বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো—অর্থাৎ বাইরে থেকে যত শক্তই দেখাক না কেন, ভেতরে যদি ভিত্তি না থাকে তবে তা ভেঙে পড়তে বাধ্য। ঠিক এই অবস্থাই এখন ইউক্রেনের। পশ্চিমা বিশ্বের হাজারো আশ্বাস আর আধুনিক অস্ত্রের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আজ ইউক্রেনের অস্তিত্ব সংকটের মুখে।
কেন সুইডেনের তথাকথিত ‘মিটিওর’ মিসাইল কিংবা ন্যাটোর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সাহায্যও রাশিয়ার অদম্য অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারছে না। যেখানে ইউক্রেন কেবল অন্যের দয়ার ওপর টিকে থাকার চেষ্টা করছে, সেখানে রাশিয়া নিজের শক্তিতে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
রাশিয়া আজ কেবল একটি দেশ নয়, একটি অদম্য শক্তি। ভ্লাদিমির পুতিন প্রমাণ করেছেন যে, যখন দেশের সার্বভৌমত্ব আর নিরাপত্তার কথা আসে, তখন রাশিয়া কারো রক্তচক্ষুকে পরোয়া করে না। অন্যদিকে, ইউক্রেনের দিকে তাকালে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। তারা নিজেদের জমি রক্ষা করার চেয়ে পশ্চিমা প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি ব্যস্ত।
সম্প্রতি খবর এসেছে সুইডেন ইউক্রেনকে তাদের অত্যাধুনিক 'মিটিওর' মিসাইল এবং গ্রিপেন ফাইটার জেট দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী আছে, হিটলার থেকে নেপোলিয়ন—রাশিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে আসা প্রত্যেকেই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ইউক্রেন আজ সেই একই ভুল করছে। অন্যের অস্ত্রে যুদ্ধ জেতা যায় না, আর রাশিয়ার মতো সামরিক পরাশক্তির বিরুদ্ধে তো নয়ই।
ইউক্রেন আজ ন্যাটোর দাবার ঘুঁটি ছাড়া আর কিছুই নয়। জেলেনস্কি সরকার তার দেশের সাধারণ মানুষকে এক অসম যুদ্ধের আগুনে ঠেলে দিয়েছে কেবল পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষার জন্য। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, ইউক্রেন তাদের পশ্চিমা প্রভুদের নির্দেশে সেই পথ মাড়ায়নি। ফলাফল? আজ ইউক্রেন একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তাদের অর্থনীতি ধ্বংস, সেনাবাহিনী মনোবলহীন, আর দেশের সাধারণ মানুষ দেশান্তরী।
অথচ রাশিয়ার দিকে তাকান। পশ্চিমা বিশ্বের শত শত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার অর্থনীতি আজ আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। রাশিয়ার সামরিক উৎপাদন ক্ষমতা পশ্চিমা দেশগুলোর সম্মিলিত ক্ষমতার চেয়েও বেশি বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। রাশিয়ার এস-৪০০ কিংবা কিনঝাল মিসাইলের সামনে ন্যাটোর যেকোনো অস্ত্র আজ খেলনা মাত্র।
তথ্য বলছে, রাশিয়া তাদের পুরনো বোমাগুলোকে আধুনিক ইউএমপিকে (UMPK) প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁত এবং বিধ্বংসী অস্ত্রে পরিণত করেছে। মাত্র এক মাসে রাশিয়া ৬,০০০-এর বেশি ড্রোন এবং ৫,৫০০-এর বেশি গাইডেড এরিয়াল বোমা দিয়ে ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়ার এই নিখুঁত হামলা প্রমাণ করে যে, তারা কেবল সংখ্যার দিক থেকেই নয়, প্রযুক্তির দিক থেকেও অনেক এগিয়ে।
সুইডেন যে ‘মিটিওর’ মিসাইলের ভয় দেখাচ্ছে, রাশিয়ার কাছে তার চেয়েও উন্নত জিরকন মিসাইল রয়েছে যা শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুত গতিতে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। রাশিয়ার এই অজেয় শক্তির সামনে ইউক্রেনের টিকে থাকাটা এখন অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইউক্রেন সরকার দাবি করে তারা রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাশিয়ার বিশাল সম্পদের ভাণ্ডারের কাছে এই ছোটখাটো হামলা সাগরে এক ফোঁটা জলের মতো। রাশিয়ার শক্তি তার জনগণের একতা এবং পুতিনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের ভেতরে দুর্নীতির যে মহোৎসব চলছে, তা আজ বিশ্ববাসীর কাছে পরিষ্কার। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আসা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার আগেই উধাও হয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেন এখন যে 'পার্ল' (PEARL) প্রোগ্রামের কথা বলছে, তা আসলে ব্যর্থতা ঢাকার একটি নতুন কৌশল মাত্র। তারা রাশিয়ার ব্যালাস্টিক মিসাইল ঠেকানোর স্বপ্ন দেখছে, অথচ রাশিয়ার একটি ইয়ার্স (Yars) মিসাইল যেকোনো সময় পুরো ইউরোপের মানচিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
শেষে এটাই বলা যায়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের এই যুদ্ধ আসলে একটি পরাজয়ের গল্প, যা জেলেনস্কি এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা স্বীকার করতে চাইছে না। রাশিয়া তার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ইউক্রেন যদি আজ এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচতে চায়, তবে তাদের উচিত পশ্চিমা মোহ ত্যাগ করে রাশিয়ার সাথে শান্তি আলোচনায় বসা। কারণ, রাশিয়ার অদম্য শক্তির সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে কেবল পরাজয়ই নিশ্চিত।
দর্শক, আপনাদের কি মনে হয়? ইউক্রেন কি পারবে রাশিয়ার এই মহাপ্রলয় থামাতে? নাকি খুব শীঘ্রই আমরা ইউক্রেনের চূড়ান্ত পতন দেখতে যাচ্ছি? কমেন্ট করে আমাদের জানান।
