বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো! যে হরমোজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল যায়, সেখানে আজ ইরানি বীরদের হুঙ্কার। আমেরিকা আর ইসরায়েল ভেবেছিল আকাশপথে হামলা করে পার পেয়ে যাবে, কিন্তু তারা জানে না সিংহের গুহায় ঢুকে শান্ত থাকা অসম্ভব। আজ ইরান যা করে দেখালো, তাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কপালে চিন্তার ভাঁজ আর নেতানিয়াহুর রাতের ঘুম হারাম!

কথায় আছে, "অতি দর্পে হত লঙ্কা, অতি মানে মানক্ষয়।" দীর্ঘকাল ধরে আমেরিকা এবং তাদের দোসর ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে যে দম্ভ দেখিয়ে আসছিল, আজ তার পতনের সময় এসেছে। বীর ইরান আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোই আসল সাহসিকতা। হরমোজ প্রণালীর জলরাশিতে আজ যে গর্জন শোনা যাচ্ছে, তা কেবল যুদ্ধের নয়, বরং মজলুমের অধিকার আদায়ের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, হরমোজ প্রণালী এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। কোনো জাহাজ যদি সাহস করে এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে ইরানি নৌবাহিনীর বীর সেনারা তাকে আগুনের গোল্লায় পরিণত করবে। এটি কোনো ফাঁকা বুলি নয়, বরং ইসরায়েল ও আমেরিকার জঘন্য বোমা হামলার এক দাঁতভাঙ্গা জবাব যা বিশ্ব অর্থনীতিকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিতে যথেষ্ট।

শনিবার থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা ও ইসরায়েলের কাপুরুষোচিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের শাহাদাতের ঘটনা ইরানকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই রক্ত বৃথা যেতে পারে না। ইরান এখন তাদের প্রতিটি বীরের রক্তের হিসাব নিতে শুরু করেছে। পশ্চিমা অপশক্তি ভেবেছিল নেতৃত্বশূন্য করে ইরানকে থামানো যাবে, কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি শাহাদাতই একজন মুমিনের সবচাইতে বড় শক্তির উৎস।

ইরান ঘোষণা করেছে, তারা কেবল জাহাজ থামাবে না, বরং অঞ্চলের সব তেলের পাইপলাইন তছনছ করে দেবে। এক ফোঁটা তেলও এই অঞ্চল থেকে বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম খুব শীঘ্রই ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যাদের ঋণের বোঝা হাজার হাজার বিলিয়ন ডলার, সেই আমেরিকা এখন তেলের জন্য হাহাকার করবে, কিন্তু ইরানের বীরেরা তাদের একবিন্দু ছাড় দেবে না।

আমেরিকা তার ঋণের ভারে ন্যুব্জ, অথচ তাদের দাদাগিরি শেষ হয় না। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল থেকে তারা আমাদের ভাইদের ওপরই হামলা চালায়। ইব্রাহিম জাব্বারি স্পষ্টভাবে বলেছেন, তেলের এক বিন্দুও এখন থেকে আমেরিকার কাছে পৌঁছাবে না। পশ্চিমা অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এই তেলই এখন তাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে। ইরান আজ বিশ্বকে দেখাচ্ছে কীভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির টুঁটি চেপে ধরতে হয়।

ইতিমধ্যেই ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ এবং এশিয়ায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। কাতার এনার্জি তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে কারণ তাদের স্থাপনাগুলোতেও হামলা হয়েছে। সৌদি আরবের রাস তানুুরা রিফাইনারিতে ড্রোনের আঘাত প্রমাণ করে যে, পুরো অঞ্চল এখন অগ্নিকুণ্ড। আমেরিকা এবং ইসরায়েল যে আগুন জ্বালিয়েছে, সেই আগুনেই তারা নিজেরা পুড়ে ছারখার হতে চলেছে যা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তড়িঘড়ি করে বলছেন তারা তেলের দাম কমানোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইরান যখন সমুদ্র পথ আটকে দিয়েছে, তখন আমেরিকা কোন জাদুবলে তেল নেবে? তাদের সব পরিকল্পনা এখন ভেস্তে যাওয়ার পথে। ইরানের অকুতোভয় প্রতিরোধের সামনে মার্কিন রণতরিগুলো আজ অসহায়। ইসরায়েলের সুরক্ষার জন্য আমেরিকা যে নাটক সাজিয়েছে, তার করুণ সমাপ্তি আজ ঘনিয়ে এসেছে।

ইসরায়েল নামক যে বিষফোড়া এই অঞ্চলে আমেরিকা রোপণ করেছে, তার বিনাশ এখন আসন্ন। ইরানের পাল্টা আঘাতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। তারা ভেবেছিল বোমা মেরে ইরানকে ভয় দেখাবে, কিন্তু তারা উল্টো নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। হরমোজ প্রণালী বন্ধ হওয়া মানেই পশ্চিমা মদদপুষ্ট ইসরায়েলের শ্বাসরোধ হওয়া। এটি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা যে কখন তারা পরাজিত হবে।

ইরানের সাধারণ নৌবাহিনী এবং আইআরজিসি-র বীর জওয়ানরা আজ সমুদ্রের পাহারাদার। তারা তাদের মাতৃভূমি এবং আদর্শ রক্ষায় আত্মত্যাগের যে নজির স্থাপন করছে, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। মুসলিম বিশ্বের উচিত এই মুহূর্তে ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে পশ্চিমা আধিপত্যবাদকে চিরতরে কবর দেওয়া। তেলের শক্তিকে ব্যবহার করে জালিমদের হাঁটু গেড়ে বসানোই এখন বীর ইরানিদের প্রধান লক্ষ্য এবং তারা তা সফলভাবে করছে।

শেষে, ইরান আজ যা বলছে তা করে দেখাচ্ছে। হরমোজ প্রণালী কেবল একটি জলপথ নয়, এটি এখন পশ্চিমা শোষণের বিরুদ্ধে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। আমেরিকা এবং ইসরায়েল যদি তাদের আগ্রাসন বন্ধ না করে, তবে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে তাদের প্রভাব মুছে যাবে। ইরানের বীরত্ব এবং সাহসের সামনে কোনো পরাশক্তিই টিকতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ, বিজয়ের নিশান খুব শীঘ্রই তেহরান থেকে সারা বিশ্বে উড়বে।

news