ে যাবে। এটি মূলত ইসরায়েলের ভীরুতার প্রমাণ, যারা সরাসরি ইরানের মুখোমুখি হতে ভয় পায় এবং আমেরিকার সাহায্য চায়।
লক্ষ্য করুন, বি-টু বিমানগুলো আমেরিকা থেকে সরাসরি উড়াল দিয়েছে কারণ ব্রিটেন প্রথমে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। তবে চাপের মুখে তারা নতি স্বীকার করেছে। হাস্যকর বিষয় হলো, হামলার পর চারটি বি-টু বিমান আবহাওয়া এবং যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে টেক্সাসে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। যা প্রমাণ করে, তাদের প্রযুক্তিও প্রকৃতির এবং পরিস্থিতির কাছে কতটা অসহায় ও দুর্বল।
পেন্টাগন যতই দাবি করুক যে তারা মাটির গভীরের গুহা ধ্বংস করেছে, ইরানের মনোবল তারা ভাঙতে পারবে না। ইরানের প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র এক একটি প্রতিবাদের ভাষা। আমেরিকা এবং ইসরায়েল এই অঞ্চলে যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে চাইলেও, তেহরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর। প্রতিটি হামলার পর ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে, যা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।
ইতিহাস সাক্ষী আছে, যারাই অন্যের ওপর অন্যায়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছে, তাদের পতন অনিবার্য। ইরানের মিসাইল গুহাগুলো কেবল কংক্রিটের কাঠামো নয়, বরং এটি একটি স্বাধীন জাতির আত্মমর্যাদার প্রতীক। আমেরিকা এবং ইসরায়েল যতই অত্যাধুনিক বোমা ব্যবহার করুক, সত্যের জয় হবেই। আজকের এই আগ্রাসন কেবল মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমী শক্তির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার কাজ করছে।
আপনারা কী মনে করেন? আমেরিকার এই কাপুরুষোচিত হামলা কি পারবে ইরানের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে? নাকি এই যুদ্ধই হবে আমেরিকার আধিপত্যের শেষ অধ্যায়? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান।
