একটি মাত্র মিসাইল! হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার কিম জং উন বিশ্ব কাঁপানো ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি একবার চায়, তবে এমন অস্ত্র দেওয়া হবে যা পুরো ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে দিতে একাই যথেষ্ট। আমেরিকা আর ইসরায়েলের দাদাগিরি কি তবে এবার শেষ হতে চলেছে? আজকের ভিডিওতে আমরা উন্মোচন করব কিম জং উনের সেই গোপন রণকৌশল যা কাঁপিয়ে দিচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বকে!

কথায় আছে, "অধর্মের পুজি ঝড়ে উড়ে যায়।" অর্থাৎ অন্যায়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সাম্রাজ্য যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সত্যের এক আঘাতেই তা ধুলোয় মিশে যায়। আজ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকালে আমরা সেই দম্ভ আর অহংকারের পতনই দেখতে পাচ্ছি। আমেরিকা ও ইসরায়েলের যে অন্যায্য জোট বছরের পর বছর ধরে নিরীহ মানুষের ওপর জুলুম চালাচ্ছে, তাদের থামিয়ে দিতে এখন বিশ্বমঞ্চে গর্জে উঠেছেন কিম জং উন।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সরাসরি হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পিয়ংইয়ং সব সময় প্রস্তুত। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি ইরান অনুরোধ করে, তবে উত্তর কোরিয়া এমন শক্তিশালী ব্যালেস্টিক মিসাইল সরবরাহ করবে যা জায়নবাদী ইসরায়েলকে এক নিমেষেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে। এই সাহসী বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণকে রাতারাতি বদলে দিয়েছে এবং ওয়াশিংটনের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা ও তার দোসর ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির আগুন জ্বেলে রেখেছে। তারা ভেবেছিল ইরানকে একঘরে করে রাখা সহজ হবে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল যে, সত্যের পক্ষে থাকা দেশগুলো কখনো একা হয় না। কিম জং উনের এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তিগুলো এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ। উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিতে তৈরি মিসাইলগুলো আজ আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে।

কিম জং উন বিশ্বাস করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর একমাত্র উপায় হলো ইসরায়েলের এই ঔদ্ধত্য গুঁড়িয়ে দেওয়া। ইসরায়েল যেভাবে ফিলিস্তিন ও ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তার পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য একটি মাত্র শক্তিশালী পরমাণু সক্ষমতাসম্পন্ন মিসাইলই যথেষ্ট। কিমের এই 'ওয়ান মিসাইল পলিসি' এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় টপ ট্রেন্ডিং। নেটিজেনরা বলছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থানই এখন সময়ের দাবি।

আমেরিকা সবসময়ই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মিথ্যাচার করে আসছে, অথচ তারা নিজেরা আর ইসরায়েল হাজার হাজার বিধ্বংসী অস্ত্র মজুত করে রেখেছে। এই দ্বিচারিতা আর মেনে নেবে না বিশ্ব। উত্তর কোরিয়া পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের ওপর কোনো প্রকার আঁচ আসলে তারা বসে থাকবে না। কিমের মিসাইল ভাণ্ডার এখন তেহরানের জন্য এক শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অনেকেই প্রশ্ন করছেন, কিম জং উন কেন হঠাত এমন কঠোর হলেন? উত্তরটা সহজ। সাম্রাজ্যবাদীরা যখন সীমানা ছাড়িয়ে যায়, তখন তাদের লাগাম টেনে ধরতে হয়। উত্তর কোরিয়া নিজেও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার শিকার, কিন্তু তারা মাথা নত করেনি। একইভাবে ইরানও পশ্চিমা চাপের মুখে বীরত্বের সাথে লড়াই করছে। দুই বীরের এই মিলন এখন ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য সবথেকে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেষে বলা যায়, সত্যের জয় অনিবার্য। ইসরায়েল এবং তাদের মদদদাতা আমেরিকা যদি মনে করে তারা পেশী শক্তি দিয়ে পুরো বিশ্ব শাসন করবে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। কিম জং উনের এক একটি মিসাইল শুধু লোহার টুকরো নয়, বরং তা নিপীড়িত মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ইরান ও উত্তর কোরিয়ার এই জোট কি তবে নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার সূচনা করতে যাচ্ছে?

আপনি কি মনে করেন কিম জং উনের এই হুঁশিয়ারি ইসরায়েলকে থামিয়ে দিতে পারবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

news