যে আগুনের শিখা ট্রাম্প তেহরানে জ্বালিয়েছেন, সেই আগুনে কি এবার পুড়বে খোদ হোয়াইট হাউস? ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলটি কি করে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? মাকড়সার জালে আটকা পড়া শিকারি যেমন ছটফট করে, ট্রাম্পের অবস্থাও কি এখন ঠিক তেমন? আজ উন্মোচিত হবে পর্দার পেছনের সেই ভয়ঙ্কর সত্য!
কথায় আছে, 'পাপ ছাড়ে না বাপকে'। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর যে অন্যায় হামলা চালিয়েছেন, তা শেষ পর্যন্ত তার নিজের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এখন ট্রাম্পের জন্য এক দুর্ভেদ্য মাকড়সার জাল। এই জালে একবার পা দিয়ে ট্রাম্প এখন বের হওয়ার পথ পাচ্ছেন না। সিএনএনের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে আমেরিকার এই চরম পরাজয় ও অনিশ্চয়তার কথা।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি তেহরানের আকাশে যখন কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল, তখন বিশ্ববাসী বুঝতে পেরেছিল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আস্ফালন শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের নির্দেশে এই কাপুরুষোচিত সামরিক অভিযানকে পেন্টাগন নাম দিয়েছে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’। তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ দম্ভ করে বলছেন যুদ্ধ আমেরিকার শর্তে শেষ হবে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, এই দম্ভই একদিন বুশকে আফগানিস্তানের বালুচরে পরাজিত করেছিল।
এই অসম যুদ্ধে ইরানের আধ্যাত্মিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শাহাদাত বরণ করেছেন। তার এই রক্ত বৃথা যাবে না, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দেবে। ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ অপারেশন আসলে একটি আত্মঘাতী জুয়া। তারা ভেবেছিল ইরানকে ধসিয়ে দেবে, কিন্তু বীর ইরানি জাতি এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আসলে আমেরিকার পতনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে।
সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে যার প্রতিটিই আমেরিকার জন্য ভীতিকর। প্রথমত, তারা ভেবেছিল আকাশপথে হামলা করলে ইরানে তথাকথিত গণঅভ্যুত্থান হবে। কিন্তু পশ্চিমা পুতুল সরকার বসানোর সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। ইরানিরা তাদের মাতৃভূমি রক্ষায় এখন জীবন দিতে প্রস্তুত। আমেরিকার কৌশলগত লক্ষ্য এখন কেবল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে মাত্র।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ইরান যদি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে যায় তবে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ধসে পড়বে। মার্কিন প্রশাসন এখন যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে চরম অসংলগ্ন কথা বলছে। কখনো বলছে পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, আবার কখনো বলছে গণতন্ত্রের কথা। আসলে ট্রাম্পের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এই অস্পষ্টতা প্রমাণ করে যে, আমেরিকা এখন অন্ধের মতো অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছে এবং হারছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে কোনো দেশ দখল করা অসম্ভব। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার মডেলে ইরানে পরিবর্তন আনতে চাইলেও তেহরানের ঈমানি শক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী। খামেনির শাহাদাতের পর ইরানে এখন ঘরে ঘরে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। কোনো মধ্যপন্থী নেতা নয়, বরং কট্টর মার্কিন বিরোধী নেতারাই এখন নেতৃত্বের সামনের সারিতে চলে এসেছেন যা আমেরিকার জন্য চরম দুঃসংবাদ।
আমেরিকা দাবি করছে তারা ইরানকে রাশিয়া ও চীনের অক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে। এটি আসলে তাদের হীনমন্যতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ড্রোন সরবরাহ বন্ধের বাহানায় তারা মধ্যপ্রাচ্যে গণহত্যা চালাচ্ছে। কিন্তু হোয়াইট হাউস ভুলে গেছে যে, ইরানের মিত্ররা এখনো সক্রিয়। আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো এখানেও মার্কিন বাহিনীকে লেজ গুটিয়ে পালাতে হবে, এটাই এখন ধ্রুব সত্য।
ইরানি জনগণের মধ্যে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার পশ্চিমা চক্রান্ত পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডস বা বাসিজ বাহিনী এখনো ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা যেকোনো সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত নস্যাৎ করতে সক্ষম। এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হবে আকাশচুম্বী। এতে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ধস নামবে এবং সাধারণ মার্কিনিরাই ট্রাম্পের গদি টেনে নামাবে অচিরেই।
যুদ্ধের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি সস্তা বিজয় পেতে তিনি যে রক্তখেলায় মেতেছেন, তা বুমেরাং হয়ে গেছে। ইরান এই যুদ্ধকে মার্কিন ভূখণ্ড পর্যন্ত টেনে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। পেন্টাগন যাই বলুক না কেন, এই আগুনের লেলিহান শিখা এখন ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকেই জ্বালিয়ে ছাই করে দেওয়ার জন্য ধেয়ে আসছে প্রতিনিয়ত।
ইসরায়েলের উসকানিতে ট্রাম্প যে ফাঁদে পা দিয়েছেন, সেখান থেকে ফেরার আর কোনো পথ নেই। ইরানের প্রতিটি ইটের বদলা পাটকেল দিয়ে নেওয়া হবে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পরাজয় এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইতিহাস সাক্ষী আছে, যারা সত্যের পথে লড়াই করে বিজয় তাদেরই হয়। ট্রাম্পের এই মাকড়সার জালই হবে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মার্কিন কবরস্থান এবং তাদের দম্ভের শেষ।
শেষে বলা যায়, ইরানের ওপর এই হামলা কেবল একটি দেশের ওপর হামলা নয়, এটি ন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্যায়ের যুদ্ধ। কিন্তু প্রতিটি ইরানি নাগরিক এখন এক একজন যোদ্ধা। ট্রাম্পের তথাকথিত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব আজ ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। বিশ্ববাসী দেখছে কিভাবে একটি ছোট কিন্তু সাহসী জাতি পরাশক্তিকে নাস্তানাবুদ করছে। জয় শেষ পর্যন্ত সত্যের হবে এবং মার্কিন আধিপত্যের অবসান ঘটবেই ঘটবে।
