অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।" আজ এমন এক জঘন্য অপরাধ নিয়ে কথা বলছি যা আধুনিক পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কি কেবল একজন ব্যক্তিকে সরিয়েছে? নাকি তারা গোটা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ে আঘাত হেনেছে? খামেনিকে হত্যার এই অবৈধ পথ বেছে নিয়ে পশ্চিমারা আসলে নিজেদের পতনের কবর খুঁড়ছে।
বিশ্বের বুকে আজ এক অন্ধকার অধ্যায় রচিত হলো। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে উন্মাদনা দেখিয়েছে, তা কোনোভাবেই আইনসংগত হতে পারে না। একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে টার্গেট করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। পশ্চিমা বিশ্ব গণতন্ত্রের বুলি আউড়ালেও, তারা মূলত অন্যের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিতেই ওস্তাদ। এই অন্যায় রক্তপাত কখনো বিশ্ববাসী মুখ বুঝে মেনে নেবে না।
যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই কোনো হামলার আগে একগুচ্ছ কুযুক্তি দাঁড় করায়। সাদ্দাম হোসেনের সময় তারা মিথ্যে অস্ত্র ভাণ্ডারের কথা বলেছিল, আর আজ খামেনির ক্ষেত্রে তারা তথাকথিত 'আসন্ন হুমকি'র অজুহাত দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। তারা কেবল ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে ভয় পায়। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে তারা এই নগ্ন হামলায় মেতে উঠেছে যা চরম ঘৃণ্য।
জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী কোনো দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে তার নেতাকে হত্যা করা যুদ্ধাপরাধের শামিল। অথচ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না। তারা মনে করে বিশ্বটা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। খামেনি কোনো সামরিক কমান্ডার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি জাতির আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অভিভাবক। তাকে হত্যা করা মানে সরাসরি ইরানের কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসের ওপর আঘাত হানা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার যুদ্ধবাজ রূপ প্রকাশ করেছেন। তিনি চার সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে শক্তি প্রয়োগের যে হুমকি দিচ্ছেন, তা মূলত বিশ্বকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও সম্পদের ওপর চোখ রেখেই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা চায় ইরানকে পদানত করতে, কিন্তু ইরানের সাহসী সন্তানরা কখনো মাথা নত করেনি এবং ইনশাআল্লাহ করবেও না।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে একটি বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা জানে যে তাদের এই জঘন্য কাজের প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ। ইসরায়েলি ড্রোন হামলা আর মার্কিন ষড়যন্ত্রের কারণে আজ বাহরাইন থেকে সৌদি আরব—পুরো অঞ্চল আজ এক আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এর জন্য একমাত্র দায়ী পশ্চিমা শক্তির আগ্রাসন।
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের নেতার রক্তের প্রতিটি ফোঁটার হিসাব নেবে। ইরান একটি প্রাচীন সভ্যতা এবং বীরের জাতি। তারা কোনো আলোচনায় বসার আগে নিজেদের সম্মান ও প্রতিশোধের কথা ভাবছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞাও তাদের দমাতে পারেনি। খামেনির শাহাদাত বরণ ইরানকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে। এখন দেখার বিষয়, পশ্চিমারা এই মহাপ্রলয় থেকে নিজেদের কীভাবে রক্ষা করবে।
এই অযৌক্তিক যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ হওয়ার পথে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নোংরা রাজনীতির বলি হচ্ছে সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষ। তেলের সরবরাহ লাইনে হামলার হুমকি দিয়ে ইরান কেবল তাদের অধিকার রক্ষায় লড়াই করছে। পশ্চিমা শক্তির ধ্বংসাত্মক নীতিই আজ পুরো বিশ্বকে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
শেষে বলতে চাই, সত্যের জয় অনিবার্য। খামেনির মতো একজন মহান নেতাকে হারিয়ে ইরান আজ শোকাতুর হলেও তারা দুর্বল নয়। ইসরায়েলের বর্বরতা আর আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী লালসা খুব শীঘ্রই শেষ হবে। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যারা অন্যায়ভাবে রক্ত ঝরায়, তাদের পতন হয় অত্যন্ত করুণভাবে। আমাদের সবাইকে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং ইরানের পাশে দাঁড়াতে হবে।
দর্শক, খামেনিকে হত্যার এই ষড়যন্ত্র কি সফল হবে? নাকি এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
